ক.
'Common Human Needs' গ্রন্থের লেখক হলেন শার্লট টোলে।
খ.
মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
ব্যক্তির মননশীলতা বিকাশে শিক্ষার বিকল্প নেই। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারণা সুস্পষ্ট হয়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ যে কোনো ধরনের অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং ভালো কাজে নিয়োজিত হয়। শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের জন্ম দেয়। সেইসাথে সে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়। মোটকথা শিক্ষা মানুষকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত রফিকের পরিবারের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা থেকে নিরক্ষরতা, স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, অপরাধ প্রবণতার মতো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
সাধারণত মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলোকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিত্তবিনোদন এ চাহিদার অন্তর্গত। এ চাহিদার অপূরণ থেকে বিভিন্ন রকমের আর্থ-সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের রফিকের পরিবার সে ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
উদ্দীপকের রফিক সিডরে মারা গেছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি পরবর্তীকালে নানামুখী সমস্যা তৈরি করে। রফিক মারা যাবার পর তার সন্তানরা কোনোরকমে জীবনধারণ করলেও লেখাপড়া করতে পারছে না। অথচ শিক্ষার চাহিদা পূরণ না হলে নিরক্ষরতার মতো সমস্যা সৃষ্টি হবে। স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দারিদ্রদ্র্য, কুসংস্কার ইত্যাদি সমস্যারও অন্যতম কারণ নিরক্ষরতা। অন্যদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসারের ব্যয়ভার মেটাতে রফিকের পরিবারের সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে অনেকেই মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করার জন্য অবৈধ পথ বেছে নেয়। ফলে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ে। তাই বলা যায়, মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকে রফিকের পরিবারে ওপরে আলোচিত সমস্যা দেখা দিবে।
ঘ.
উদ্দীপকে রফিকের পরিবারের মাধ্যমে নিরক্ষরতা, স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, অপরাধপ্রবণতার মতো সমস্যার কথা উঠে এসেছে যেগুলো মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম রয়েছে।
শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানেও সব নাগরিকের শিক্ষা সুনিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়া সরকারিভাবে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ, মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি চালু, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক খাতে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও গৃহীত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আওতায় সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রথম থেকে উচ্চতর ডিগ্রি পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের রফিকের পরিবারে নিরক্ষরতা ছাড়াও স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতা, অপরাধপ্রবণতার মতো সমস্যাও লক্ষ করা যায়। সমস্যা
সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত উন্নয়ন কর্মসূচি- Health, Population & Nutrition Sector Development Programme (HPNSDP) শীর্ষক চতুর্থ সেক্টর কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল সপ্তাহ প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এসএমএস এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারিভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও চালু আছে। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন খাতে ১,১৩,৫৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সরকার গৃহীত কর্মসূচিগুলো ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।