Facebook Pixel

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইংল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পুনর্গঠনে সরকার মি. সুকান্তকে প্রধান করে একটি "সামাজিক বিমা ও আন্তবিভাগীয় তদন্ত কমিটি” গঠন করে। কমিটি দু'বছর যাবৎ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পর্যবেক্ষণপূর্বক সুপারিশমালা প্রদানের সময় সীমাহীন অভাব, অজ্ঞতা, স্বাস্থ্যহীনতা, মলিনতা ও কর্মবিমুখতাকে দারিদ্র্যের কারণ হিসেবে অভিহিত করে বলে, "সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই কেবল এরূপ পরিস্থিতি থেকে ইংল্যান্ডের মানুষকে বাঁচাতে পারে”। ক. স্পিনহ্যামল্যান্ড অ্যাক্ট কত সালে প্রণীত হয়? খ. দরিদ্র আইন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকটি ইতিহাসের যে রিপোর্টটিকে ইঙ্গিত করছে তা চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো। ঘ. শেষের উক্তিটি কোন কোন কর্মসূচিকে নির্দেশ করছে? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: সমাজকর্ম ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৭৯৫ সালে স্পিনহ্যামল্যান্ড অ্যাক্ট প্রণীত হয়। খ. মূলত দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভিক্ষাবৃত্তি মোকাবিলায় চতুর্দশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকার কর্তৃক যে সব আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয় সেগুলোকেই দরিদ্র আইন বলা হয়। দরিদ্র আইন একটি সামগ্রিক ও সাধারণ পরিভাষা। দরিদ্র আইনের ভিত্তিভূমি হিসেবে ইংল্যান্ডকে বিবেচনা করা হয়। দরিদ্র আইনগুলোর মধ্যে ১৫৩১ সালের রাজা অষ্টম হেনরি প্রণীত দরিদ্র আইন, ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন, শ্রমিক আইন, দরিদ্র সংস্কার আইন-১৮৩৪ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গ. উদ্দীপকের সাথে সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে বিভারিজ রিপোর্টের সাদৃশ্য রয়েছে। আধুনিক ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রবর্তনে ১৯৪২ সালের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। স্যার উইলিয়াম বিভারিজের সামাজিক নিরাপত্তা রিপোর্ট অনুযায়ী এই কর্মসূচি গৃহীত হয়। উদ্দীপকটিতেও অনুরূপ একটি রিপোর্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে একটি দেশের আর্থ - সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার জন্য মি . সুকান্তকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তিনি সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দেন। এই রিপোর্টে তিনি সমস্যার পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করেন। বিভারিজ রিপোর্টেও একইরকম পাঁচটি প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ ছিল। বিভারিজের রিপোর্ট অনুসারে এই পঞ্চদৈত্য তৎকালীন দারিদ্র্যপীড়িত ইংল্যান্ডের সমাজজীবনকে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে রেখেছিল। এগুলো হলো - অভাব , রোগ , অজ্ঞতা , মলিনতা ও অলসতা। বিভারিজের মতে , এই পঞ্চদৈত্য বা পাঁচটি সমস্যাই ছিল ইংল্যান্ডের সার্বিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় বা প্রতিবন্ধক। এজন্য তিনি এসব সমস্যা সমাধানে সুপারিশ প্রদান করেছিলেন। কাজেই দেখা যাচ্ছে , উদ্দীপকে আলোচিত রিপোর্টের সাথে বিভারিজ রিপোর্টের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের শেষের উক্তিটি তৎকালীন ইংল্যান্ডে বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিকে নির্দেশ করছে। ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কাঠামো স্যার উইলিয়াম বিভারিজের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়। বিভারিজ রিপোর্ট মূলত ইংল্যান্ডে আধুনিক সমাজকল্যাণমূলক আইনের ভিত্তি রচনা করে। বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তায় সামাজিক বিমা , পারিবারিক ভাতা , শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বা শিল্প দুর্ঘটনা বিমা , সরকারি সাহায্য , জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রভৃতি প্রণয়ন করা হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য , বার্ধক্য ও পঙ্গু বিমা , শিশু জন্ম - মৃত্যুর জন্য বিশেষ ভাতা , পরিবারে দুইয়ের অধিক ১৮ বছরের কমবয়সী সন্তানের জন্য ভাতা , শিল্প দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ , দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে সমাজের দুঃস্থ , অসহায় ও দরিদ্ররা সরকারিভাবে আর্থিক সাহায্য পেতে থাকে। অনেকের কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় জনগণের চিকিৎসার চাহিদাও পূরণ হয়। এভাবে বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এর ফলে ইংল্যান্ড কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে। উদ্দীপকে ' ক ' দেশ দ্বারা ইংল্যান্ডকে বোঝানো হয়েছে। ইংল্যান্ডে ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্টের আলোকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। আলোচনার পরিশেষে বলা যায় , ইংল্যান্ডের কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জনে বিভারিজ রিপোর্ট ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাই এর অবদান অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইংল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পুনর্গঠনে সরকার মি. সুকান্তকে প্রধান করে একটি "সামাজিক বিমা ও আন্তবিভাগীয় তদন্ত কমিটি” গঠন করে। কমিটি দু'বছর যাবৎ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পর্যবেক্ষণপূর্বক সুপারিশমালা প্রদানের সময় সীমাহীন অভাব, অজ্ঞতা, স্বাস্থ্যহীনতা, মলিনতা ও কর্মবিমুখতাকে দারিদ্র্যের কারণ হিসেবে অভিহিত করে বলে, "সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই কেবল এরূপ পরিস্থিতি থেকে ইংল্যান্ডের মানুষকে বাঁচাতে পারে”।

ক.

স্পিনহ্যামল্যান্ড অ্যাক্ট কত সালে প্রণীত হয়?

খ.

দরিদ্র আইন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকটি ইতিহাসের যে রিপোর্টটিকে ইঙ্গিত করছে তা চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

শেষের উক্তিটি কোন কোন কর্মসূচিকে নির্দেশ করছে? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

COS-এর পূর্ণরূপ কী?

CSWE স্বীকৃত সমাজকর্ম শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে কোথায়?

'Lectures on the Industrial Revolution in England' প্রশ্নটির লেখক কে?

NASW কোন দেশের সমাজকর্মীদের সংগঠন?

NASW পেশাদার সমাজকর্মীদের জন্য সর্বপ্রথম পেশাদার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেন?

Q. উপরের চক্রটি কী বোঝাচ্ছে?

X, Y এবং Z ইংল্যান্ডের একই এলাকার বাসিন্দা। 'X' একজন সুস্থ সবল যুবক। সে ভিক্ষা করতে পছন্দ করে। 'Y' বার্ধক্যজনিত কারণে অক...

COS এর পূর্ণরূপ কোনটি ?

ক. প্যারিশ কী? খ. অক্ষম দরিদ্র কারা? গ. উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে কোন প্রত্যয়টির ইঙ্গিত রয়েছে? উক্ত প্রত্যয়ের সুপারিশম...

ক. বিভারিজ রিপোর্ট কী? খ. সমাজকর্মকে সাহায্যকারী পেশা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে ইঙ্গিতকৃত প্রত্যয়টি ব্যা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।