Facebook Pixel

মি. জোসেফ ব্রিটিশ উপনিবেশিক অঞ্চলের একটি রাজনৈতিক দলের প্রখ্যাত নেতা। তিনি ঐ অঞ্চলের সকল জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁর দলের বার্ষিক সভায় একটি সুপারিশমালা পেশ করেন। তাঁর সুপারিশমালায় ঐ অঞ্চলগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের সাথে স্বাধীন অঙ্গরাজ্যসমূহের সম্পর্ক কী হবে বা সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ছিল না । ক. তিতুমীরের পূর্ণ নাম কী? খ. দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. জোসেফের সুপারিশমালার সাথে তোমার পঠিত কোন বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত বিষয়টির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) তিতুমীরের পূর্ণ নাম হলো সৈয়দ মীর নিসার আলী। (খ) দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ১৯৪০ সালের ২২-২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর সভাপতির ভাষণে এই তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। জিন্নাহর মতে, হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক রীতি, সংস্কৃতি ও জীবনধারার অনুসারী, তাই তারা জাতীয়তার মানদণ্ডে পৃথক দুটি জাতি। এই তত্ত্বের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. জোসেফের সুপারিশমালার সাথে আমার পঠিত ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। লাহোর প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে একত্রিত করে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করা। উদ্দীপকে মি. জোসেফ তাঁর দলের বার্ষিক সভায় যে সুপারিশমালা পেশ করেন, সেখানেও একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের ইঙ্গিত ছিল। লাহোর প্রস্তাবে ভারতের বিভিন্ন মুসলিম প্রধান অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম অঙ্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল, যা উদ্দীপকের মি. জোসেফের প্রস্তাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া, লাহোর প্রস্তাবে কেন্দ্রের সাথে অঙ্গরাজ্যগুলোর সম্পর্ক এবং সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ছিল না, যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে যায়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি অর্থাৎ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি: লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবি উত্থাপিত হয়। এটি ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপ দেয় এবং পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ২. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসন: তৎকালীন সময়ে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য চরমে পৌঁছেছিল। লাহোর প্রস্তাব এই সংকট নিরসনে একটি রাজনৈতিক সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা মুসলমানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। ৩. স্বায়ত্তশাসনের অনুপ্রেরণা: লাহোর প্রস্তাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের যে কথা বলা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে পূর্ব বাংলার জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনায় লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসনের দাবিটিই প্রতিফলিত হয়েছিল। ৪. বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট: লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হলেও পাকিস্তানি শাসকরা প্রস্তাবের মূল চেতনা থেকে সরে আসে। এর ফলে পূর্ব বাংলার বাঙালিরা শোষণের শিকার হয় এবং লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে কেন্দ্র করেই তারা পরবর্তীতে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাব কেবল পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেনি, বরং এটি বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার চেতনার মূলে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)

মি. জোসেফ ব্রিটিশ উপনিবেশিক অঞ্চলের একটি রাজনৈতিক দলের প্রখ্যাত নেতা। তিনি ঐ অঞ্চলের সকল জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁর দলের বার্ষিক সভায় একটি সুপারিশমালা পেশ করেন। তাঁর সুপারিশমালায় ঐ অঞ্চলগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের সাথে স্বাধীন অঙ্গরাজ্যসমূহের সম্পর্ক কী হবে বা সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ছিল না ।

ক. তিতুমীরের পূর্ণ নাম কী?

খ. দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. জোসেফের সুপারিশমালার সাথে তোমার পঠিত কোন বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত বিষয়টির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।