Facebook Pixel

রমেশ যে দেশে বসবাস করত , সে দেশটি সামাজিক ক্ষেত্রে নানা বর্ণে ও শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনৈক্য ছিল আরও প্রকট। এ পরিস্থিতির সুযোগে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাম্রাজ্যবাদী শাসক তার একজন তরুণ সেনাপতির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে দেশটি করায়ত্ত করেন। কিন্তু সেখানে বিজয়ী শক্তির দীর্ঘস্থায়ী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিজয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী। ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন ? খ. ভারতবর্ষকে ‘ নৃ - তত্ত্বের জাদুঘর ' বলা হয় কেন ? গ. উদ্দীপকের সেনাপতির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন সেনাপতির মিল খুঁজে পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকের ফলাফল উক্ত সেনাপতির বিজয়ের ফলাফলের আংশিক প্রতিফলন — মন্তব্য করো ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সুলতান মাহমুদ গজনি রাজবংশের শাসক ছিলেন। খ. ভারতবর্ষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্ম - বর্ণের মানুষ বসবাস করায় এটিকে ' নৃতত্ত্বের জাদুঘর ' বলা হয় । আদিবাসীর পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বহু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছে। প্রাচীনকালে আর্য , দ্রাবিড় , পারসিক , গ্রিক , শক , কুষাণ , হুন এবং মধ্যযুগে আরব , তুর্কি , আফগান , মুঘল প্রভৃতি জাতি এদেশে এসেছে। এছাড়া আধুনিক যুগে পর্তুগিজ , ইংরেজ , ফরাসি প্রভৃতি ইউরোপীয় বণিকগোষ্ঠীর আগমনের ফলে ভারতবর্ষ বহু জাতিগোষ্ঠীর মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ কারণে ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে ' নৃতত্ত্বের জাদুঘর ' বলে অভিহিত করেছেন। গ. উদ্দীপকের সেনাপতির সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের মিল খুঁজে পাওয়া যায় । মুসলমানদের আগমনের আগে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল। এ সময়ে ভারতের শাসকদের মধ্যে নানা দ্বন্দ্বসংঘাত ও অনৈক্য বিদ্যমান ছিল। তাদের এ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে আরবরা ভারত উপমহাদেশের সিন্ধু ও মুলতান অঞ্চল দখল করে। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতিফলন দেখা যায় । উদ্দীপকে বলা হয়েছে , রমেশের বসবাস করা দেশটির মানুষ সামাজিক ক্ষেত্রে নানা শ্রেণি ও বর্ণে বিভক্ত ছিল । রাজনৈতিক ঐক্য না থাকায় পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাম্রাজ্যবাদী শাসক তার একজন তরুণ সেনাপতিকে পাঠিয়ে দেশটি দখল করে নেন। অনুরূপভাবে সাম্রাজ্যবাদী উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তরুণ সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধুর রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে অভিযান পাঠান। এসময় ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সিন্ধুতেও সামাজিক এবং রাজনৈতিক অরাজকতা ছিল। সেখানে হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্যবাহী বর্ণপ্রথা তখন খুব জোরদার ছিল। সমাজে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা উঁচু বর্ণের লোক হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা নিম্নশ্রেণির শূদ্র ও বৈশ্যদের ঘৃণা এবং নানা রকমের নির্যাতন করত। ভারতবর্ষ তখন ছোট ছোট স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এ রাজ্যগুলো পরস্পরের ওপর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ - বিগ্রহে লিপ্ত ছিল । আর এ বিরোধের কারণে আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু আক্রমণ করলে ( ৭১২ খ্রি .) রাজা দাহিরকে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের শাসকেরা কোনো সহযোগিতা করেনি। ফলে সহজেই সিন্ধু এবং পরবর্তী সময়ে মুলতান আরবদের দখলে আসে। আবার উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটিতে বিজয়ী শক্তির শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একইভাবে মুহাম্মদ বিন কাসিমের দখল করা সিন্ধুতেও আরবদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সুতরাং বলা যায় , উদ্দীপকের সেনাপতির সাথে সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমেরই মিল রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের ফলাফল উক্ত সেনাপতি অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফলের আংশিক প্রতিফলন — কথাটি যথার্থ । আরবদের সিন্ধু বিজয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। মুসলমানদের সাম্য , মৈত্রী , ন্যায়নীতি ও উদারতার প্রভাবে ভারতীয় সমাজে বর্ণবাদের নির্মমতা হ্রাস পায়। প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষ ছিল সংস্কৃতির লীলাভূমি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। আরবরা ভারতীয়দের শিক্ষা - সংস্কৃতির উন্নত দিকগুলো গ্রহণ করে তাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। উদ্দীপকে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের এসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফলের কথা বলা হলেও এর রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় ফলাফলের কথা কিছু বলা হয়নি। আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয় তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেনি। তবে তাদের অনুসরণ করেই পরবর্তী সময়ে গজনভি ও ঘুরিরা ভারতে মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের ব্যবসা - বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। ইসলামের একেশ্বরবাদ , সাম্য ও মৈত্রীনীতি হিন্দু সমাজে ধর্মীয় চিন্তা - চেতনার ক্ষেত্রে এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করে। এর প্রভাবে ভারতে ভক্তি আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে পৌত্তলিকতাবিরোধী ও একেশ্বরবাদী ব্রাহ্মসমাজ গড়ে ওঠে। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদ ও বৌদ্ধধর্মের নির্বাণ ধারণা মুসলিম সুফি মতাদর্শকে প্রভাবিত করে । উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায় , উদ্দীপকে সিন্ধু বিজয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এতে রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় দিক সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি । তাই উদ্দীপকের বর্ণনায় সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল আংশিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রমেশ যে দেশে বসবাস করত, সে দেশটি সামাজিক ক্ষেত্রে নানা বর্ণে ও শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনৈক্য ছিল আরও প্রকট। এ পরিস্থিতির সুযোগে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাম্রাজ্যবাদী শাসক তার একজন তরুণ সেনাপতির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে দেশটি করায়ত্ত করেন। কিন্তু সেখানে বিজয়ী শক্তির দীর্ঘস্থায়ী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিজয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

ক.

সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন ?

খ.

ভারতবর্ষকে ‘নৃ-তত্ত্বের জাদুঘর' বলা হয় কেন ?

গ.

উদ্দীপকের সেনাপতির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন সেনাপতির মিল খুঁজে পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

উদ্দীপকের ফলাফল উক্ত সেনাপতির বিজয়ের ফলাফলের আংশিক প্রতিফলন— মন্তব্য করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? গ. চিত্রে প্রদর্শিত মন্দ...

ক. সোমনাথ মন্দিরটি কোথায় অবস্থিত? খ. শাহনামা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে কোন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ২নং ...

ক. গজনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কেন ? গ. চিত্রে প্রদর্শিত ...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারী বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিয়ান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থসম্পদ লুন্ঠন করে তি...

মুহাম্মদ ঘুরী ছিলেন- i. উদ্যমী ii. দক্ষ সংগঠক iii. উচ্চাকাক্সক্ষী নিচের কোনটি সঠিক?

অজয়নগর ও বিজয়নগর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্রাম। শাহাদৎ সাহেব অজয়নগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, অন্যদিকে আমিন সাহেব...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্র বর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির...

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।