Facebook Pixel

রিমনের মন খুবই কৌতূহলী। সে বিভিন্ন বিষয় জানার পাশাপাশি তার বাবাকে ভারতবর্ষ আক্রমণের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ভারত আক্রমণকারী ছিলেন একজন একনিষ্ঠ মুসলমান। তাঁর উপাধি ছিল মুইজউদ্দীন ও শিহাবউদ্দীন। শিহাবউদ্দীন অর্থ ধর্মের অগ্নিশিখা। ক. রাজা দাহির কে ছিলেন? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ লেখ। গ. উদ্দীপকে শাসকের পাঞ্জাব ও সিন্ধু অভিযানের বর্ণনা দাও। ঘ. উল্লিখিত শাসক ১ম ও ২য় তরাইনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল-ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. করাজা দাহির ছিলেন মুসলিম বিজয়ের সময়ে সিন্ধুর রাজা। খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক। কারণ সে যুগে একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা, সাম্রাজ্যে 'একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা, বিশাল সেনাবাহিনীকে বেতন-ভাতাদি দেওয়া, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতা করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল। আর ভারত ছিল অফুরন্ত ধনসম্পদে পরিপূর্ণ। অথচ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এজন্য ধনসম্পদে পরিপূর্ণ, ভারত থেকে অর্থ ও রত্নভান্ডার লুণ্ঠন করাই ছিল সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য। তবে তিনি রাজনেতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে ভারত অভিযান করেন। গ. উদ্দীপকের রিমনের বাবা যে শাসকের কথা বলেছেন তিনি হলেন মুহাম্মদ ঘুরী। তিনি সিন্ধু ও পাঞ্জাব দখল করেন। পাঞ্জাব দখল: পাঞ্জাব ছিল তৎকালীন ভারতের প্রবেশদ্বার। গজনির রাজারা নিজ দেশে হতে বিতাড়িত হয়ে এসে পাঞ্জাব শাসন করতেন। ১১৭৯ খ্রি. মুহাম্মদ ঘুরী পাঞ্জাবের শাসনাধীন পেশোয়ার দখল করেন। ১১৮১ খ্রি. তিনি খসরু মালিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। ১১৮৫ খ্রি. মুহাম্মদ ঘুরী পুনরায় পাঞ্জাব আক্রমণ এবং লুঠতরাজ করেন। এ অভিযানে তিনি শিয়ালকোট দখল করেন। ১১৮৬ খ্রি. জম্মুর রাজা চক্রদেবের সহায়তায় মুহাম্মদ ঘুরী খসরু মালিককে গ্রেফতার করেন এবং! কারাগারে নিক্ষেপ করেন। বন্দি অবস্থায় খসরু মালিক মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর সাথে গজনি বা ইয়ামেনি বংশের শাসন সমাপ্ত হয়। সিন্ধু দখল: ঘুরীর অভিযানের প্রাক্কালে মূলতান কারামাতীয়গণ শাসন করত। কারামাতীয়রা ছিল। ইসমালীয় সম্প্রদায়ের একটি শাখার নাম। ১১৭৪ খ্রি. বা ১১৭৫ খ্রি. মুহাম্মদ ঘুরী কারামাতীয় শাসককে পরাজিত করে মুলতান দখল করেন। তিনি নিজের মনোনীত একজনকে মুলতানের শাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। তৎকালীন সিন্ধু দুভাগে বিভক্ত ছিল। আপার সিন্ধু ও লোয়ার সিন্ধু। আপার সিন্ধুর উচের রাজপুত রাজা ভাটির সাথে রানির সম্পর্ক ভালো ছিল না। প্রচলিত কাহিনি মতে, ১১৭৪ খ্রি. রানির সাথে আঁতাত করে মুহাম্মদ ঘুরী রাজা ভাটিকে হত্যা করেন। ১১৮২ খ্রি. তিনি লোয়ার সিন্ধু দখল করেন। ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত শাসক হলেন মুহাম্মদ ঘুরী। তিনি পৃথ্বিরাজের সাথে তরাইনের প্রথম ও দ্বিতীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তরাইনের প্রথম যুদ্ধ: তরাইন একটি গ্রামের নাম। এটি থানেশ্বর হতে ২২.