ক.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
খ.
সামাজিক উন্নয়ন একটি গতিশীল ধারণা, যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা দেয়। সামাজিক উন্নয়ন শব্দটিকে অর্থগত দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, সামাজিক বিষয়াদির। উন্নয়নই হলো সামাজিক উন্নয়ন। কিন্তু সমাজকর্মের দৃষ্টিতে সামাজিক উন্নয়ন প্রত্যয়টির অর্থ আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত। সামাজিক উন্নয়ন বহুধারায় বিভক্ত মানব জীবনকেন্দ্রিক একটি বিকাশমুখী প্রচেষ্টা। সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া সমাজকর্মের পূর্ণাঙ্গ রূপলাভ অসম্ভব। সমাজকর্মের বিভিন্ন কর্মকান্ড মূলত সামাজিক উন্নয়ন ধারণারই বহিঃপ্রকাশ।
গ.
উদ্দীপকে 'খ' দ্বারা সমাজকর্মের সাথে সম্পর্কিত অন্যতম প্রত্যয় সামাজিক নিরাপত্তাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আধুনিক শিল্পসমাজে মানুষের আর্থিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার যে প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে, তাকে সামাজিক নিরাপত্তা বলা হয়। আকস্মিক অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্যজনিত নির্ভরশীলতা, পেশাগত দুর্ঘটনা বা অকাল মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে সৃষ্ট আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এটি মূলত রাষ্ট্র কর্তৃক আয়ের একটি ব্যবস্থা। সাধারণত সামাজিক বিমা, সামাজিক সাহায্য এবং সমাজসেবা- এই তিন ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
উদ্দীপকে 'খ' হলো সামাজিক নিরাপত্তা। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে মানুষ যখন নিজের সমস্যা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়, তখন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সহায়তা নিশ্চিত করে। এটি মূলত একটি কর্মসূচি যার কোনো নিজস্ব পদ্ধতি ও কৌশল নেই, বরং এটি সমাজের দুর্বল ও অভাবী মানুষের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য আইন ও নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বার্ধক্য অসুস্থতা, বেকারত্ব বা দুর্ঘটনার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা থেকে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলার এ ব্যবস্থা বিশেষভাবে সহায়ক।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে 'খ' প্রত্যয়টি এ বৈশিষ্ট্যগুলো উপরে আলোচিত সামাজিক নিরাপত্তার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা। যায়, উদ্দীপকে 'খ' সামাজিক নিরাপত্তাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' হলো যথাক্রমে সমাজকর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তা এদের সম্পর্ক সুনিবিড়।
সমাজকর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রত্যয় দুটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সমাজকর্ম আজ যে পেশাদার ভূমিকার অবতীর্ণ হয়েছে, তা অনেকটাই সম্ভব হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তনের কারণে। মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যেই সমাজকর্মের আধুনিকতার বীজ রোপিত হয়। সমাজকর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রায় - এক ও অভিন্ন। সমাজকর্ম যেমন মানুষের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি সমস্যার সমাধানপূর্বক সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলে, তেমনি। সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় শ্রেণির মৌল-মানবিক চাহিদা পূরণ ও উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। সমাজকর্ম ব্যক্তির সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন করে মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে প্রগতিশীল সমাজ গঠনে উদ্যোগী হয়। বর্তমানে ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা একটি অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। সমাজকর্ম ব্যক্তি ও পরিবারকে এই অধিকার ও নিরাপত্তা লাভে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। সামাজিক নিরাপত্তার যথার্থ প্রয়োগ ও অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজকর্ম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে একটি সৌহার্দমূলক পরিবেশ সৃষ্টিতে একে অপরের সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
একটি উন্নত সমাজ গঠনে সমাজকর্ম যে কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়, সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি সেই পদক্ষেপকে যথার্থভাবে রূপায়ণ করে।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' তে উল্লিখিত সমাজকর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তা গভীরভাবে সম্পর্কিত।