ক.
যেসব আরোহের মধ্যে আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য আরোহাত্মক উল্লম্ফন বিদ্যমান থাকে না সেসব আরোহকে অপ্রকৃত আরোহ বলে।
খ.
অবৈজ্ঞানিক আরোহে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রকার আরোহে তাই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বিদ্যমান থাকে; কিন্তু কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না। যেহেতু এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না, তাই এখানে কোনো প্রতিকূল দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করা হয় না। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয়ে থাকে। কেননা কোনো একটি প্রতিকূল দৃষ্টান্ত পাওয়া গেলে সমগ্র সিদ্ধান্তটি মিথ্যা হয়ে যায়।
গ.
এ উদ্দীপকের যুক্তি-১ এর দৃশ্যমান আরোহটি হচ্ছে বৈজ্ঞানিক আরোহ।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে যে আরোহ অনুমান বিশেষ 'বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। বৈজ্ঞানিক আরোহ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার সময় অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত। তাই এখানে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে, সামান্য থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। যার ফলে এখানে নতুন জ্ঞানের সন্ধান মিলে। এ আরোহে সিদ্ধান্তটি সবসময় সার্বিক বাক্য হয়, যা কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন-
ইলিশ হয় মরণশীল।
বুই হয় মরণশীল।
কাতলা হয় মরণশীল।
$\therefore$ সকল মাছ হয় মরণশীল।
উদাহরণটিতে ইলিশ, কাতলা, রুই মাছের মৃত্যু দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে, সকল মাছ হয় মরণশীল। এখানে মাছের সাথে মরণশীলতার একটি কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই উদাহরণটি বৈজ্ঞানিক আরোহের একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত। আলোচ্য উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রক্রিয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাই এটি বৈজ্ঞানিক আরোহ।
ঘ.
এ যুক্তি-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং যুক্তি-২ এ অবৈজ্ঞানিক আরোহের পরিচয় পাওয়া যায়। এ বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে যে সম্পর্ক তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহ প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত। এ উভয় প্রকার আরোহই সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ এদের সিদ্ধান্তটি হয় সার্বিক বাক্য এবং বাক্যের বিধেয় উদ্দেশ্য সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করে।
২. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহে আরোহাত্মক উল্লম্ফন বা আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান থাকে। এ আরোহাত্মক উল্লম্ফনের মাধ্যমে উভয় প্রকার আরোহে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে গমন করা হয়। অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে সমগ্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৩. অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভরশীল। আবার বৈজ্ঞানিক আরোহও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর ভিত্তি করেই উভয় প্রকার আরোহে কিছু থেকে সকলে গমন করা সম্ভব হয়।
৪. বৈজ্ঞানিক আরোহে ঘটনার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অবৈজ্ঞানিক আরোহেও ঘটনার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৫. অবৈজ্ঞানিক আরোহ বৈজ্ঞানিক আরোহের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ অবৈজ্ঞানিক আরোহই আমাদের বৈজ্ঞানিক আরোহের দিকে ঠেলে দেয়। অবৈজ্ঞানিক আরোহ বৈজ্ঞানিক আরোহে পৌছাবার সোপান হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
তাই বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত। উভয় প্রকার আরোহই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে এবং উভয়ের মধ্যে আরোহাত্মক উল্লম্ফন বা আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান থাকে। তাই বলা যায়, এরা উভয়ে বিভিন্ন দিক দিয়ে সম্পর্কিত।