Facebook Pixel

মি. সোহান একটি কোম্পানির দুর্দিনে তার কর্ণধার হিসেবে নিযুক্তি পান। কোম্পানিটির উন্নতির জন্য তিনি ব্যয় সংকোচন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে কোম্পানিকে পতনের হাত হতে রক্ষা করেন । কোম্পানির উন্নয়নের স্বার্থে তিনি কোনো ন্যায়নীতির তোয়াক্কা করতেন না। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি ছিলেন চরম দুর্নীতিপরায়ণ। শেষ পর্যন্ত তাকে দবিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় । ক. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কত সালে সংঘটিত হয়? ১ খ. রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর । ২ গ. উদ্দীপকের মি. সোহানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন গভর্নর জেনারেলের সংস্কারমূলক কাজের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর । ৩ ঘ. উদ্দীপকের মি. সোহানের মতো দুর্নীতিই কি তার পতন ডেকে এনেছিল?— বিশ্লেষণ কর ৪

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ কোম্পানি আমল

উৎস: Board Exam Question SB 2019, Board Exam Question DiB 2019, Board Exam Question DB 2019, Board Exam Question CB 2019, Board Exam Question ChB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে) সংঘটিত হয়। (খ) ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট বা নিয়ামক আইন হলো ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও ভারতে কোম্পানির শাসনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে প্রণীত প্রথম আইন। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে কোম্পানির গভর্নরকে 'গভর্নর জেনারেল' পদে উন্নীত করা হয় এবং তার কাজের তদারকির জন্য চার সদস্যের একটি নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়। এটি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক, কারণ এর মাধ্যমেই ব্রিটিশ সরকার প্রথমবারের মতো কোম্পানির শাসনের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়া শুরু করে। (গ) উদ্দীপকের মি. সোহানের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের সংস্কারমূলক কাজের ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের গভীর মিল রয়েছে। লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর এবং পরবর্তীতে ১৭৭৪ সালে ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের মি. সোহানের মতো হেস্টিংসও কোম্পানির চরম আর্থিক সংকটের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কোম্পানিকে দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার সাধন করেন। তবে এই সংস্কারের আড়ালে তিনি অনেক সময় ন্যায়নীতির তোয়াক্কা করতেন না। যেমন, তিনি সম্রাট শাহ আলমের বার্ষিক ২৬ লাখ টাকার ভাতা বন্ধ করে দেন এবং অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে এলাহাবাদ ও কারা জেলা দুটি বিক্রি করে দেন। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি অর্থ উপার্জনের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, যা তাকে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করেছিল। উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. সোহানের দুর্নীতিপরায়ণতা এবং কোম্পানির স্বার্থে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতা হেস্টিংসের শাসনকালের কর্মকাণ্ডের সাথে হুবহু মিলে যায়। (ঘ) উদ্দীপকের মি. সোহানের মতো দুর্নীতি এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডই লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের পতন বা তার রাজনৈতিক জীবনের বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, উক্তিটি যথার্থ। ওয়ারেন হেস্টিংস তার শাসনামলে কোম্পানির আর্থিক উন্নতির জন্য অনেক কঠোর ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তার এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে বারানসির রাজা চৈৎ সিংহের ওপর অন্যায়ভাবে জরিমানা আরোপ এবং অযোধ্যার বেগমদের ওপর অমানবিক আচরণ ছিল অন্যতম। এই ঘটনাগুলো ইংল্যান্ডে তার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ১৭৮৫ সালে তিনি পদত্যাগ করে ইংল্যান্ডে ফিরে গেলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়। উইলিয়াম পিট এবং এডমন্ড বার্কের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সাত বছর ধরে বিচারকার্য চলে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি অভিযোগ থেকে মুক্তি পান, কিন্তু এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে তার সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় হয়ে যায় এবং তিনি আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তার প্রতি কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। সুতরাং, উদ্দীপকের মি. সোহানের মতো হেস্টিংসের ব্যক্তিগত দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিক অর্থ উপার্জনের লালসাই শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের পতন নিশ্চিত করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2019)Dinajpur Board (2019)Dhaka Board (2019)Cumilla Board (2019)Chattogram Board (2019)

মি. সোহান একটি কোম্পানির দুর্দিনে তার কর্ণধার হিসেবে নিযুক্তি পান। কোম্পানিটির উন্নতির জন্য তিনি ব্যয় সংকোচন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে কোম্পানিকে পতনের হাত হতে রক্ষা করেন । কোম্পানির উন্নয়নের স্বার্থে তিনি কোনো ন্যায়নীতির তোয়াক্কা করতেন না। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি ছিলেন চরম দুর্নীতিপরায়ণ। শেষ পর্যন্ত তাকে দবিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় ।

ক. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কত সালে সংঘটিত হয়? ১

খ. রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর । ২

গ. উদ্দীপকের মি. সোহানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন গভর্নর জেনারেলের সংস্কারমূলক কাজের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর । ৩

ঘ. উদ্দীপকের মি. সোহানের মতো দুর্নীতিই কি তার পতন ডেকে এনেছিল?— বিশ্লেষণ কর ৪

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Z' একটি বড় রাজ্যের শাসন ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর আশেপাশের ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর দিকে দৃষ্টি দেন। তিনি দেখেন যে পরস্পর বিবদম...

অমল কৃষ্ণ মণ্ডল 'ক' অঞ্চলের প্রশাসক হয়ে আসার পর তিনি ত এলাকায় কুসংস্কার, অশিক্ষা দূর করার জন্য এলাকার অধিবাসীদের। সচেত...

আরবের জাহেলিয়া যুগে নারীদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিলনা। এ সময় কন্যা সন্তানের জন্ম ছিল অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার। প্রধান...

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। এ সময় কন্যা সন্তান জন্ম দিলে তাকে জীবন্ত কবর দিত। তারা কন্যা স...

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। এ সময় কন্যাসন্তান জন্মের পরে তাকে জীবন্ত কবর দিত। তারা কন্যা স...

একটি বহুজাতিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় পরিচালনার জন্য কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপ...

“ক' একটি বিশাল রাজ্য। এ রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছিল। সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন অঞ্চলের, বিভিন্ন জা...

করিম রহিমকে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানায় । উদ্দীপকের করিমের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ইংরেজ শাসকের ম...

করিম রহিমকে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানায় । উল্লিখিত শাসকের নীতির মূল লক্ষ্য কী ছিল?

কী কারণে লর্ড বেন্টিঙ্ককে ভিক্টোরিয়ান যুগের মূর্ত প্রতীক বলা হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।