Facebook Pixel

রক্তাক্ত সংগ্রামের পর 'ক' রাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের এক বছরের মধ্যেই তারা পৃথিবীর একটি অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। যা গোটা বিশ্বে প্রশংসিত হয়। ক. 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ' গঠিত হয় কবে? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের কয়েকটি কারণ লেখো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে তোমার পঠিত কোনো দেশের সংবিধানের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধান অনুযায়ী 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ' গঠিত হয়। খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রধান কারণ ছিল আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসন এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর দীর্ঘদিনের শোষণ ও বঞ্চনা। জেনারেল আইয়ুব খানের স্বৈরাচারীমূলক শোষণবাদী শাসন বাংলার মানুষকে অতিষ্ঠ করে তোলে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্যদের বন্দি করা, ছাত্রদের ১১ দফা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা দাবি আদায় এবং আসাদ ও ড. শামসুজ্জোহার হত্যাকাণ্ড এই গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল। মূলত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন থেকে মুক্তি পেতেই বাংলার আপামর জনতা রাজপথে নেমে আসে যা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশ সংবিধানের সাদৃশ্য আছে। সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিল। এই দলিল লিখিত বা অলিখিত হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। বঙ্গবন্ধু সরকারের নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসে সদিচ্ছা, আন্তরিকতা আর জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি সৎ থেকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণীত হয়। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ এই সংবিধান লাভ করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ৮ নং অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। যা বাংলাদেশের সংবিধানের ইঙ্গিতবহ। কেননা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছিল। আবার, উক্ত রাষ্ট্রের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে রাখা হয় যা বাংলাদেশ সংবিধানেরও মূলনীতি। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধান তথা বাংলাদেশ সংবিধানে 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস'- কথাটি যথার্থ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস'। বাংলাদেশ সংবিধানের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যেখানে জনগণ তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। জনগণ প্রত্যক্ষভাবে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনা করবে। অর্থাৎ এ সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করে সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে।' প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের ক্ষমতায়ন স্বীকারের পাশাপাশি মৌলিক অধিকারকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। আইন ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যাতে ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। সর্বক্ষেত্রে জনগণের ক্ষমতায়ন হলেও দেশ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আইনের দ্বারা প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও অন্যভাবে বিধিব্যবস্থা করার অধিকার থাকবে। জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে দেশের সর্বত্র অবাধে চলাফেরা, এর যেকোনো স্থানে বসবাস, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার, শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার সকলের থাকবে। পরিশেষে বলা যায়, গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই সংবিধানে গণতন্ত্র তথা জনগণের ক্ষমতায়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রক্তাক্ত সংগ্রামের পর 'ক' রাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের এক বছরের মধ্যেই তারা পৃথিবীর একটি অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। যা গোটা বিশ্বে প্রশংসিত হয়।

ক.

'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ' গঠিত হয় কবে?

খ.

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের কয়েকটি কারণ লেখো।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে তোমার পঠিত কোনো দেশের সংবিধানের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধান অনুযায়ী 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' নামক দেশটি এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশটি মাত্র এক বছরের মধ্যে এ...

'P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দুষ্পরবির্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অ...

Q. (?) চিহ্নিত স্থানে বাংলাদেশ সংবিধানের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?

'X' রাষ্ট্রটির সংবিধান লিখিত এবং দুষ্পরিবর্তনীয়। দেশটিতে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতি শাসন...

'Y' রাষ্ট্রের জনস্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কিছু নাগরিক অধিকার রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। ঐ সকল অধিকার খর্ব হলে নাগরিকদের আ...

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

ক. BSTI-এর পূর্ণরূপ কী? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত অংশের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপ...

ক. সংবিধান কী? খ. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বোঝ? গ. 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সংবিধানের ...

ক. সার্বজনীন ভোটাধিকার কী? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে কোন দেশের সংবিধানকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর...

ক. স্পিকার কী? খ. অ্যটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব কী? গ. উদ্দীকের বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন বিষয়টির সাথে সাদৃশ্য বিদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।