Facebook Pixel

আফনান সুদীর্ঘ ২৩ বছর কৃতিত্বের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে তাঁর 'চিনুক' রাষ্ট্রটিকে স্বর্ণময় করে তোলেন। তিনি ছিলেন তাঁর রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। বিদ্রোহ দমন, রাজ্য বিজয়, শাসনব্যবস্থার সংস্কার, রাজস্ব বিভাগের পুনর্বিন্যাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম। দূরদর্শী ও মেধাবী এ শাসক অনেক রাজ্য জয় করেন। তবে 'চেতন নগর' রাজ্য জয় ইতিহাসের পাতায় তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর সেনাপতি সোহরাব তথায় একটি সুন্দর নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে আফনান তথায় তাঁর রাজধানী স্থানান্তর করেন। ক. উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে কে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন? খ. দারুল হিকমা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসক কর্তৃক 'চেতন নগর' রাজ্য জয়ের সাথে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের কোন দেশ বিজয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসককে যদি তাঁর বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়, তাহলে আল-মুইজকে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরের ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করার যৌক্তিকতা তুলে ধর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত

উৎস: Board Exam Question DiB 2018, Board Exam Question SB 2018, Board Exam Question JB 2018, Board Exam Question DB 2018, Board Exam Question Combined 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা উবায়দুল্লাহ আল মাহদী। (খ) দারুল হিকমা বা বিজ্ঞানভবন হলো খলিফা আল-হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত একটি জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাগদাদের 'বায়তুল হিকমা'র অনুকরণে তৈরি করা হয়েছিল। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরের শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতিতে এই দারুল হিকমা বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসক কর্তৃক 'চেতন নগর' রাজ্য জয়ের সাথে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের মিশর জয়ের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের শাসক যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য জয় করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন, আল-মুইজও তেমনি মিশরে ফাতেমি শাসন প্রতিষ্ঠা করে রাজধানী স্থানান্তর করেন। আল-মুইজের মিশর বিজয়ের প্রাক্কালে মিশরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। ইখশিদ বংশীয় শাসনকর্তা কাফুরের ২০ বছরের কুশাসনে মিশর বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায়। এমন সময় মিশরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ফাতেমি খলিফা আল-মুইজকে মিশর দখল করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আবেদন জানান। তাদের ডাকে আল-মুইজ ৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর প্রখ্যাত সেনাপতি জওহরের নেতৃত্বে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। বিজয়ী সেনাপতি জওহর 'আল-কাহিরা' নামে একটি নতুন নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটিকে মিশরের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করেন। পরবর্তীতে ৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে আল-মুইজ নিজে মিশরে গমন করেন এবং মহামারি ও দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের শাসকের রাজ্য জয়ের সাথে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের মিশর জয়ের স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান। (ঘ) উদ্দীপকের শাসককে তাঁর বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়েছে, একইভাবে আল-মুইজকে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরের ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করার যৌক্তিকতা অত্যন্ত প্রবল। আল-মুইজ ছিলেন একজন দূরদর্শী, মেধাবী এবং সর্বগুণান্বিত শাসক। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণগুলো নিম্নরূপ: ১. সাম্রাজ্যের বিস্তার ও স্থায়িত্ব: আল-মুইজের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল মিশর জয় এবং সেখানে ফাতেমি খিলাফতের রাজধানী স্থাপন করা, যা সাম্রাজ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ২. সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কার: তিনি অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও গোলযোগ কঠোর হস্তে দমন করে সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপন করেন। সুশাসনের জন্য তিনি সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে এবং প্রদেশগুলোকে জেলায় বিভক্ত করেন এবং সেখানে সুযোগ্য কর্মচারী নিয়োগ করেন। ৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: তিনি ইবনে কিলিস ও আশুকের মতো দক্ষ ব্যক্তিদের ভূমি সংস্কার কাজে নিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের দক্ষতা ও সঠিক পরিকল্পনার ফলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে। ৪. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি: তিনি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন, যা সাম্রাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করে। ৫. জ্ঞান ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা: তিনি বিজ্ঞান ও দর্শনে পারদর্শী ছিলেন এবং শিল্প ও বিদ্যার উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর এই বহুমুখী কৃতিত্বের কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করেন। সুতরাং, আল-মুইজকে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরের ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2018)Sylhet Board (2018)Jessore Board (2018)Dhaka Board (2018)Combined Board (2018)

আফনান সুদীর্ঘ ২৩ বছর কৃতিত্বের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে তাঁর 'চিনুক' রাষ্ট্রটিকে স্বর্ণময় করে তোলেন। তিনি ছিলেন তাঁর রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। বিদ্রোহ দমন, রাজ্য বিজয়, শাসনব্যবস্থার সংস্কার, রাজস্ব বিভাগের পুনর্বিন্যাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম। দূরদর্শী ও মেধাবী এ শাসক অনেক রাজ্য জয় করেন। তবে 'চেতন নগর' রাজ্য জয় ইতিহাসের পাতায় তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর সেনাপতি সোহরাব তথায় একটি সুন্দর নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে আফনান তথায় তাঁর রাজধানী স্থানান্তর করেন। ক. উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে কে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন? খ. দারুল হিকমা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসক কর্তৃক 'চেতন নগর' রাজ্য জয়ের সাথে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের কোন দেশ বিজয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসককে যদি তাঁর বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়, তাহলে আল-মুইজকে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরের ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করার যৌক্তিকতা তুলে ধর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf৬৬১ খ্রি. & textbfউমাইয়া খেলাফত hline text৭৫০ খ্রি. & textআব্বাসি খেলাফত hline text৯০৯ খ্র...

আব্দুল খালেক ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে জয়নগরে ধর্মভিত্তিক একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এ বংশকে কণ্টকমুক্ত করার জন্য স...

আল আজহার' মসজিদটি কোন খলিফার সময়ে নির্মিত হয়?

আল হাকিম কর্তৃক দারুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য

ইতিহাসের জনক বলা হয় কাকে?

উত্তর আফ্রিকায় সহজে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কারণ কী?

উসমান গাজী মধ্য এশিয়ার প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে অটোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। কালের বিবর্তনে তার উত্তরাধিকারীদের মাধ...

ওসমানীয় বংশের প্রথম শাসক ওসমান। ১২৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইয়েনী শহর বিজয় করে সেখানে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। রাজ্য সম্প্রসার...

'ক' রাজ্যের ধর্মীয় নেতা মি. এন্থনি যখন জনসম্মুখে আসেন তখন সবাই অবাক । তিনিও তো তাদের মতো একজন সাধারণ মানুষ অথচ একদল পুর...

'ক' রাজ্যের ধর্মীয় নেতা মি. এন্থনি যখন জনসম্মুখে আসেন তখন সবাই অবাক। তিনিও তো তাদের মতো একজন সাধারণ মানুষ অথচ একদল পুরো...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।