ক.
'Social Contract' গ্রন্থটির লেখক জ্যাঁ জ্যাঁক রুশো।
খ.
মূলত বুর্জোয়া বলতে পুঁজিবাদী বা ধনতান্ত্রিক শ্রেণি বোঝায়। ফরাসি সমাজে বুর্জোয়াদের সকলেই পুঁজিবাদী ছিল না। শহরবাসী সাধারণ দোকানদার, কারিগর, বুদ্ধিজীবী, চাকুরে ও ধনী বণিকদের বুর্জোয়া বলা হতো। তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজিত ছিল। আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও কোনো বংশ কৌলীন্য ছিল না। বুর্জোয়ারা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যথা- পাতি বুর্জোয়া, ধনী বুর্জোয়া ও মূলধনী বুর্জোয়া।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাম্বুরাবির কর্মকাণ্ডের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের নেপোলিয়নের মিল রয়েছে। নেপোলিয়ন রাষ্ট্রের আধুনিকায়নে বিভিন্ন ধরনের সংস্কার সাধন করেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-
১. অর্থনৈতিক সংস্কার: নেপোলিয়ন অর্থ দপ্তরকে রাজস্ব দপ্তর ও অডিট দপ্তর এ দুই ভাগে ভাগ করেন। ফ্রান্সের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করার জন্য তিনি Bank of France গঠন করেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ ও পুরনো রাস্তার সংস্কার সাধন করেন।
২. শাসনতান্ত্রিক সংস্কার : শাসন সংস্কারের অংশ হিসেবে নেপোলিয়ন ফ্রান্সে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রণয়ন করেন। সমগ্র ফ্রান্সকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে আনেন।
৩. ধর্মীয় সংস্কার: নেপোলিয়ন তার বিখ্যাত Concordat of 1801 এর মাধ্যমে ধর্মীয় ব্যাপারে পোপ ও ফরাসি চার্চের মধ্যকার বিরোধ দূর করেন। তার ধর্মীয় সংস্কারের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় ব্যাপারে ঐক্য ও শান্তি স্থাপন করা।
৪. অন্যান্য সংস্কার: নেপোলিয়ন ফ্রান্সের গুণীদের প্রকৃত মর্যাদা দেওয়ার জন্য Legion of Honour নামে একটি সম্মানসূচক খেতাব সৃষ্টি করেন। শিক্ষা বিস্তারের জন্য তিনি University of France প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, নেপোলিয়ন রাষ্ট্রের আধুনিকায়নে বিভিন্ন ধরনের সংস্কার সাধন আনয়ন করেন। নিজের দেশকে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার জন্য তিনি যে সংস্কার সাধন করেন, তা তার দেশকে বহির্বিশ্বে উচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে।
ঘ.
ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী ফ্রান্সের চরম দুঃসময়ে নেপোলিয়ন ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। নানাবিধ সংস্কারের পাশাপাশি ফ্রান্সকে তিনি ইউরোপের শ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তিতে পরিণত করেন। নিচে তার পতন বা পরাজয়ের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করা হলো-
⦿ স্বৈরতান্ত্রিক শাসন: নেপোলিয়ন নিজেকে বিপ্লবের সন্তান বললেও, অচিরেই তিনি বিপ্লবকে ধ্বংস করেন। তার একনায়কতান্ত্রিক আচরণ গণতন্ত্রকে গ্রাস করলে জনগণ ক্রমেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
⦿ সেনা সংগঠনে দুর্বলতা : প্রথমদিকে নেপোলিয়ন শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করতে সক্ষম হলেও একের পর এক ইউরোপীয় শক্তির সাথে ক্রমাগত যুদ্ধের ফলে অভিজ্ঞ সব সৈন্য নিহত হয়। ফলে শেষের দিকে নেপোলিয়নের সেনাবাহিনী শৃঙ্খলা হারায়, যা ১৮১৫ সালের ওয়াটার লু যুদ্ধে তার পরাজয়ের কারণ।
⦿ কন্টিনেন্টাল সিস্টেম: নেপোলিয়নের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল তার কন্টিনেন্টাল সিস্টেম বা মহাদেশীয় ব্যবস্থা। ইংল্যান্ডের সাথে ইউরোপের অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ইংল্যান্ডকে দুর্বল করাই ছিল এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। এসময় ইংল্যান্ডের সাথে বাণিজ্য করতে না পারায় অন্যান্য ইউরোপীয় দেশসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্ষুব্ধ হয় নেপোলিয়নের প্রতি, যা তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল।
⦿ নেপোলিয়নের অনমনীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা : নেপোলিয়নের আকাঙ্ক্ষা ছিল তিনি ইউরোপের ভাগ্যবিধাতারূপে আভিভূত হবেন। কিন্তু এটি যে একটি অলীক স্বপ্ন, তা তিনি বুঝতে পারেননি। গভীর আত্মপ্রত্যয় ও অহমিকার কারণে তিনি তার জীবনের কতকগুলো শ্রেষ্ঠ সুযোগ হারিয়ে নিজেকে ভুল পথে পরিচালনা করেন। প্রকৃতপক্ষে মিত্রশক্তির ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা ছিল নেপোলিয়নের জীবনে বড় ভুল।
⦿ মস্কো অভিযান : মস্কো অভিযান নেপোলিয়নের পতনের একটি বড় কারণ। প্রাকৃতিক অসুবিধা অগ্রাহ্য করে সুদূর মস্কোতে অভিযান প্রেরণ করে তিনি মারাত্মক ভুল করেন। যার ফলস্বরূপ নেপোলিয়নের মস্কো অভিযান চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এই ব্যর্থতার ফলে নেপোলিয়নের সামরিক শক্তি ও তার ব্যক্তিগত মর্যাদা বিশেষভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। মস্কো অভিযানে ব্যর্থতা নেপোলিয়নের পতনের পথ প্রশস্ত করে।
সর্বোপরি এ সময় ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সামরিক জোটের কাছে বেলজিয়ামের ওয়াটার লু যুদ্ধে ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ন পরাজিত হন। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেপোলিয়নকে নির্বাসন দেওয়া হয় এবং এ দ্বীপেই ১৮২১ সালে তার মৃত্যু হয়।