Facebook Pixel

রমিজ ও তমিজ দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওরা দুইজনে মিলে কলেজে যায়। কলেজে স্যারের পড়ার বিষয়গুলো নিয়ে দুইজনে প্রতিদিনই কিছু না কিছু পর্যালোচনা করে। এক পর্যায়ে রমিজ তমিজকে বলল, জানিস একসময় ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠায় অনেক ব্যক্তি যারা অনেককিছু ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তখন তমিজও বলল, ওইদিন ক্লাসে স্যারের দেওয়া বক্তব্য থেকে শুনেছি। তাদের নাম ইসলামের। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ক. মাহদীয়া শহর কত হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়? খ. উবায়দুল্লাহ আল মাহদী কীভাবে ফাতেমি খিলাফত কণ্টকমুক্ত করেন? গ. উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠায় আবু আবদুল্লাহ আশশিয়ীর অবদান সম্পর্কে তমিজ যা জেনেছিল তা ব্যাখ্যা কর। ঘ. খলিফা আল আজিজের শাসনকাল ছিল গৌরবময়- উক্তিটি তমিজের বর্ণনার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মাহদীয়া শহর ৩০১ হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। খ. ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উবায়দুল্লাহ আল মাহদী আগলাবীয় রাজধানী রাকাদায় নবপ্রতিষ্ঠিত ফাতেমি খিলাফতের সূচনা করেন। প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠিত খিলাফতের শান্তি ও সংহতি বজায় রাখতে সচেষ্ট হন। সিংহাসন লাভের অল্পদিন পরেই উবায়দুল্লাহ সন্দেহের বশে আব্দুল্লাহ ও তার ভ্রাতা আব্বাসকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। এ আব্দুল্লাহ। উবায়দুল্লাহ আল মাহদীর সিংহাসন লাভের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিলেন। আল মনসুরের মতো তিনি আব্দুল্লাহকে হত্যা করে ফাতেমি খিলাফত কণ্টকমুক্ত করেন। গ. উদ্দীপকের রমিজ ও তমিজের মধ্যে ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান আছে তাদের কথাই ফুটে উঠেছে। উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠায় আবু আব্দুল্লাহ আশশিয়ীর অবদান অনস্বীকার্য। নয় শতকের শেষের দিকে আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকায় গমন করেন এবং উত্তর আফ্রিকার বার্বার, বিশেষ করে কিতামা উপজাতির মধ্যে বিদ্রোহের বীজ বপন করেন। মক্কায় তীর্থযাত্রার সময় তিনি এ উপজাতির মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করেন। আশশিয়ী'র কাছে মাহদী সম্পর্কে নানা তথ্য কাতামা গোত্রের লোকেরা সরল মনে বিশ্বাস করলেও অনেকে সন্দেহ পোষণ করে। তিনি তাবুর নামক একটি শহর দখল করে নেন। তারপর তিনি কায়রোয়ান দখলের জন্য প্রস্তুত হন এবং মাহদীর আগমনের সময় খুব কাছাকাছি- এ মর্মে কাতামা গোত্রে ঘোষণা দেন। কায়রোয়ানের শাসক জিয়াদাতুল্লাহর বহু উচ্চপদস্থ কর্মচারী দলে দলে আশ-শিয়ী'র সাথে গোপনে মিলিত হন। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহকে 'মাহদী' উপাধি দিয়ে তার নামে নানা আজগুবি মু'জিযা প্রচার করে বহুলোককে বশ করেন। এরপর তিনি মাহদীকে আনয়নের জন্য দূত প্রেরণ করেন। উত্তর আফ্রিকায় আবু আব্দুল্লাহ ইব্রাহিমকে পরাজিত ও নতুন সেনাপতি হারুনকে নিহত করে বাঞ্জাস নিজের দখলে আনেন। জিয়াদাতুল্লাহর অস্ত্রাগার, ধনাগার ও রসদাগার তার হস্তগত হয়। অসাধারণ ভাগ্যান্বেষী, আশশিয়ী সিজিলমাসা থেকে উবায়দুল্লাহকে উদ্ধার করে তাকে প্রতিশ্রুত 'মাহদী' বলে ঘোষণা করেন। চল্লিশ দিন পর তাকে রাকাদায় আনলে পরবর্তী শুক্রবারে তার নামে খোতবা পাঠ করা হয়। শিয়া মত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে রাকাদায় বহু লোককে কারারুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। আর এভাবেই উবায়দুল্লাহ আল-মাহদী ফাতেমি খিলাফত কণ্টকমুক্ত করেন। ঘ. ইসলামের ইতিহাসে আল-আজিজের শাসনকাল ছিল গৌরবজনক। - উক্তিটি যথার্থ। আল আজিজের শাসনামলে ফাতেমি শক্তি বাগদাদের আব্বাসি এবং কর্ডোভার উমাইয়া বংশের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে একমাত্র শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আল আজিজ জনহিতকর কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাসাদ নির্মাণ করেন। তিনি কায়রোতে ২ মিলিয়ন দিনার ব্যয়ে একটি রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। তিনি বাবুল নসরের সন্নিকটে এক বিরাট মসজিদ নির্মাণ করেন যা 'হাকিমের মসজিদ' নামে পরিচিত। খলিফা আল আজিজ রাজস্ব ক্ষেত্রে যথেষ্ট সংস্কার সাধন করেন। তিনি প্রথমে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে ওজারাত প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেনাবাহিনীকে সুনির্দিষ্ট হারে বেতন দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন। ইবনে কিল্লিসকে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং তার মাধ্যমে রাজকোষ পূর্ণতা লাভ করে। খলিফা আল আজিজ প্রথম উত্তর আফ্রিকার বার্বারদের মোকাবিলা করার জন্য তুর্কি ও নিগ্রোদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী গঠন করেন। পরবর্তীকালে এ বাহিনীই ফাতেমি বংশের পতন ঘটায়। তার রাজত্বকালে কায়রোতে বহু স্থাপত্য শিল্প নির্মিত হয়। এগুলোর মধ্যে কাশরুর জাহার, কাশরুর বাহার, পারুল প্যাভেলিয়ন উল্লেখযোগ্য। তিনি সাম্রাজ্যের সর্বত্র সেতু, মসজিদ, সরাইখানা নির্মাণ করেন। এছাড়াও জাঁকজমক ও বিলাসী, খ্রিষ্টানদের প্রতি সহনশীল নীতি, কলা ও বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ও ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রমিজ ও তমিজ দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওরা দুইজনে মিলে কলেজে যায়। কলেজে স্যারের পড়ার বিষয়গুলো নিয়ে দুইজনে প্রতিদিনই কিছু না কিছু পর্যালোচনা করে। এক পর্যায়ে রমিজ তমিজকে বলল, জানিস একসময় ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠায় অনেক ব্যক্তি যারা অনেককিছু ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তখন তমিজও বলল, ওইদিন ক্লাসে স্যারের দেওয়া বক্তব্য থেকে শুনেছি। তাদের নাম ইসলামের। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ক.

