Facebook Pixel

রিমি কলেজে যাওয়া-আসার পথে পাড়ার বখাটে ছেলে সনির নজরে পড়ে। সনি প্রায়শই রিমিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সে সাড়া দেয় না। বারবার প্রস্তাব আসে, প্রতিবারই প্রত্যাখ্যাত হয়। একসময় ছেলেটি ধৈর্য হারিয়ে মেয়েটির সাথে প্রকাশ্যে অশোভন আচরণ করে। এ কারণে সামাজিকভাবে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সে এর প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকে। এক রাতে ঘুমিয়ে থাকা রিমির মুখে ছেলেটি এসিড নিক্ষেপ করে। এতে রিমি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আর তার সাথে ঘুমিয়ে থাকা ছোট বোনের চোখসহ অন্যান্য অঙ্গ নষ্ট হয়। ক. বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন কত সালে প্রণীত হয়? খ. ১৯৬১ সালে প্রণীত মুসলিম পারিবারিক আইনের তাৎপর্য লেখ। গ. সনির বিচার কোন আইনের কোন ধারায় হওয়া উচিত বলে মনে কর? ধারাটি ব্যাখ্যা কর। ঘ. এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে আইনটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজকর্ম ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ সামাজিক আইন ও সমাজকর্ম

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০ সালে পাস হয়। খ. বিবাহ, রেজিস্ট্রি, তালাক ও বিবাহ বিচ্ছেদ, খোরপোশ ও দেনমোহর, বহুবিবাহ, উত্তরাধিকারসহ নারী অধিকার ও কল্যাণ বিষয়ক আরও কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আইন অবহেলিত নারী সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাপক নিরাপত্তা লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এ আইনে ছেলেমেয়েদের বিবাহের বয়স ধার্য করে বাল্যবিবাহ, স্বামীর ইচ্ছামতো স্ত্রী ত্যাগ ও গ্রহণ করার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বহুবিবাহ এবং পারিবারিক ভাঙনকে রোধ করে সুস্থ সমাজ জীবনরক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী যাতে লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়ে দেনমোহর ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য এ আইনে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নারী সমাজের নিরাপত্তা লাভের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই বলা যায়, নারী সমাজের অধিকার রক্ষায় ও স্বার্থ সংরক্ষণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গ. সনির বিচার ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ আইন। এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে- ১. যদি কোনো ব্যক্তি দহনকারী বা ক্ষয়কারী পদার্থ দ্বারা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটায় বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। ২. একই কারণে যদি কোনো শিশু বা নারীর দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি নষ্ট, যৌনাঙ্গ বা স্তনের বিকৃতি ঘটে সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়া শরীরের অন্যকোনো অঙ্গহানি বিকৃতি বা নষ্ট হলে চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। ৩. যদি কোনো ব্যক্তি দহনকারী বা ক্ষয়কারী পদার্থ নারী ও শিশুর ওপর নিক্ষেপ করে তাতে কোনো ক্ষতি না হলেও অনধিক সাত বছর এবং অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব ৫ লক্ষ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। উদ্দীপকে সনির এসিড নিক্ষেপের কারণে যেহেতু রিমির মৃত্যু ঘটে; তাই এর বিচারে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। সাথে সাথে রিমির ছোট বোনের যেহেতু দৃষ্টিশক্তিসহ অন্যান্য অঙ্গ নষ্ট হয়েছে, তাই এর বিচারেও মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ আইন ২০০৩ কার্যকর একটি পদক্ষেপ। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পূর্ববর্তী পদক্ষেপ বা আইনগুলোর তুলনায় এ আইনটি যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। এ আইনে নারী ও শিশুর সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে অপরাধীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন কমে যাবে এবং তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আবার এ আইনে নারী ও শিশুর সার্বিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। এতে তাদের সমস্যাসমূহ উত্তমরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নারী ও শিশুসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যেমন- বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা সংঘটিত অপরাধ, পাচার, অপহরণ, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, যৌতুক, ভিক্ষাবৃত্তিতে শিশু নিয়োগ, অঙ্গহানি প্রভৃতি। এছাড়াও এ আইনে অপরাধে সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান এক উল্লেখযোগ্য দিক। তাছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্মলাভকারী শিশুর হেফাজত ও ভরণপোষণে ধর্ষণকারীকে বাধ্য করা হয়েছে। ফলে ধর্ষিতার গ্লানি অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতা নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বাধানিষেধ রাখা হয়েছে। অতএব দেখা যাচ্ছে, নারী নির্যাতনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ আইন ২০০৩ বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রিমি কলেজে যাওয়া-আসার পথে পাড়ার বখাটে ছেলে সনির নজরে পড়ে। সনি প্রায়শই রিমিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সে সাড়া দেয় না। বারবার প্রস্তাব আসে, প্রতিবারই প্রত্যাখ্যাত হয়। একসময় ছেলেটি ধৈর্য হারিয়ে মেয়েটির সাথে প্রকাশ্যে অশোভন আচরণ করে। এ কারণে সামাজিকভাবে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সে এর প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকে। এক রাতে ঘুমিয়ে থাকা রিমির মুখে ছেলেটি এসিড নিক্ষেপ করে। এতে রিমি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আর তার সাথে ঘুমিয়ে থাকা ছোট বোনের চোখসহ অন্যান্য অঙ্গ নষ্ট হয়।

ক.

বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন কত সালে প্রণীত হয়?

খ.

১৯৬১ সালে প্রণীত মুসলিম পারিবারিক আইনের তাৎপর্য লেখ।

গ.

সনির বিচার কোন আইনের কোন ধারায় হওয়া উচিত বলে মনে কর? ধারাটি ব্যাখ্যা কর। 

ঘ.

এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে আইনটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Legislation অর্থ হলো-

Problem শব্দের উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে?

RSS কত সালে চালু হয়

Social Problem-এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?

'T' একটি সামাজিক আইন। এটি নারী ও শিশু কল্যাণমূলক আইন। আইনটির আরও কতিপয় ধারা রয়েছে। যেমন- উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, বহুবিব...

ক. আইন কী? খ. সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ...

ক. আইন কী? খ. সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন সামাজিক ধারাকে ইঙ্গিত করা হয়ে...

'Legislation' শব্দটির অর্থ কী?

পারিবারিক আদালত কোন আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়?

'textM' একটি সামাজিক আইন। এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো দেনমোহর, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি। ক. আইন ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।