Facebook Pixel

'X' রাষ্ট্রটির সংবিধান লিখিত এবং দুষ্পরিবর্তনীয়। দেশটিতে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতি শাসন প্রচলিত। সেখানে আইনসভা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। ক. বাংলাদেশ সংবিধানের ভাগ কতটি? খ. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটির সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধর। ঘ. তোমার দেশের সাথে উক্ত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সাদৃশ্য ও বৈসাদশা চিহ্নিত কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশ সংবিধানের ভাগ ১১টি। খ. যে মহান আদর্শে অদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জনগণ জাতীয় স্বাধীনতার জন্য এক ঐতিহাসিক সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, সেই আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার যে নীতি সংযোজন করা হয়েছে তাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এ চারটি নীতির উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ৯, ১০, ১১ ও ১২ নং অনুচ্ছেদে এসব নীতির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। গ. উদ্দীপকের 'X' রাষ্ট্রে সংবিধানের প্রথম বৈশিষ্ট্যই লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। আকারের ভিত্তিতে সংবিধানকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়- লিখিত ও অলিখিত সংবিধান। যে সংবিধানের সকল বিধান সুস্পষ্টভাবে লিখিত থাকে তাকে লিখিত সংবিধান বলে। অন্যদিকে, যে সংবিধানের কোনো বিধান সহজে সাধারণ আইনের ন্যায় পরিবর্তন করা যায় না তাকে দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলে। সেই অর্থে 'X রাষ্ট্রে দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান প্রবর্তিত। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা 'X' দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আইনসভা ও শাসন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকারব্যবস্থা দুই রকম হয়। মন্ত্রিপরিষদ ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা। মন্ত্রিপরিষদ সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ আইনসভার নিকট দায়ী থাকে এবং জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। আইনসভার আস্থা হারালো মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করতে বাধ্য থাকে। ক্ষমতা বণ্টন নীতির ওপর সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেহেতু 'X' রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার তাই এখানে সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রে ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে- এরূপ ধারণা করা যায়। কোনো দেশে আইনসভার একটি আবার কোনো দেশে নিম্ন ও উচ্চ কক্ষ নামে দুটি কক্ষ থাকে। 'X' রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকাটাই স্বাভাবিক। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা। ঘ. আমার দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে উদ্দীপকের 'X' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুটোই পরিলক্ষিত হয়। 'X' রাষ্ট্রের সংবিধান লিখিত ও সুপরিবর্তনীয় এ দুটি বৈশিষ্ট্যের সাথে বাংলাদেশে সংবিধানের হুবহু মিল লক্ষণীয়। বাংলাদেশের সংবিধান একটি. লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। এ সংবিধান ১টি প্রস্তাবনা ৪টি তফসিল (বর্তমানে ৭টি) ১১টি ভাগ ও ১৫৩টি অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ করা হয়েছে। সাধারণ আইনের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করা যায় না। এর কোনো ধারা বা অংশ পরিবর্তন করতে হলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়। দুই রাষ্ট্রের সংবিধানই সংসদীয় তথা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার সন্নিবেশিত হয়েছে। তাই ধারণা করা যেতে পারে বাংলাদেশের মতো 'X' রাষ্ট্রেও শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে এবং আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করতে বাধ্য। দুই রাষ্ট্রের সংবিধানের মধ্যে বড় বৈসাদৃশ্য হলো 'X' রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। সে বিচারে 'X' রাষ্ট্রে সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে এ কথা বলা যায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সংবিধান এককেন্দ্রিক সরকার বিদ্যমান থাকায় এখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পূর্ণ কেন্দ্রের থেকে পরিচালনা করা হয়। এখানে ভাগাভাগির কোনো -সুযোগ নেই। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও স্থানীয় শাসনের সহযোগিতায় সরকার পরিচালিত হলেও এসব ইউনিটের ওপর থাকে কেন্দ্রের একচেটিয়ে নজরদারী। অন্য একটি বৈসাদৃশ্য হলো 'X' রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এ জাতীয় আইনসভায় দুটি কক্ষ থাকে যেমন- নিম্ন কক্ষ ও উচ্চ কক্ষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নকক্ষের নাম প্রতিনিধি সভা এবং উচ্চকক্ষে নাম সিনেট। কিন্তু বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ এবং এটি এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য যাই থাক না কেন, 'X' রাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সংবিধানে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে-একথা বলা যেতে পারে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

$'X'$ রাষ্ট্রটির সংবিধান লিখিত এবং দুষ্পরিবর্তনীয়। দেশটিতে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতি শাসন প্রচলিত। সেখানে আইনসভা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট।

ক.

বাংলাদেশ সংবিধানের ভাগ কতটি?

খ.

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটির সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধর।

ঘ.

তোমার দেশের সাথে উক্ত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সাদৃশ্য ও বৈসাদশা চিহ্নিত কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' নামক দেশটি এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশটি মাত্র এক বছরের মধ্যে এ...

'P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দুষ্পরবির্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অ...

Q. (?) চিহ্নিত স্থানে বাংলাদেশ সংবিধানের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?

'Y' রাষ্ট্রের জনস্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কিছু নাগরিক অধিকার রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। ঐ সকল অধিকার খর্ব হলে নাগরিকদের আ...

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

ক. BSTI-এর পূর্ণরূপ কী? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত অংশের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপ...

ক. সংবিধান কী? খ. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বোঝ? গ. 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সংবিধানের ...

ক. সার্বজনীন ভোটাধিকার কী? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে কোন দেশের সংবিধানকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর...

ক. স্পিকার কী? খ. অ্যটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব কী? গ. উদ্দীকের বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন বিষয়টির সাথে সাদৃশ্য বিদ...

ক. ভাষা আন্দোলন কত সালে সংঘটিত হয়? খ. ছয় দফাকে বাংলার মুক্তি সনদ বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানটি তো...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।