ক.
পরিবার হলো এমন একটি সংগঠন যেখানে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে পুরুষ ও মহিলা একত্রে বসবাস করে এবং সন্তান লালন-পালনসহ অন্যান্য ভূমিকা পালন করে।
খ.
গ্রামীণ এলিট বলতে তাদেরকেই বোঝায় যারা গ্রাম সমাজের ক্ষমতাকাঠামোতে সর্বোচ্চ স্তরে থাকেন। আর গ্রাম সমাজে ক্ষমতাভিত্তিক সামাজিক স্তরবিন্যাসে সর্বোচ্চ স্তরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অবস্থান। ক্ষমতার ভিত্তিতে তারা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তারা সাধারণত ভূমি মালিক তথা ধনী কৃষক পরিবারের সদস্য হয়ে থাকেন এবং বিত্ত ও প্রতিপত্তির প্রভাবে ক্ষমতাধর হন। গ্রামীণ যেকোনো বিচার কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন। একারণেই তাদেরকে গ্রামীণ এলিট বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানটি সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞাতিসম্পর্ক প্রত্যয়কে নির্দেশ করে। জ্ঞাতিসম্পর্ক বলতে রক্ত, বিবাহ, কল্পনা, বন্ধুত্ব, দত্তক গ্রহণ ইত্যাদি বন্ধনসূত্রে আবদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্কে বোঝায়।
বাংলাদেশে চার ধরনের জ্ঞাতি সম্পর্কের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। যথা- ১. জৈবিক বন্ধন বা রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতি সম্পর্ক; ২. বৈবাহিক বন্ধন; ৩. কাল্পনিক বন্ধন এবং ৪. প্রথাগত বন্ধন। আর উদ্দীপকে এই চার ধরনের জ্ঞাতি সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখকৃত * মামা, কাকা হলো রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতি, দেবর/ভাসুর বৈবাহিক জ্ঞাতি, মিতা, সই হলো প্রথাগত বন্ধন এর জ্ঞাতি, বেয়াই, বিয়াইন হলো বৈবাহিক জ্ঞাতি, পালকপুত্র, পালক কন্যা হলো কাল্পনিক কন্ধন জাতি। বাংলাদেশের জ্ঞাতি সম্পর্কের অধিকাংশ রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতি যা রক্তসম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত'। যেমন- দাদা-পিতা-ছেলে সম্পর্ক রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতি।
বিয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ককে বৈবাহিক জ্ঞাতি বলে যেমন- স্বামী-স্ত্রী, দেবর-ভাসুর। রক্ত বা বৈবাহিক সূত্রে এ আবন্ধ নয় এরূপ ব্যক্তিদের সাথে আমরা জ্ঞাতিদের মত আচরণ করলে সেটিকে কাল্পনিক জ্ঞাতি বলে। যেমন- পালক পুত্র/কন্যা। অনেক সময় আমরা প্রতিবেশীদের সাথে বা, চেনা পরিচিতদের সাথে জাতি সম্পর্কের মতো আচরণ করি। আর তাকে প্রথাগত বন্ধনের জ্ঞাতি বলে। অতএব বলা যায়, সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞাতিসম্পর্ক প্রত্যয়টি উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ.
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত প্রত্যয়টি তথা জ্ঞাতি সম্পর্ক গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে বিশেষ প্রভাব রাখে। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতে বংশমর্যাদা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
যা সক্রিয় উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখে। আর এই বংশমর্যাদা বংশের সদস্যদের তথা রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতিদের ওপর নির্ভর করে। রক্তের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ককে রক্ত সম্পর্কীয় জ্ঞাতি সম্পর্ক বলে। আর এই রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকে নিয়েই তথা রক্তসম্পর্কের জ্ঞাতিদেরকে বংশ বলা হয়। অর্থাৎ বংশমর্যাদার ভিত্তিতে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো মূলত জ্ঞাতি সম্পর্কের ভিত্তিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। গ্রামের হিন্দু সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতে বংশমর্যাদা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর হিন্দু সমাজের বংশমর্যাদা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত অর্থাৎ তা জ্ঞাতি সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। আবার গ্রামের মুসলিম সমাজের ক্ষমতাকাঠামোতে জ্ঞাতি সম্পর্কের সূত্রে প্রাপ্ত উচ্চবংশীয় পদবিধারী যেমন চৌধুরী, মিয়া, ভূঁইয়া, কাজী পদবিধারী ব্যক্তিগণ উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বলে বিবেচিত হন।
অর্থাৎ জাতিসম্পর্কের সদস্যদের মর্যাদা তথা বংশমর্যাদা গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর প্রকৃতি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একারণে, গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে জ্ঞাতিসম্পর্ক বিশেষ প্রভাব রাখে।