Facebook Pixel

রনদা প্রসাদ সাহা একজন জমিদার পরিবারের সন্তান। তিনি উচ্চশিক্ষিত এবং পৈতৃকসূত্রে বিশাল সম্পদের অধিকারী। এলাকার মানুষের শিক্ষার উন্নতির জন্য তিনি একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ-বিদেশের বহু গ্রন্থ সংগ্রহ করে তিনি এটিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। তার এই গ্রন্থাগারের সুনাম শুনে দূর-দূরান্ত থেকে বহু জ্ঞানপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসেন। তিনি এই গ্রন্থাগার পরিচালনায় প্রচুর টাকা খরচ করেন। ক. আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. 'রাওয়ান্দিয়া' সম্প্রদায় কারা? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রনদা প্রসাদ সাহার সাথে আব্বাসীয় বংশের কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত খলিফার শাসনামলকে কি ইসলামের 'অগাস্টান যুগ' বলে অভিহিত করা যায়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতার নাম আবু জাফর আল মনসুর। খ. রাওয়ান্দিয়া ছিল ৮ম শতাব্দীতে আব্বাসীয় খিলাফতের শুরুর দিকে খোরাসানে উদ্ভূত একটি শিয়া মতাদর্শভিত্তিক চরমপন্থী গোষ্ঠী। তাদের নামের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে; কেউ কেউ মনে করেন এটি আল-কাসিম ইবনে রাওয়ান্দ বা আবদুল্লাহ আল-রাওয়ান্দির নাম থেকে এসেছে । গ. উদ্দীপকের রনদা প্রসাদ সাহার সাথে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের উল্লিখিত রনদা প্রসাদ সাহা একজন জ্ঞানপিপাসু শাসক ছিলেন। তিনি জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য এবং অনুবাদ কার্যকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। রনদা প্রসাদ সাহার ন্যায় আব্বাসি খলিফা আল-মামুনও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধক পুরুষ ছিলেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশের জন্য তিনি ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে রাজধানী বাগদাদে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন যা বায়তুল হিকমা নামে পরিচিত। খলিফা আল-মামুনের এ প্রতিষ্ঠানটিতে। গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো- এ তিনটি পৃথক বিভাগ স্থাপন করেন। তিনি অনুবাদ দপ্তরে গ্রিক, সিরীয়, পারসিক, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত মূল্যবান গ্রন্থাদি এবং জগদ্বিখ্যাত লিউক, কোস্টার, গ্যালেন, ইউক্লিড, এরিস্টটল ও প্লেটো রচিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক গ্রন্থাদি সংগ্রহ করে সেগুলো আররিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া মানকাহ ও দুবান নামক ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের ওপর সংস্কৃত ভাষায় লিখিত ভারতীয় গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার পুস্তকাবলি এবং ঈসা বিন ইয়াহিয়া, মুসা বিল ইলদ প্রমুখ পণ্ডিতগণের ওপর পারসিক আকর গ্রন্থাবলি আরবিতে অনুবাদের ভার অর্পণ করেন। সুতরাং বলা যায়, আব্বাসি খলিফা আল-মামুন অনুবাদ কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা তথা জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিকাশে, বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন যা আমরা উদ্দীপকে জমিদার রনদা প্রসাদ সাহার ক্ষেত্রেও দেখতে পাই। ঘ. হ্যাঁ, উক্ত খলিফার শাসনকালে ইসলামের অগাস্টান যুগ বলে অভিহিত করা যায়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে খলিফা আল-মামুনের অবদান অনস্বীকার্য। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে খলিফা মামুনের কৃতিত্ব। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি তার শাসনামলকে ইসলামের অগাস্টান যুগে পরিণত করেছে। খলিফা মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমাহ ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম নিদর্শন। ৮৩০ খ্রি. প্রতিষ্ঠিত এ জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো- এ তিনটি পৃথক বিভাগ ছিল। হুনাইন ইবনে ইসহাক ছিলেন বায়তুল হিকমার মহাপরিচালক। তিনি বায়তুল হিকমার অনুবাদ দপ্তরে গ্রিক, সিরীয়, পারসিক, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত মূল্যবান গ্রন্থাবলি এবং লিউক, কোস্টার, গ্যালেন, ইউক্লিড, টালেমি, এরিস্টটল, প্লেটো প্রমুখ রচিত মৌলিক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। মামুনের শাসনামলে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চার এক নবদিগন্তের সূচনা হয়। জ্যোতির্বিদ্যার গবেষণার জন্য মামুন তাদমিরে শামসিয়া নামক স্থানে একটি মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সিন্দ বিন আলী, খালিদ বিন আব্দুল মালিক প্রমুখ এখানকার স্বনামধন্য জ্যোতির্বিদ ছিলেন। খলিফা মামুনের শাসনামলে গণিতশাস্ত্রের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। তাছাড়া তার পৃষ্ঠপোষকতায় রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র ও ভূগোলশাস্ত্রের উন্নতি সাধিত হয়। খলিফা আল মামুনের শাসনামলে ইতিহাসশাস্ত্র, সাহিত্য ও হাদিস শাস্ত্রেরও প্রকৃত উন্নতি সাধিত হয়। আল ওয়াকিন্দির 'মাগাবী', ইবনে সাদের 'তাবাফাত' বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থ। সিহাহ-সিত্তাহ বা ছয়টি নির্ভুল হাদিস গ্রন্থ সংকলন এবং বুখারি শরিফ খলিফা মামুনের যুগেই প্রণীত হয়। পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন ও পৃষ্ঠপোষকতায় খলিফা আল-মামুনের শাসনকালকে ইসলামের ইতিহাসে অগাস্টান যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রনদা প্রসাদ সাহা একজন জমিদার পরিবারের সন্তান। তিনি উচ্চশিক্ষিত এবং পৈতৃকসূত্রে বিশাল সম্পদের অধিকারী। এলাকার মানুষের শিক্ষার উন্নতির জন্য তিনি একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ-বিদেশের বহু গ্রন্থ সংগ্রহ করে তিনি এটিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। তার এই গ্রন্থাগারের সুনাম শুনে দূর-দূরান্ত থেকে বহু জ্ঞানপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসেন। তিনি এই গ্রন্থাগার পরিচালনায় প্রচুর টাকা খরচ করেন।

ক.

আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতার নাম কী?

খ.

'রাওয়ান্দিয়া' সম্প্রদায় কারা? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত রনদা প্রসাদ সাহার সাথে আব্বাসীয় বংশের কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত খলিফার শাসনামলকে কি ইসলামের 'অগাস্টান যুগ' বলে অভিহিত করা যায়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।