Facebook Pixel

রফিক সাহেব অর্থনীতি ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের মুদ্রাস্ফীতি পড়াতে এগিয়ে বলেন যে, একটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতি যথা- ব্যাংক হার, নগদ রিজার্ভের অনুপাত এবং খোলাবাজার নীতি যেমন কার্যকর ভূমিকা রাখে তেমনিভাবে সরকারের রাজস্বনীতি যথা- সরকারি ব্যয়, কর এবং সরকারি ঋণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক. মুদ্রাস্ফীতির হার কী? খ. উদার ঋণনীতি কীভাবে মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে? গ. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে উল্লিখিত আর্থিক নীতির হাতিয়ারগুলো ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের রাজস্ব নীতিগুলো কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question JB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কোনো একটি নির্দিষ্ট বছরের তুলনায় চলতি বছরে সাধারণ দ্রব্যমূল্যের যে শতকরা পরিবর্তনের হার পরিলক্ষিত হয়, তাকে মুদ্রাস্ফীতির হার বলা হয়। (খ) উদার ঋণনীতি মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করে। যখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে এবং কম সুদের হারে ঋণ প্রদান করে, তখন বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যায়, কিন্তু সেই অনুপাতে বাজারে পণ্যের উৎপাদন বা সরবরাহ বৃদ্ধি পায় না। চাহিদার তুলনায় পণ্যের যোগান কম হওয়ায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে। (গ) মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক নীতির বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহার করে বাজারে অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। উদ্দীপকে উল্লিখিত হাতিয়ারগুলোর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো: ১. ব্যাংক হার: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ব্যাংক হার বা সুদের হার বৃদ্ধি করে, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও গ্রাহকদের জন্য ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, যা বাজারে অর্থের সরবরাহ কমিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ২. নগদ রিজার্ভের অনুপাত (CRR): কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার বাড়িয়ে দেয়, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে যায় এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ৩. খোলাবাজার নীতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র বা বন্ড বিক্রয় করে, তখন জনসাধারণের হাতে থাকা নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চলে আসে। ফলে বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস পায় এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। (ঘ) মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের রাজস্বনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজস্বনীতির হাতিয়ারগুলো কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. সরকারি ব্যয় হ্রাস: সরকার যখন উন্নয়নমূলক বা অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কমিয়ে দেয়, তখন বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায় এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ২. কর বৃদ্ধি: সরকার প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি করলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় কমে যায়। ফলে বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস পায় এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে। ৩. সরকারি ঋণ গ্রহণ: সরকার যখন জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তখন জনগণের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ কমে যায়। এই অর্থ সরকারের কাছে চলে আসায় বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরিশেষে বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতির পাশাপাশি সরকারের রাজস্বনীতি একটি সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2022)

রফিক সাহেব অর্থনীতি ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের মুদ্রাস্ফীতি পড়াতে এগিয়ে বলেন যে, একটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতি যথা- ব্যাংক হার, নগদ রিজার্ভের অনুপাত এবং খোলাবাজার নীতি যেমন কার্যকর ভূমিকা রাখে তেমনিভাবে সরকারের রাজস্বনীতি যথা- সরকারি ব্যয়, কর এবং সরকারি ঋণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক. মুদ্রাস্ফীতির হার কী? খ. উদার ঋণনীতি কীভাবে মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে? গ. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে উল্লিখিত আর্থিক নীতির হাতিয়ারগুলো ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের রাজস্ব নীতিগুলো কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।