Facebook Pixel

রহিম বললো, "বিপ্লবের মতো হেলালের কথা বলার ভঙ্গি, পোশাক পরার ধরন ও হাটাচলার ধরন একই। সুতরাং বিপ্লবের মতো হেলালও বুদ্ধিমান।" ক. অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি কী? খ. দ্বিকোটিক বিভাগ একটি আকারগত প্রক্রিয়া কেন? গ. রহিমের বক্তব্য তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ঘ. রহিমের বক্তব্যে উল্লেখিত বিষয়ের সাথে অবৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

উৎস: Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কোনো পদের সংজ্ঞায় আংশিক জাত্যর্থ উল্লেখ করা হলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি বলে। খ. দ্বিকোটিক বিভাগ প্রক্রিয়া একটি নির্ভুল আকারগত বিভাগ প্রক্রিয়া। দ্বিকোটিক বিভাগে একটি জাতিকে তার অন্তর্গত দুইটি বিরুদ্ধ উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়। এখানে পদের বিভক্তকরণে কোনো বাস্তব গুণ বা নিয়মের প্রয়োজন হয় না। শুধু মূল পদকে সদর্থক ও নঞর্থক পদে বিভক্ত করা হয়। এ কারণে দ্বিকোটিক বিভাগকে একটি আকারগত প্রক্রিয়া বলা হয়। গ. রহিমের বক্তব্য সাদৃশ্যানুমানকে ইঙ্গিত করে। দুটি বস্তু বা ঘটনার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করে যদি অনুমান করা হয় যে, তাদের একটি বিশেষ কোনো গুণের অধিকারী হলে অন্যটিও ঐ গুণের অধিকারী হবে- এরূপ অনুমান প্রক্রিয়াকে সাদৃশ্যানুমান বলে। যেমনঃ পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য আছে। অর্থাৎ উভয় গ্রহে মাটি, পানি, বায়ু ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া আছে। পৃথিবীতে জীব বাস করে। অতএব, মঙ্গল গ্রহেও জীব বাস করে। এভাবে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তু বা ঘটনার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য দেখানো হয়। তারপর যদি দেখা যায় যে, তাদের একটির মধ্যে কোনো বিশেষ গুণ বিদ্যমান থাকে তাহলে অনুমান করা হয় ঐ গুণটি অপরটিতেও বিদ্যমান থাকে। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় রহিম বলে, 'বিপ্লবের মতো হেলালের কথা বলার ভঙ্গি, পোশাক পরার ধরন হাটাচলার ধরন একই। সুতরাং বিপ্লবের মতো হেলালও বুদ্ধিমান।' অর্থাৎ সে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে তার বক্তব্য সাদৃশ্যানুমানের সাথে সঙ্ঙ্গতিপূর্ণ। ঘ. রহিমের বক্তব্যে উল্লিখিত সাদৃশ্যানুমানের সাথে অবৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো- সাদৃশ্যানুমানে দুটি বিষয় বা বস্তুর মধ্যে কতিপয় বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ সাদৃশ্যানুমান হলো বিশেষ থেকে বিশেষে যাওয়ার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে কতিপয় বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো বিশেষ থেকে সার্বিকে যাওয়ার প্রক্রিয়া। অবৈজ্ঞানিক আরোহে শুধু অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ আরোহের সিদ্ধান্ত সব সময় সার্বিক হয়ে থাকে। অন্যদিকে, সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং এ আরোহের সিদ্ধান্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষ হয়। অবৈজ্ঞানিক আরোহের সম্ভাব্যতা নির্ণয়ের এমন কোনো সূত্র নেই যার মাধ্যমে আমরা গাণিতিকভাবে এ আরোহের মূল্য বুঝতে পারি। অন্যদিকে, সাদৃশ্যানুমানের মূল্য পরিমাপের জন্য যুক্তিবিদগণ গাণিতিক সূত্র প্রণয়ন করেছেন। এ সূত্র প্রয়োগ করে আমরা গাণিতিকভাবে সাদৃশ্যানুমানের মূল্য নিরূপণ করতে পারি। পরিশেষে বলা যায় যে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে সাদৃশ্যানুমানের বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। কেননা অবৈজ্ঞানিক আরোহের ভিত্তি সদর্থক দৃষ্টান্তের অবাধ অভিজ্ঞতা। আর সাদৃশ্যানুমানের ভিত্তি সাদৃশ্য। তাই এ দুই প্রকার আরোহ একে অপরের থেকে পৃথক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)

রহিম বললো, "বিপ্লবের মতো হেলালের কথা বলার ভঙ্গি, পোশাক পরার ধরন ও হাটাচলার ধরন একই। সুতরাং বিপ্লবের মতো হেলালও বুদ্ধিমান।"

ক.

অতিব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি কী?

খ.

দ্বিকোটিক বিভাগ একটি আকারগত প্রক্রিয়া কেন?

গ.

রহিমের বক্তব্য তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? 

ঘ.

রহিমের বক্তব্যে উল্লেখিত বিষয়ের সাথে অবৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।