Facebook Pixel

যুক্তি-১: সানির রক্তের রং হয় লাল। আদির রক্তের রং হয় লাল। রানীর রক্তের রং হয় লাল। সকল মানুষের রক্তের রং হয় লাল। যুক্তি-২: এ পর্যন্ত যত তেঁতুল খেয়েছি সবই টক। অতএব সকল তেঁতুল হয় টক। ক. সাদৃশ্যানুমান কাকে বলে? খ. পূর্ণাঙ্গ আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে যুক্তি-১ এ কোন ধরনের আরোহ অনুমানের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. পাঠ্যবইয়ের আলোকে যুক্তি-১ ও যুক্তি ২-এর পার্থক্য লেখ।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

উৎস: Board Exam Question ChB 2024

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে আরোহ অনুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করে তাদের মধ্যে নতুন কোনো বিষয়ে সাদৃশ্য অনুমান করা হয় তাকে সাদৃশ্যানুমান বলে। খ. প্রকৃত আরোহ হতে গেলে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকতে হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে এটি অনুপস্থিত। তার পরও কিছু যুক্তিবিদ একে প্রকৃত আরোহ বলেছেন। কারণ পূর্ণাঙ্গ আরোহ আকৃতিগত দিক থেকে প্রকৃত আরোহ। পূর্ণাঙ্গ আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার ওপর কিছুটা নির্ভরতা আছে, যার কারণে একে প্রকৃত আরোহ বলা হয়। গ. উদ্দীপকে যুক্তি-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকাশিত হয়েছে। কেননা বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা জানি, যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির। নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। বৈজ্ঞানিক আরোহ বাস্তব ঘটনা পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। বৈজ্ঞানিক আরোহ যেহেতু প্রকৃত আরোহ, সেহেতু আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত। অর্থাৎ এ আরোহে জানা থেকে অজানায় বা বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন করা হয়। বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হওয়ায় উদ্দেশ্য সমন্ধে নতুন তথ্য দিয়ে থাকে। উদ্দীপকে যুক্তি-১ এ সানি, আদি ও রানীর রক্তের রং লাল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে- সকল মানুষের রক্তের রং হয় লাল। এই যুক্তিতে আশ্রয়বাক্যগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঘটনাবলির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত গঠন করা হয়েছে। এখানে জানা থেকে অজানায় যাওয়া হয়েছে। বাস্তব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং এটি একটি বৈজ্ঞানিক আরোহ। ঘ. যুক্তি-১ এ বাস্তব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বৈজ্ঞানিক আরোহ ও যুক্তি-২ এ তেঁতুলের স্বাদ টক। এই অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে "সকল তেঁতুল হয় টক।" সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকাশিত হয়েছে। এ দুটি প্রকৃত আরোহের মধ্যে বহুবিধ পার্থক্য বিদ্যমান। প্রথমত, বৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সিদ্ধান্ত স্থাপনের পূর্বে ঘটনাবলিকে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুটি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল নয়। এতে শুধু প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর আস্থা রেখে কয়েকটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি সিদ্ধান্তে গমন করা হয়। দ্বিতীয়ত, বৈজ্ঞানিক আরোহে অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করা হয়। তাই এর সিদ্ধান্তে উভয় প্রকার দৃষ্টান্তের ভূমিকা থাকে। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে শুধু অনুকূল দৃষ্টান্তসমূহ প্রত্যক্ষ করা হয়। অর্থাৎ এ আরোহে প্রতিকূল দৃষ্টান্ত রহিত অভিজ্ঞতা থেকে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৃতীয়ত, বৈজ্ঞানিক আরোহের লক্ষ্য হলো প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কার ও প্রমাণ করা। এ কারণেই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ শুধু প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ আরোহে কার্যকারণ নিয়মের কোনো স্থান নেই। চতুর্থত, কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে বৈজ্ঞানিক আরোহে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় বলে এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে কার্যকারণ সম্বন্ধ ছাড়াই কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় বলে 'এর সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2024)

যুক্তি-১: সানির রক্তের রং হয় লাল।

আদির রক্তের রং হয় লাল।

রানীর রক্তের রং হয় লাল।

সকল মানুষের রক্তের রং হয় লাল।

যুক্তি-২: এ পর্যন্ত যত তেঁতুল খেয়েছি সবই টক। অতএব সকল তেঁতুল হয় টক।

ক.

সাদৃশ্যানুমান কাকে বলে?

খ.

পূর্ণাঙ্গ আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকে যুক্তি-১ এ কোন ধরনের আরোহ অনুমানের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

পাঠ্যবইয়ের আলোকে যুক্তি-১ ও যুক্তি ২-এর পার্থক্য লেখ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।