ক.
পেশা শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Professor থেকে এসেছে।
খ.
জনকল্যাণমুখিতা হলো জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হওয়া। প্রত্যেক পেশার জনকল্যাণমুখী হওয়া আবশ্যক। পেশা অর্থই হলো সমাজের প্রতিটি মানুষের সেবা করা। তাই পেশাকে জনস্বার্থের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হয়। কেননা জনকল্যাণবিরোধী কোনো কাজ পেশার মর্যাদা পেতে পারে না।
গ.
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানটিতে সমাজকর্মের পেশাগত মূল্যবোধ বসবে। এর কারণ হলো, সমাজকর্ম পেশা কিছু নির্দিষ্ট মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। এ মূল্যবোধগুলো সমাজকর্মীর পেশাগত আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অনুশীলনকে প্রভাবিত করে।
সমাজকর্ম পেশার মূল্যবোধ হলো পেশা হিসেবে সমাজকর্ম অনুশীলনের মানদণ্ড, যার সাহায্যে সমাজকর্ম পেশা সুশৃঙ্খলভাবে এবং পরিকল্পনামাফিক পরিচালিত হয়ে থাকে। সমাজকর্ম পেশার মূল্যবোধগুলো হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সকলের সমান অধিকার, ব্যক্তির মূল্য ইত্যাদি।
উদ্দীপকে. উল্লিখিত সকলের সমান সুযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা সবগুলো সমাজকর্ম পেশার মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। সমাজকর্ম সকলের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। সমাজকর্ম ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, প্রত্যেকের স্বকীয়তাকে মূল্যায়ন করে এবং এমন একটি পরিবশে তৈরি করতে সচেষ্ট থাকে যেখানে মানুষ নিজের জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। আত্মনিয়ন্ত্রণের এ অধিকারকে সমাজকর্ম দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে, যাতে ব্যক্তি নিজস্ব ক্ষমতা ও পছন্দ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারে।
অতএব বলা যায়, এই মূল্যবোধগুলো সমাজকর্ম পেশার নৈতিক ভিত্তি। এই মূল্যবোধগুলো মেনে চলার মাধ্যমে একজন সমাজকর্মী পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে পারে এবং সমাজে উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ঘ.
সমাজকর্ম পেশার উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত দিকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজকর্ম পেশার এ মূল্যবোধগুলো সমাজকর্মীদের নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে এবং তাদের পেশাদারিত্বকে উন্নত করে।
সকলের সমান সুযোগ: এ নীতি সমাজকর্মীদের বৈষম্যহীন সেবা প্রদানের জন্য উৎসাহিত করে। যখন একজন সমাজকর্মী সকল ব্যক্তিকে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সেবা দেন, তখন তার পেশাদারিত্বের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। এর ফলে সমাজে কোনো ব্যক্তিই তার জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত হয় না। এটি পেশার গ্রহণযোগ্যতাকে বৃদ্ধি করে।
গণতান্ত্রিক অধিকার: গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ একজন সমাজকর্মীকে ক্লায়েন্টের মতামতকে গুরুত্ব দিতে শেখায়। ক্লায়েন্ট তার সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। এতে ক্লায়েন্ট সমাজকর্মী সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয় এবং পেশার মান উন্নত হয়। এটি সমাজকর্মীকে স্বৈরাচারী মনোভাব পরিহার করতে এবং সহযোগী হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে।
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার: সমাজকর্মের একটি মৌলিক নীতি হলো ক্লায়েন্টের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারকে সম্মান করা। যখন একজন সমাজকর্মী ক্লায়েন্টকে তার জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়, তখন ক্লায়েন্ট তার সমস্যা সমাধানে আরও বেশি দায়িত্বশীল হয়। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মান বাড়াতে সাহায্য করে। এই নীতি সমাজকর্মীকে নির্দেশ দেয় যেন তারা ক্লায়েন্টের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দেয়, যা পেশার নৈতিকতাকে উন্নত করে।
ব্যক্তিস্বাধীনতা: ব্যক্তিস্বাধীনতা নীতি সমাজকর্মীকে শিখিয়ে দেয় যে প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং জীবনধারা রয়েছে। একজন সমাজকর্মীকে অবশ্যই ক্লায়েন্টের এই স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এটি সমাজকর্মীকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে কাজ করতে এবং তাদের প্রতি সংবেদনশীল হতে সাহায্য করে। এর ফলে সমাজকর্মীরা আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর সেবা প্রদান করতে পারে।
অতএব, বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত এ দিকগুলো সমাজকর্ম পেশার মূল্যবোধের অংশ। এগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করার মাধ্যমেই সমাজকর্ম পেশার তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয় এবং পেশাগত মান উন্নত হয়