Facebook Pixel

মুদ্রাস্ফীতির ফলে ভূমিহীন কৃষক, গরিব জনসাধারণ, মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের লোকদের পক্ষে জীবনযাত্রা নির্বাহ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যয়, ব্যাংক হার পরিবর্তন, কর, খোলাবাজার নীতি, সরকারি ঋণ ও নগদ জমার অনুপাত পরিবর্তন ইত্যাদি হাতিয়ার ব্যবহার করে থাকে। ক. মুদ্রাস্ফীতি কী? খ. প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপক হতে আর্থিক নীতি ও রাজস্বনীতির হাতিয়ারসমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত কর। ঘ. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ কীভাবে কাজ করে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question JB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে অর্থনৈতিক অবস্থায় পণ্য বা দ্রব্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। (খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা ভূমিকম্পের কারণে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে বাজারে পণ্যের জোগান হ্রাস পায়। কিন্তু অর্থের জোগান অপরিবর্তিত থাকলে, চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ার কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। এভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে উৎপাদন হ্রাস পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। (গ) উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে হাতিয়ারসমূহের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোকে আর্থিক নীতি ও রাজস্ব নীতিতে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়: আর্থিক নীতির হাতিয়ার রাজস্ব নীতির হাতিয়ার ১. ব্যাংক হার পরিবর্তন ১. সরকারি ব্যয় ২. খোলাবাজার নীতি ২. কর ৩. নগদ জমার অনুপাত পরিবর্তন ৩. সরকারি ঋণ (ঘ) মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে কাজ করে। আর্থিক নীতি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত সেই পদক্ষেপ যার মাধ্যমে অর্থের জোগান ও সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা হয়। উদ্দীপকের আলোকে আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ যেভাবে কাজ করে তা নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমে এবং বাজারে অর্থের জোগান হ্রাস পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ২. খোলাবাজার নীতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র বা বন্ড বিক্রি করে, তখন জনগণের ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা হয়। ফলে বাজারে অর্থের সরবরাহ কমে যায় এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পাওয়ার ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হয়। ৩. নগদ জমার অনুপাত বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি বড় অংশ নগদ জমা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে বাধ্য করে, তবে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে বাজারে ঋণের প্রবাহ হ্রাস পায় এবং অর্থের জোগান কমে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পায়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ মূলত বাজারে অর্থের জোগান কমিয়ে চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2025)

মুদ্রাস্ফীতির ফলে ভূমিহীন কৃষক, গরিব জনসাধারণ, মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের লোকদের পক্ষে জীবনযাত্রা নির্বাহ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যয়, ব্যাংক হার পরিবর্তন, কর, খোলাবাজার নীতি, সরকারি ঋণ ও নগদ জমার অনুপাত পরিবর্তন ইত্যাদি হাতিয়ার ব্যবহার করে থাকে।

ক. মুদ্রাস্ফীতি কী? খ. প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপক হতে আর্থিক নীতি ও রাজস্বনীতির হাতিয়ারসমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত কর। ঘ. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ কীভাবে কাজ করে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।