Facebook Pixel

রাকিব বুয়াইয়া বংশের ইতিহাস সম্পর্কে পড়ছিল। আব্বাসীয় বংশের দুর্বল শাসকদের সময়ে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে যে সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বংশের উত্থান ঘটে বুয়াইয়া বংশ তাঁর মধ্যে অন্যতম। বুয়াইয়া বংশের শাসকগণ এই আব্বাসীয় বংশের ইতিহাস তৈরিত্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। নিষ্ঠুরতা ,, অযোগ্যতা , আত্মকলহ ও শিয়া - সুন্নি বিরোধ প্রভৃতি কারণে বুয়াইয়া বংশের পতন ঘটে। ক. সম্রাজ্ঞী আইরিন কোথাকার শাসক ছিলেন ? খ. আবু মুসলিম ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন ? গ. উদ্দীপকে ' উল্লিখিত বংশটি কোন আব্বাসীয় ' খলিফার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. তোমার পঠিত উক্ত বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে আজদুদ্দৌলাহর কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সম্রাজ্ঞী আইরিন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন । খ. আব্বাসি খিলাফতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে আবু মুসলিম ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন । আবু মুসলিম একটি নগণ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সামরিক দক্ষতা , বুদ্ধিমত্তা প্রভৃতির মাধ্যমে সাম্রাজ্যের একজন নিয়ামক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি জাবের যুদ্ধে ( ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ ) দ্বিতীয় মারওয়ানকে পরাজিত করতে আব্বাসিদের বিশেষভাবে সহায়তা করেন। ফলে উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটে। পরবর্তীকালে আবু জাফর আল মনসুরের খিলাফতকালে আবদুল্লাহ খিলাফত লাভের জন্য বিদ্রোহ করলে খলিফা কর্তৃক প্রেরিত হয়ে আবু মুসলিম এ বিদ্রোহ দমন করেন। এতে আব্বাসি খিলাফত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারণে আবু মুসলিম ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন । গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বংশটি আব্বাসি খলিফা মুসতাকফীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। আব্বাসি খিলাফতের দুর্বলতা ও অযোগ্যতার সুযোগে নবম শতাব্দী থেকেই এর অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও প্রায় স্বাধীন রাষ্ট্রশক্তির অভ্যুদয় ঘটে। এসব রাষ্ট্রশক্তির মধ্যে একটি ছিল বুয়াইয়া । শিরাজ থেকে দাইলামি শাসকেরা আব্বাসি সাম্রাজ্যের ওপর সবেগে চড়াও হয় এবং ইরাকের আল ওয়াসিত দখল করে। এ সময় তারা রাজধানী বাগদাদ আক্রমণ করতে উদ্যত হয় এবং সেখানকার খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় তৎকালীন দুর্বল ও বিলাসপ্রিয় আব্বাসি খলিফা মুসতাকফী ( ৯৪৪ - ৪৬ ) তুর্কি বাহিনীর ঔদ্ধত্য ও দৌরাত্ম্যে উদ্বিঘ্ন হয়ে আবু সুজা বুয়াইয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আহম্মদকে রাজধানীতে আহ্বান করেন। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে আহম্মদ ১৪৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে বাগদাদে প্রবেশ করলে তুর্কি আমির আবু জাফর এবং তুর্কি বাহিনী ভয়ে পলায়ন করে । এভাবে আহম্মদ বাগদাদে প্রবেশ করে শাসক বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। আহম্মদের পিতা বুয়াইয়ার নামানুসারে এর নামকরণ হয় বুয়াইয়া বংশ। খলিফা আহম্মদকে তার আমির - উল - উমারাহ নিযুক্ত করেন এবং মুইজ - উদ - দৌলাহ ' উপাধিতে ভূষিত করেন। সুতরাং বোঝা যায় , আব্বাসি খলিফা মুসতাকফী বুয়াইয়াদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন । ঘ. উক্ত বংশ অর্থাৎ বুয়াইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক আজদুদ্দৌলা সাম্রাজ্য পরিচালনায় ব্যাপক কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন । বুয়াইয়া বংশের নয়জন আমির - উল - উমারার মধ্যে আজদুদ্দৌলাহ ছিলেন শ্রেষ্ঠ। তার সময়েই বুয়াইয়ার শক্তি সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত হয়। আজদুদ্দৌলা শুধু বুয়াইয়াদের মধ্যেই শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন না ; বরং সেই সময়ের বিখ্যাত শাসক ছিলেন । আজউদ্দৌলার পূর্ববর্তী আমিররা শুধু ' সুলতান ' উপাধি গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকলেও তিনি সর্বপ্রথম ' সুলতান যিনি ' সুলতান ও ‘ শাহানশাহ ' উভয়ই উপাধি গ্রহণ করেন । ক্ষমতালিপ্সু সুলতান আজদুদ্দৌলা খিলাফত , মনি - মুক্তা খচিত মুকুট , রাষ্ট্রীয় পতাকা , তরবারি , ব্রেসলেট প্রভৃতি তাকে প্রদানের জন্য খলিফাকে বাধ্য করেন। তিনি শুক্লবারের খুতবাতে আজদুদ্দৌলাহ নাম পাঠের আদেশ দেন । তিনি স্বার্থপর ও ক্ষমতালোভী হলেও প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি বহু মসজিদ , স্কুল , কলেজ , হাসপাতাল , রাস্তাঘাট নির্মাণ ও খাল খনন করেন। তিনি ইরাকের সেচব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। জ্ঞান - বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট উদার ছিলেন । তার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল চিকিৎসা শাস্ত্রে। বাগদাদের সর্বশ্রেষ্ঠ হাসপাতাল ‘ আল - বিমারিস্তান আল - আজুদি ' তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময়ের কয়েকজন পণ্ডিত ও জ্ঞানী , গুণী হলেন — আবু ফরিসী , ঐতিহাসিক আবুল হাসান আল - মাসুদি। আল - ফারাবি প্রমুখ। আজদুদ্দৌলা স্থাপত্য শিল্পেরও একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। হযরত আলি ( রা ) এর কবরস্থান বলে কথিত নাজাফে তিনি একটি অপূর্ব সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। তার খ্রিষ্টান উজির নসর ইবন হারুন রাজ্যে অনেক দৃষ্টিনন্দন গির্জা ও মঠ নির্মাণ করেন। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় , বুয়াইয়া সুলতান আজদুদ্দৌলা সাম্রাজ্যের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখেন । এ জন্যই তিনি তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাকিব বুয়াইয়া বংশের ইতিহাস সম্পর্কে পড়ছিল। আব্বাসীয় বংশের দুর্বল শাসকদের সময়ে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে যে সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বংশের উত্থান ঘটে বুয়াইয়া বংশ তাঁর মধ্যে অন্যতম। বুয়াইয়া বংশের শাসকগণ এই আব্বাসীয় বংশের ইতিহাস তৈরিত্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। নিষ্ঠুরতা,, অযোগ্যতা, আত্মকলহ ও শিয়া-সুন্নি বিরোধ প্রভৃতি কারণে বুয়াইয়া বংশের পতন ঘটে।

ক.

সম্রাজ্ঞী আইরিন কোথাকার শাসক ছিলেন ?

খ.

আবু মুসলিম ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন ?

গ.

উদ্দীপকে ' উল্লিখিত বংশটি কোন আব্বাসীয় ' খলিফার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

তোমার পঠিত উক্ত বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে আজদুদ্দৌলাহর কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।