৫৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১১৯১ খ্রি. এখানে মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বিরাজের নেতৃত্বে গঠিত জোট বাহিনীর যুদ্ধ হয়। ঐতিহাসিক আবুল কাশেম ফিরিস্তার বর্ণনা মতে, জোট বাহিনীতে ২ লাখ অশ্বারোহী এবং ৩০০০ হস্তি ছিল। মুহাম্মদ ঘুরী তার সৈন্যবাহিনীকে ডান, বাম ও মধ্য এ তিন ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি নিজে মধ্যভাগের নেতৃত্ব দেন। : জোটবাহিনী মুসলিম বাহিনীর ডান ও বাম অংশকে আক্রমণ করে এবং পৃথ্বিরাজের ভাই গোবিন্দরাজ ছিলেন, মধ্যভাগে। গোবিন্দরাজের আঘাতে মুহাম্মদ ঘুরী মারাত্মক আহত হন। বিশ্বস্ত খলজি সৈনিকের সহায়তায় মুহাম্মদ ঘুরী প্রাণে রক্ষা পান এবং নিজ রাজ্যে ফিরে যান। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ: ১১৯২ সালে একই স্থানে মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বিরাজের নেতৃত্বে গঠিত জোটবাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয়। যা তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে ঘুরীর ১,২০,০০০ সৈন্যের মধ্যে সুসজ্জিত, প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খলিত অশ্বারোহীর এক বাহিনী ছিল। ১০,০০০ তীরন্দাজ। ঘুরী ১০,০০০ সৈন্য দিয়ে ৪টি বাহিনী গঠন করেছিলেন। ১২,০০০ অশ্বারোহী দিয়ে তিনি আলাদা একটি বাহিনী গঠন করেন। এ বাহিনী ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ও দুর্ধর্ষ। অপরদিকে পৃথ্বিরাজের ৩,০০,০০০ সৈন্যের মধ্যে সুসজ্জিত অশ্বারোহীর বাহিনী ছিল। ১৫০ রাজন্যবর্গ নিয়ে পৃথ্বিরাজের জোটবাহিনী গঠিত ছিল। উভয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলতে থাকে। হিন্দুবাহিনী যখন রণক্লান্ত, তখন ১২,০০০ অশ্বারোহী বাহিনী বেপরোয়াভাবে শত্রু নিধনে লিপ্ত হয়। তীরন্দাজ, অশ্বারোহী এ বাহিনীর আক্রমণে শত্রুপক্ষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে যাওয়ার পথে পৃথ্বিরাজকে বন্দি করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রিমনের মন খুবই কৌতূহলী। সে বিভিন্ন বিষয় জানার পাশাপাশি তার বাবাকে ভারতবর্ষ আক্রমণের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ভারত আক্রমণকারী ছিলেন একজন একনিষ্ঠ মুসলমান। তাঁর উপাধি ছিল মুইজউদ্দীন ও শিহাবউদ্দীন। শিহাবউদ্দীন অর্থ ধর্মের অগ্নিশিখা।

ক.

রাজা দাহির কে ছিলেন?

খ.

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ লেখ।

গ.

উদ্দীপকে শাসকের পাঞ্জাব ও সিন্ধু অভিযানের বর্ণনা দাও।

ঘ.

উল্লিখিত শাসক ১ম ও ২য় তরাইনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল-ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? গ. চিত্রে প্রদর্শিত মন্দ...

ক. সোমনাথ মন্দিরটি কোথায় অবস্থিত? খ. শাহনামা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে কোন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ২নং ...

ক. গজনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কেন ? গ. চিত্রে প্রদর্শিত ...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারী বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিয়ান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থসম্পদ লুন্ঠন করে তি...

মুহাম্মদ ঘুরী ছিলেন- i. উদ্যমী ii. দক্ষ সংগঠক iii. উচ্চাকাক্সক্ষী নিচের কোনটি সঠিক?

অজয়নগর ও বিজয়নগর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্রাম। শাহাদৎ সাহেব অজয়নগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, অন্যদিকে আমিন সাহেব...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্র বর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির...

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।