Facebook Pixel

রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। কেন্দ্রিয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। ব্যবসা বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটে। প্রচলিত ডাক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করেন। সাম্রাজ্যের সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন, যা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এভাবে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। ক. 'কুব্বাতুস-সাখরা' কী? খ. খলিফা আব্দুল মালিক কর্তৃক আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও। গ. উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ- ব্যাখ্যা করো। ঘ. স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'কুব্বাতুস-সাখরা' হলো উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যেটি Dom of the Rock নামে পরিচিত। খ. খলিফা আবদুল মালিক রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং রাষ্ট্রে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদাদান করেন অর্থাৎ আরবি ভাষা জাতীয়করণ করেন। খলিফা আবদুল মালিকের রাজত্বকাল উমাইয়া বংশের সবচেয়ে গৌরবময় যুগ। তার শাসননীতি মূলত আরব জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশের জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি শাসনক্ষমতায় বসে দেখলেন যে আরব মুসলিমরা রাজ্যশাসন করলেও মূলত অনারব জনগোষ্ঠীই উমাইয়া খিলাফতের প্রশাসন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করছে। ফলে আরব মুসলিম শাসননীতি কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণেই খলিফা আবদুল মালিক আরবি ভাষাকে জাতীয়করণ করেন। গ. উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ। মুদ্রা হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু আবদুল মালিকের পূর্বে আরবদের কোনো নিজস্ব মুদ্রা ছিল না। ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। এই সংস্কারেরই প্রতিফলন ঘটেছে রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কারের ক্ষেত্রে। রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। খলিফা আবদুল মালিকের সংস্কারের ক্ষেত্রেও এমনটি দৃষ্টিগোচর হয়। তার সময়ে সাম্রাজ্যে তিন ধরনের মুদ্রা প্রচলিত ছিল। যেমন- বাইজান্টাইনে Dinarious, পারস্যে Darkmah এবং দক্ষিণ ইয়েমেনে Athene নামক মুদ্রা চালু ছিল। এতে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল ছিল না। মুদ্রা বিনিময়ের সমস্যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসুবিধা দেখা দিত। এছাড়া মুদ্রার ছাপ ও মূল্য নির্ণয় একেবারে অনির্ধারিত থাকায় বাজারে অনায়াসে জাল মুদ্রা প্রচলিত হতো। এসব কারণে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলনের জন্য ৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে জাতীয় টাকশাল গঠন করেন। তিনি দিনার, দিরহাম ও ফালুস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রার প্রচলন করেন। মুদ্রাগুলোকে জাতীয়করণ ও আরবীয়করণের জন্য মুদ্রায় ক্রসের পরিবর্তে আরবি বর্ণমালা লেখা হয়। সুতরাং বোঝা যায়, রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘ. স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আবদুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটি যথার্থ। ইসলামের ইতিহাসে রাজেন্দ্র নামে পরিচিত আবদুল মালিক উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা বলে উমাইয়া সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। এ বলিষ্ঠ চরিত্রের মন ছিল শিল্পানুরাগী। তার মার্জিত রুচিবোধের সামান্য প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের রাজার মধ্যে। উদ্দীপকের রাজা আলমগীর সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন। স্থাপত্য শিল্পে তার এ অবদান সকলের দৃষ্টি কাড়লেও এগুলো আবদুল মালিকের অবদানের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আবদুল মালিক শিল্প, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নির্মাতা হিসেবে তার কৃতিত্ব অপরিসীম। দজলা নদীর পশ্চিম তীরে সামরিক শহর 'ওয়াসিত' ও আল আকসা মসজিদ তার স্থাপত্য কীর্তির উজ্জ্বল নিদর্শন। তবে স্থাপত্য শিল্পে তার সবচেয়ে বড় কীর্তি হচ্ছে 'কুব্বাতুস সাখরা বা Dom of the Rock নামক একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা ইবনে জুবায়েরের শাসনাধীন মক্কার কাবাগৃহের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবদুল মালিক ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে একটি স্থাপত্য কীর্তি নির্মাণ করেন। এটি ছিল মহানবি (স)-এর মিরাজের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র পাথরের ওপর নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির স্থাপত্য শিল্প। এছাড়া তিনি দামেস্কে মহাফেজখানা বা সরকারি দলিল-দস্তাবেজখানা স্থাপন করেন। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, উদ্দীপকের রাজা স্থাপত্য শিল্পে যে উন্নয়ন করেছেন তার চেয়ে খলিফা আবদুল মালিকের অবদান অনেক বেশি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। কেন্দ্রিয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। ব্যবসা বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটে। প্রচলিত ডাক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করেন। সাম্রাজ্যের সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন, যা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এভাবে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন।

ক.

'কুব্বাতুস-সাখরা' কী?

খ.

খলিফা আব্দুল মালিক কর্তৃক আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও। 

গ.

উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ- ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।