মাহদীয়া শহর কত হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়?

খ.

উবায়দুল্লাহ আল মাহদী কীভাবে ফাতেমি খিলাফত কণ্টকমুক্ত করেন?

গ.

উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি বংশ প্রতিষ্ঠায় আবু আবদুল্লাহ আশশিয়ীর অবদান সম্পর্কে তমিজ যা জেনেছিল তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

খলিফা আল আজিজের শাসনকাল ছিল গৌরবময়- উক্তিটি তমিজের বর্ণনার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf৬৬১ খ্রি. & textbfউমাইয়া খেলাফত hline text৭৫০ খ্রি. & textআব্বাসি খেলাফত hline text৯০৯ খ্র...

ইসমাইলীয় সম্প্রদায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম রাজবংশ কোনটি?

উবায়দুল্লাহ আল মাহদী কী প্রতিষ্ঠা করেন?

কে ‘আল মনসুর' উপাধি গ্রহণ করে ফাতেমি সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন?

কারবালা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোন দলের উদ্ভব হয়?

“খলিফা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন" বলতে যা বোঝাতে চেয়েছেন- i. জ্ঞানী লোকের সাথে থাকতেন ii. জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা...

[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা] ক. আল জওহর কার স্মরণার্থে 'আল আজহার' মসজিদটি নির্মাণ করেন? খ. আল মুইজকে পাশ্চ...

আড়াইশ বছর শাসন করার পর মিশরে ফাতেমি খিলাফতের অবসান ঘটে। এর যথার্থ কারণ হলো- i. খলিফাদের দুর্বলতা ii. মন্ত্রীদের শত্রুতা...

আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ব্যাপারে সমাজে কাদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল?

আফনান সুদীর্ঘ ২৩ বছর কৃতিত্বের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে তাঁর 'চিনুক' রাষ্ট্রটিকে স্বর্ণময় করে তোলেন। তিনি ছিলেন তাঁর রা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।