Facebook Pixel

মি. 'X' এর দেশে সরকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ, সরকারি বায় বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে জাতীয় মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি ঘটায়। ফলস্বরূপ সামগ্রিক চাহিদার বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। মি. 'Y' এর দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, উপকরণ সংকট ইত্যাদি কারণে সামগ্রিক যোগান হ্রাস পায় ও মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। ক. CPI-এর পূর্ণরূপ লেখো। খ. মুদ্রাস্ফীতির ফলে ঋণগ্রহীতা কীভাবে সুবিধা ভোগ করে-ব্যাখ্যা করো। গ. X ও Y এর দেশের মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবের তুলনা করো। ঘ. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ কোন দেশে বেশি কার্যকর এবং কেন? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question ChB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) CPI-এর পূর্ণরূপ হলো Consumer Price Index। (খ) মুদ্রাস্ফীতির ফলে ঋণগ্রহীতারা লাভবান হয়। মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাজারে পণ্যের দামস্তর বৃদ্ধি পায়, যার ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। ঋণগ্রহীতা যখন ঋণ গ্রহণ করেছিল, তখন অর্থের যে ক্রয়ক্ষমতা ছিল, মুদ্রাস্ফীতির সময় সেই একই পরিমাণ অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ফলে ঋণগ্রহীতাকে প্রকৃত অর্থে কম মূল্যের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এভাবে ঋণের প্রকৃত ভার হ্রাস পাওয়ায় ঋণগ্রহীতারা সুবিধা ভোগ করে। (গ) উদ্দীপকে মি. 'X'-এর দেশে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি এবং মি. 'Y'-এর দেশে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে। চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি ঘটে যখন সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক যোগানের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। মি. 'X'-এর দেশে সরকারি মেগা প্রকল্প ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির কারণ। অন্যদিকে, ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি ঘটে যখন উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক যোগান হ্রাস পায়। মি. 'Y'-এর দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি ও উপকরণ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং সামগ্রিক যোগান হ্রাস পাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। প্রভাবের দিক থেকে, চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি সাধারণত অর্থনীতির প্রসারণের সাথে যুক্ত থাকে এবং এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিতে দামস্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন হ্রাস পায়, যা অর্থনীতির জন্য অধিক ক্ষতিকর। তাই মি. 'X'-এর দেশের মুদ্রাস্ফীতি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর হলেও মি. 'Y'-এর দেশের মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য অধিক উদ্বেগের কারণ। (ঘ) মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ মি. 'X'-এর দেশে অর্থাৎ চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সাধারণত রাজস্ব নীতি ও আর্থিক নীতি ব্যবহার করে। চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যয় হ্রাস, কর বৃদ্ধি এবং ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে জনগণের হাতে অর্থের জোগান কমিয়ে সামগ্রিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মি. 'X'-এর দেশে যেহেতু সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলেই মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে, তাই সরকার সহজেই ব্যয় সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি গ্রহণ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। অন্যদিকে, মি. 'Y'-এর দেশে মুদ্রাস্ফীতির কারণ হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উপকরণ সংকট, যা মূলত যোগান-সংক্রান্ত সমস্যা। যোগানজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাজস্ব নীতি বা আর্থিক নীতি খুব একটা কার্যকর হয় না, কারণ এখানে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বা যোগান বাড়ানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ। সরকার চাইলেই দুর্যোগ বা উপকরণ সংকট রাতারাতি দূর করতে পারে না। তাই মি. 'Y'-এর দেশের তুলনায় মি. 'X'-এর দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ অধিক কার্যকর।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2022)

মি. 'X' এর দেশে সরকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ, সরকারি বায় বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে জাতীয় মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি ঘটায়। ফলস্বরূপ সামগ্রিক চাহিদার বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। মি. 'Y' এর দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, উপকরণ সংকট ইত্যাদি কারণে সামগ্রিক যোগান হ্রাস পায় ও মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।

ক. CPI-এর পূর্ণরূপ লেখো। খ. মুদ্রাস্ফীতির ফলে ঋণগ্রহীতা কীভাবে সুবিধা ভোগ করে-ব্যাখ্যা করো। গ. X ও Y এর দেশের মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবের তুলনা করো। ঘ. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ কোন দেশে বেশি কার্যকর এবং কেন? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।