ক.
NASW ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের ধারণা ব্যবহার করে।
খ.
শ্রমিকদের কল্যাণে সমাজকর্মের যে শাখা কাজ করে তাকে শিল্প সমাজকর্ম বলা হয়।
শিল্প সমাজকর্ম এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সমাজকর্মী শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেন। এ সহায়তা শ্রমিক শ্রেণির মানবিক ও সামাজিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। শিল্প সমাজকর্মে শিল্পের উৎপাদন ও শ্রমিকের স্বার্থ দুটি দিকই রক্ষিত হয়। তবে সমাজকর্মের এ শাখার মূল কাজ হলো শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য বলা হয় শ্রমকল্যাণের সম্প্রসারিত রূপই শিল্প সমাজকর্ম।
গ.
উদ্দীপকে বৃদ্ধনিবাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যেটি সমাজকর্মের অন্যতম শাখা প্রবীণকল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে দারিদ্র্য, অনাহার, অনাদর, অবহেলা, বিদ্রুপ, মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা আর শারীরিক নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি ব্যক্তিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এসব সমস্যার সমাধান ও প্রবীণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর এবং নিরাপদ পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের উৎপত্তি হয়েছে। উদ্দীপকে এই শাখার কার্যক্রমের প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রথাগতভাবে প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব পরিবারের ওপর ন্যস্ত ছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ও ভোগবাদী যুগে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা বা পারিবারিক বন্ধন ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে পড়ছে। আবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি মৃত্যুহার কমিয়ে দেওয়ায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজের এই অংশের আর্থ-মনো-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারি- বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। এর অন্যতম হলো বৃদ্ধনিবাস। মূলত উন্নত দেশের ধারণা হলেও সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেও ধীরে ধীরে এটি পরিচিতি পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার ও বিভিন্ন এনজিওর পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বৃদ্ধনিবাস গড়ে উঠছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবীণদের শারীরিক-মানসিক সুস্থতা ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দেয়। উদ্দীপকের রবিন তেমনই একটি বৃদ্ধনিবাসে বাবাকে পাঠিয়েছে। কাজের ব্যস্ততার কারণে তার পক্ষে সবসময় অবসরপ্রাপ্ত বাবার খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয় না। প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাবার সাথে ভুল বোঝাবুঝিও হয়। এক পর্যায়ে রবিন তাই বাবাকে বেসরকারি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বৃদ্ধনিবাসে পাঠিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি রবিনের বাবার মতো প্রবীণদের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বৃদ্ধনিবাস প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের কার্যক্রম ফলপ্রসূ করে তুলতে একজন সমাজকর্মী অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বার্ধক্যে ব্যক্তি যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন সে ব্যাপারে অনেক সময় পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকে না। এতে করে প্রবীণদের প্রতি আমাদের করণীয় কী হতে পারে সে সম্পর্কেও সবার সঠিক ধারণা নেই। এজন্য সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা জরুরি। সমাজকর্মীরা এ ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন।
কৃষিনির্ভর ও গ্রামপ্রধান বাংলাদেশে একসময় যৌথ পরিবার প্রথা প্রচলিত ছিল। সে সময় বয়স্ক ব্যক্তিরা পরিবার থেকেই প্রয়োজনীয় আর্থিক, মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা পেতেন। এমনকি এটি একটি সামাজিক ঐতিহ্য হিসেবেও বিবেচিত হতো। শিল্প বিপ্লব পরবর্তী আধুনিক সমাজ এ ঐতিহ্য থেকে ধীরে ধীরে অনেকটাই সরে এসেছে। যা পুনরুদ্ধারে একজন সমাজকর্মী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনি বয়স্ক মানুষদের সমস্যা সমাধানে সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। আবার প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথেও সংশ্লিষ্ট হতে পারেন। যেমন- বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে প্রবীণদের নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সমাধানে সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রবীণরা তাদের বয়সজনিত মূল্যবোধ বা পুরনো বদ্ধমূল ধারণার কারণে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হন। এক্ষেত্রে তাদেরকেও সচেতন করে তুলতে হবে। সেইসাথে তারা যাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের আদর্শ ও চিন্তাধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে একজন প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মী নিজস্ব জ্ঞান, দক্ষতা ও কৌশলের প্রয়োগ ঘটাতে পারেন।
সামগ্রিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের কার্যক্রম ফলপ্রসূ করতে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা অপরিসীম।