Facebook Pixel

রাফাত ইতিহাসের বই পড়ে জানতে পারে যে, 'ক' নামক শাসক একজন বিখ্যাত বিজেতা ছিলেন। তিনি বার বার পার্শ্ববর্তী একটি দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং প্রতিবারই স্বীয় রণ-কৌশল দ্বারা বিজয়ী হন। অভিযান পরিচালনা করে তিনি যে বিপুল ধন-সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন তা দ্বারা স্বীয় রাজধানীকে প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিণত করেছিলেন। তবে বিজিত এলাকায় তিনি স্থায়ীভাবে কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেননি। ক. ভারতবর্ষকে কেন নৃতত্ত্বের যাদুঘর বলা হয়? খ. ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' নামক শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. পাঠ্যবইয়ের উক্ত শাসকের রাজ্য বিজয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভারতের মানুষ নানা জাতি, উপজাতির সমন্বয়ে গঠিত বিধায় তাকে নৃতত্ত্বের যাদুঘর বলা হয়। খ. ভারতবর্ষ এশিয়া মহাদেশের মধ্য দক্ষিণে অবস্থিত। ভৌগোলিক দিক থেকে ভারতবর্ষ একটি বিচিত্র অঞ্চল। এর উত্তর, উত্তর পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব দিকে হিমালয় পর্বত, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে ব্রহ্মদেশ, পশ্চিমে আরব সাগর অবস্থিত। কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিন্ধ্য পর্বত দেশটিকে দুটি অসমান ভাগে বিভক্ত করেছে। বিন্ধ্য পর্বতের উত্তর অংশ 'আর্যাবর্ত' বা উত্তর ভারত এবং দক্ষিণাংশ 'দাক্ষিণাংশ 'দাক্ষিণাত্য' নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকের 'ক' নামক শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সুলতান মাহমুদের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকের রাফাত জানতে পারে যে, 'ক' নামক বিজেতা বার বার পার্শ্ববর্তী দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে বিজয়ী হন। তবে তিনি স্থায়ী রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করে বিপুল সম্পদ সংগ্রহ করে স্বীয় রাজধানীকে সাজিয়ে তোলেন যা সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। গজনির শাসক সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সতেরো বার ভারত অভিযান পরিচালনা করেন এবং এ সময় এখান থেকে প্রচুর ধনসম্পদ আফগানিস্তানে নিয়ে যান। এসব সম্পদ দ্বারা তিনি স্বীয় রাজ্যের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনয়নের কাজে ব্যয় করেন। তিনি বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী কোনো শাসন প্রতিষ্ঠা করেন নি। তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য গজনিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি পাঠাগার ও একটি জাদুঘর স্থাপন করেন। তিনি বহু স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। 'শাহনামা' লেখার জন্য তিনি কবি ফেরদৌসকে ৬০,০০০ স্বর্ণ মুদ্রা প্রদান করেন। তিনি অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, সুরম্য সৌধ, অট্টালিকা প্রভৃতি নির্মাণ করে রাজধানী গজনিকে সুসজ্জিত করেন এবং সর্বাপেক্ষা সুন্দর নগরীতে পরিণত করেন। জন মার্শালের মতে, স্থাপত্য ও ইসলামি শিল্পকলা বিস্তারে গজনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি শিল্পকলার বিকাশে গজনি কেবল মাধ্যমই ছিল না, বরং এটি সাসানীয়দের নিকট থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে সমৃদ্ধিশালী স্থাপত্য শিল্প গড়ে তুলেছিল। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, 'ক' নামক শাসকের সাথে সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে। ঘ. উক্ত শাসক তথা সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক তথা ধন-সম্পদ সংগ্রহ। সুলতান মাহমুদ নানা কারণে ভারত অভিযান করলেও তার ভারত অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক। সুলতান মাহমুদ তার ৩৩১ বছরের শাসনামলে (৯৯৭-১০৩০ খ্রি.) ভারতবর্ষে ১৭টি অভিযান পরিচালনা করেন। তার ভারত অভিযানের পিছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই ছিল মুখ্য। প্রাচীন ভারতবর্ষ ছিল ধনৈশ্বর্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। সুলতান মাহমুদ ভারতকে তার প্রয়োজনীয় অর্থভান্ডার মনে করেছিলেন। তাই তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি বার বার ভারত আক্রমণ করেন এবং বিপুল লাভঅর্থসম্পদ নিয়ে স্বদেশে ফিরে যান। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' নামক বিজেতা পার্শ্ববর্তী দেশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রচুর ধনরত্ন, মণিমুক্তা লাভ করেন। একইভাবে সুলতান মাহমুদও ভারত অভিযানের মাধ্যমে প্রচুর সম্পদ লাভ করেন। অর্থাৎ তাদের দুজনের অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল এক ও অভিন্ন। সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের ফলে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত ভারতের অর্থসম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং উত্তর ভারতীয় রাজ্যসমূহ বড় রকমের আর্থিক বিপর্যয়ে পড়ে। অন্যদিকে ভারত থেকে লুট করা বিপুল ধনসম্পদ দ্বারা সুলতান মাহমুদ নিজ রাজ্য গজনির উন্নতি ও সমৃদ্ধি সাধন করেন। ফলে গজনি ইতিহাসসমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়। কিন্তু সুলতান মাহমুদ তার বিজিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে একমাত্র পাঞ্জাব ছাড়া অন্য কোনো অঞ্চলকে নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করেননি। পরিশেষে বলা যায় যে, সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক তবে এর পিছনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাম্রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষায় বিষয়টিও ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাফাত ইতিহাসের বই পড়ে জানতে পারে যে, 'ক' নামক শাসক একজন বিখ্যাত বিজেতা ছিলেন। তিনি বার বার পার্শ্ববর্তী একটি দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং প্রতিবারই স্বীয় রণ-কৌশল দ্বারা বিজয়ী হন। অভিযান পরিচালনা করে তিনি যে বিপুল ধন-সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন তা দ্বারা স্বীয় রাজধানীকে প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিণত করেছিলেন। তবে বিজিত এলাকায় তিনি স্থায়ীভাবে কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেননি।

ক.

ভারতবর্ষকে কেন নৃতত্ত্বের যাদুঘর বলা হয়?

খ.

ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের 'ক' নামক শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

পাঠ্যবইয়ের উক্ত শাসকের রাজ্য বিজয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? গ. চিত্রে প্রদর্শিত মন্দ...

ক. সোমনাথ মন্দিরটি কোথায় অবস্থিত? খ. শাহনামা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে কোন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ২নং ...

ক. গজনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কেন ? গ. চিত্রে প্রদর্শিত ...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারী বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিয়ান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থসম্পদ লুন্ঠন করে তি...

মুহাম্মদ ঘুরী ছিলেন- i. উদ্যমী ii. দক্ষ সংগঠক iii. উচ্চাকাক্সক্ষী নিচের কোনটি সঠিক?

অজয়নগর ও বিজয়নগর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্রাম। শাহাদৎ সাহেব অজয়নগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, অন্যদিকে আমিন সাহেব...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্র বর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির...

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।