Facebook Pixel

মেয়েটির নাম পুষ্পাঞ্জলি। দেখতে খুবই সুন্দরী ছিল। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল অজয় দাসকে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী মারা যাওয়ায় মেয়েটি ভীষণ ভেঙে পড়ে। কারণ তাদের সমাজে মেয়েদের দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ নেই। সে সময় আবির্ভূত হন এক মহান মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব, যার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। এর ফলে মেয়েটি দ্বিতীয় বিয়ে করে অমানবিক অবস্থা থেকে মুক্তি পান। ক. ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. সতীদাহ প্রথা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে কোন সমাজ সংস্কার আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনের অবদান মূল্যায়ন কর।

বিষয়: সমাজকর্ম ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়

উৎস: Board Exam Question DB 2025, Board Exam Question Combined 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা রামমোহন রায়। খ. সতীদাহ প্রথা হলো প্রাচীন হিন্দু-সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় আত্মহুতি দিতে বাধ্য করা হতো। সতীদাহ প্রথা ছিল এক ধরনের নিপীড়ন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ, যা নারীর প্রতি বৈষম্য ও অবিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এটি ছিল সমাজের ভয়াবহ অনাচার। পরবর্তীতে আইন প্রণয়ন করে সতীদাহ প্রথাকে বিলোপ করা হয়। গ. উদ্দীপকে সমাজ সংস্কারমূলক বিধবা বিবাহ আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই আন্দোলনটি মূলত হিন্দু সমাজে বিধবাদের করুণ জীবন এবং তাদের পুনরায় বিয়ে করার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল। বিধবা বিবাহ বলতে এমন একটি প্রথা বোঝায় যেখানে কোনো নারীর স্বামী মারা গেলে সে নতুন করে বিয়ে করতে পারে। প্রাচীন হিন্দু সমাজে বিধবারা নানা কুসংস্কার ও অবহেলার শিকার হতো এবং তাদের স্বামী মারা গেলে পুনরায় বিয়ে করার সুযোগ ছিল না। এই অবমাননাকর প্রথা উচ্ছেদের জন্য বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যার ফলস্বরূপ বিধবা বিবাহের প্রচলন ঘটে এবং বিধবা নারীরা মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নতুন জীবনের সুযোগ লাভ করে। উদ্দীপকের পুষ্পাঞ্জলির গল্পে দেখা যায়, সমাজে বিধবাদের দ্বিতীয় বিয়ের কোনো সুযোগ ছিল না, যা তাদের জীবনকে অমানবিক করে তুলেছিল। এই অমানবিক অবস্থার অবসানের জন্য একজন মানবতাবাদী ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হয়, যিনি বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালান। তার এই আন্দোলনের ফলেই ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়, যা বিধবাদের নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। এই আইনটি ছিল তৎকালীন সমাজের একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজ সংস্কারমূলক বিধবা বিবাহ আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বিধবা বিবাহ আন্দোলনকে, যার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। বিধবা বিবাহ প্রচলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। তিনি কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং যুক্তির মাধ্যমে তাঁর আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান। প্রথমেই তিনি শাস্ত্রী যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব'-এ প্রমাণ করেন যে বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ নয়। এটি তৎকালীন সমাজের রক্ষণশীলদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জবাব ছিল। তিনি কেবল শাস্ত্রীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বিধবা বিবাহের পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠনে মনোনিবেশ করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে সমাজের সাধারণ মানুষের সমর্থন ছাড়া এই আন্দোলন সফল হবে না। তাঁর নিরলস প্রচারণার ফলস্বরূপ ব্রিটিশ সরকারও এই আইনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে। এরপর তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে একটি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়। বিদ্যাসাগরের এই আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য আসে যখন ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে বিধবাদের পুনর্বিবাহ আইনত বৈধতা লাভ করে। আইন প্রণয়ন করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং এটি সমাজে কার্যকর করার জন্য নিজেই উদ্যোগী হয়ে প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করেন এবং আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন। সুতরাং বলা যায়, বিদ্যাসাগরের এই আন্দোলন শুধু একটি আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল সমাজের একটি মানবিক ও প্রগতিশীল চিন্তার প্রতিফলন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2025)Combined Board (2025)

মেয়েটির নাম পুষ্পাঞ্জলি। দেখতে খুবই সুন্দরী ছিল। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল অজয় দাসকে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী মারা যাওয়ায় মেয়েটি ভীষণ ভেঙে পড়ে। কারণ তাদের সমাজে মেয়েদের দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ নেই। সে সময় আবির্ভূত হন এক মহান মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব, যার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। এর ফলে মেয়েটি দ্বিতীয় বিয়ে করে অমানবিক অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

ক.

ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?

খ.

সতীদাহ প্রথা বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে কোন সমাজ সংস্কার আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনের অবদান মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Means of Social Control' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

'Reform' শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী?

Social Change Agent হিসেবে পরিচিত কে?

Society কোন শব্দ থেকে এসেছে?

'Charitas' শব্দের অর্থ কী?

ক. দেবোত্তর কী? খ. সামাজিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়? গ. বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ণনা কর। ঘ. উদ্...

ক. মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত কে? খ. সামাজিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে 'খ' দ্বারা সমাজকর্মের সাথে সম্পর্কিত কোন...

ক. পেশা শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে? খ. জনকল্যাণমুখিতা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের কোন দিকটি...

ক. সেবায়েত কে? খ. সামাজিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থান সমাজকর্মের কোন প্রত্যয়কে নির্দেশ করছে? ব্য...

ক. বৃত্তি কী? খ. এতিমখানা বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে? প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে কোন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি বসব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।