Facebook Pixel

রাজা প্রথম জর্জ ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি রাজতন্ত্র সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে সংস্কারমূলক কার্যক্রমে হাত দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রশাসনকে ঢেলে সাজান। এছাড়া স্কটল্যান্ড, ম্যানচেস্টার প্রভৃতি দেশে নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ কূটনীতিক ছিলেন। ক. কত খ্রিষ্টাব্দে কারবালার যুদ্ধ হয়? খ. সুলায়মানকে 'আশীর্বাদের চাবি' বলা হয় কেন? গ. রাজা প্রথম জর্জের শাসননীতির সাথে খলিফা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) শাসন নীতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে খলিফা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) প্রশাসনিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খ. ইরাকের বন্দিদের মুক্তিদানের জন্য খলিফা সুলায়মানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয়। উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কুফা ও বসরায় ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা)-এর অনুসারীদের বিদ্রোহ দমন করেন। এ সময় তিনি হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। খলিফা সুলায়মান ক্ষমতায় আরোহণের পর হাজ্জাজের বন্দিকৃত কয়েদিদের মুক্ত করে দেন। এ কারণে তাকে মিফতাহুল খায়র বা আশীর্বাদের চাবি বলা হয়। গ. উদ্দীপকের ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জর্জের শাসননীতির সাথে মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসননীতির নানা সাদৃশ্য রয়েছে। খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা) একজন সুদক্ষ ও প্রতিভাবান শাসক ছিলেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে প্রবর্তিত মজলিস-উশ সূরা বা পরামর্শসভা বাতিল করে প্রচলিত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় কতকগুলো শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন এনেছিলেন। এছাড়া তিনি ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে স্বীয় পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করে উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্কার সাধন করেন। উদ্দীপকেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জর্জের কথা বলা হয়েছে। তিনি ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন এবং এ রাজতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার জন্য বিশাল নৌবাহিনী গঠন করাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার সাধন করেন। অনুরূপভাবে হযরত মুয়াবিয়া (রা) সর্বপ্রথম খিলাফতকে রাজত্বে রূপান্তরিত করেন এবং নিজেকে রাজ মর্যাদায় ভূষিত করেন। আর এ রাজতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার জন্য তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে প্রবর্তিত মজলিস- উশ-শূরা বা পরামর্শসভা বাতিল করেন। তিনি একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন করে ভূমধ্যসাগরে মুসলমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি শাসনকার্যের সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে সেক্রেটারিয়েট প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে রাজা প্রথম জর্জের কার্যক্রমের মধ্যে মুয়াবিয়ার শাসনব্যবস্থার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়। ঘ. হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রশাসনিক নানাবিধ সংস্কার সাধন করেন। তিনি ডাকবিভাগ, প্রতিষ্ঠা, সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, গুপ্তচর প্রথা, রেজিস্ট্রি বিভাগ স্থাপন করেন। দিওয়ান আল খাতাম, দিওয়ান আল বারিদ, গুপ্তচর প্রথা ও সচিবালয় প্রতিষ্ঠা মুয়াবিয়ার শাসন সংস্কারের অংশ ছিল। মুয়াবিয়া তার শাসনামলে শাসনব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। প্রজাদের কল্যাণার্থে তিনি প্রাদেশিক শাসন চালু করেন। প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী করার জন্য কেন্দ্র হতে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করেন। শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে বেশকিছু সংস্কার সাধন করেন। এসব সংস্কারের অন্যতম কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এসব সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনেকটা কেন্দ্র হতে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছিল। তিনি মৌলিক শাসন সংস্কারক হিসেবে ডাক বিভাগ তথা দিওয়ান উল বারিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নের জন্য রেজিস্ট্রি বিভাগ স্থাপন করেন। তিনি সকল দলিলপত্র রেজিস্ট্রি করার ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া তিনি গুপ্তচর ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। পি. কে. হিট্টি বলেন, মুয়াবিয়ার শাসনকালে মুসলিম সাম্রাজ্য কেবল সুদৃঢ় ও সুসংহতই হয়নি। এর সম্প্রসারণও ঘটেছিল। খলিফা মুয়াবিয়া ছিলেন একজন সুদক্ষ সমরনায়ক ও রাজ্যবিজেতা। অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বিধিপ্রবর্তনের পর তিনি খিলাফত সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করেন। তার সুদক্ষ পরিচালনায় খিলাফত সুদৃঢ় হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাজা প্রথম জর্জ ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি রাজতন্ত্র সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে সংস্কারমূলক কার্যক্রমে হাত দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রশাসনকে ঢেলে সাজান। এছাড়া স্কটল্যান্ড, ম্যানচেস্টার প্রভৃতি দেশে নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ কূটনীতিক ছিলেন।

ক.

কত খ্রিষ্টাব্দে কারবালার যুদ্ধ হয়?

খ.

সুলায়মানকে 'আশীর্বাদের চাবি' বলা হয় কেন?

গ.

রাজা প্রথম জর্জের শাসননীতির সাথে খলিফা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) শাসন নীতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের আলোকে খলিফা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) প্রশাসনিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।