Facebook Pixel

মামুন একজন রিকশাচালক। দীর্ঘতম দিন ও প্রচুর গরমের মধ্যে সে আল্লাহর একটি হুকুম পালন করতে সুবহে সাদিক হতে রাত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত আছে। সে জানে এটি একমাত্র ইবাদাত, যার পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন। সাকিব একটি বই পড়ে জানতে পারল যে, রাসুল (সা.)-এর পূর্বেকার যুগে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত বা মুস্তাহাব নামে কোনো পরিভাষা ছিল না। যদিও কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিল শব্দগুলো। পরবর্তীতে ইসলামি সাম্রাজ্যের বিস্তার লাভ করে। তখন শরিয়ত পালন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। হিজরি দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যে কিছু মুজতাহিদ আলেমগণ কুরআন-হাদিসের আলোকে এবং কিয়াস ও ইজমার ভিত্তিতে কিছু ফতোয়া বা সিদ্ধান্ত দেন। তা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয় । ইসলামি শরিয়ত পালনও সহজ হয় । ক. প্রসিদ্ধ মাযহাব কয়টি? খ. হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যা বলার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর । গ. সাকিব বই পড়ে কোন শাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. মামুনের কার্যক্রমের প্রভাব বিশ্লেষণ কর ।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ ফিকহশাস্ত্র

উৎস: Board Exam Question BB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ফিক্‌হশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ মাযহাব চারটি । খ. হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা ও বাস্তব রূপ। সেজন্য হাদিস ছাড়া কুরআন বোঝা সম্ভব নয়। আবার কুরআনকে বাদ দিয়ে হাদিসের ও কোনো নিজস্ব মান নেই। কুরআনের হুকুম আহকামগুলো সব বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা নেই তা হাদিসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণপূর্বক শরিয়তের বিধান হিসেবে আমাদের কাছে আসছে। যার ফলে আমরা সহজেই কুরআন বুঝতে পারি। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে ((أقيموا الصلوة)) অর্থাৎ নামায কায়েম কর। এটুকু নির্দেশের পর হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি সালাত কায়েমের জন্য পবিত্রতা অর্জন করতে হবে, যথাযথ সময়ে নামায পড়তে হবে, রুকু, সিজদা, কিয়াম, বৈঠক সব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হাদিসে ব্যাখ্যা করা হয়েছে । এভাবে কুরআনের ব্যাখ্যা হলো হাদিস। গ. সাকিব বই পড়ে ফিকাহ শাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পারে । ফিক্‌হশাস্ত্র হলো ইসলামি আইনশাস্ত্র। একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়েই এ শাস্ত্রের উদ্ভব হয় । এ শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে আল্লাহর নির্ধারিত হুকুম আহকাম পালনের সঠিক রীতিনীতি, পদ্ধতি নির্দেশ করা এবং এর মাধ্যমে তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের যোগ্য করে তোলা। ইসলামের সব হুকুম-আহকামের মূল উৎস কুরআন ও সুন্নাহ। কিন্তু সর্বসাধারণের পক্ষে সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিধান জেনে নিয়ে তা পালন করা সম্ভব নয়। কেননা কুরআন ও সুন্নায় বিধান পেশের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয় নি। একই বিষয়ের আইন একাধিক জায়গায় বর্ণনার কারণে ইসলামি আইনের অনুশীলন বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব ছিল। এ সমস্যা দূর করে সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামের অনুশীলন সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ফিক্‌হশাস্ত্র কাজ করে। সেজন্য বলা যায়, আল্লাহর আইন অনুশীলন সহজসাধ্য করাই ফিক্‌হশাস্ত্রের অন্যতম উদ্দেশ্য । ঘ. মামুনের ইবাদাতটি হলো— সাওম। আর এর প্রতিদান সম্পর্কে মহান আল্লাহ হাদিসে কুদসিতে বলেছেন, “রোযা আমারই জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব।” (বুখারি) সাওম পালনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা যায়। সব ধরনের অন্যায় কাজ (গুনাহ) বর্জন করা এবং যাবতীয় কল্যাণময় কাজ (সাওয়াবের কাজ) করার নামই তাকওয়া। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন— “হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সাওম ফরজ করা হলো, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের (নবিদের উম্মত) ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সূরা আল-বাকারা : ১৮৩) সাওম পালনকারী একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সাওম পালন করে। সে কারণে আল্লাহ তায়ালা সাওম পালনকারী ব্যক্তিকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই আল্লাহ তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন। সাওম পালনকারী ব্যক্তির পূর্বের গুনাহ আল্লাহ মার্জনা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইমান ও আত্মবিশ্লেষণের সাথে সাওম আদায় করল সে পূর্বকৃত গুনাহ মার্জনা করিয়ে নিল।” (বুখারি ও মুসলিম) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, “যারা রমজানের প্রথম হতে শেষপর্যন্ত সাওম রেখেছে, তারা ওই দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদেরকে নিষ্পাপরূপে প্রসব করেছিলেন ।” রমজান মাসে সাওম পালনকারী ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্যধারণপূর্বক সর্বপ্রকার পাপকার্য, পানাহার এবং ইন্দ্রিয় তৃপ্তি হতে বিরত থাকে। সেজন্য আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেস্ত দান করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “এ মাস ধৈর্যের মাস এবং ধৈর্যের বিনিময় হচ্ছে বেহেস্ত।” (মিশকাত) সুতরাং সাওম পালনের মাধ্যমে মামুন পরকালে আল্লাহর দিদার ও চিরশান্তির আবাস জান্নাত লাভ করবে এটা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2021)

মামুন একজন রিকশাচালক। দীর্ঘতম দিন ও প্রচুর গরমের মধ্যে সে আল্লাহর একটি হুকুম পালন করতে সুবহে সাদিক হতে রাত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত আছে। সে জানে এটি একমাত্র ইবাদাত, যার পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন। সাকিব একটি বই পড়ে জানতে পারল যে, রাসুল (সা.)-এর পূর্বেকার যুগে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত বা মুস্তাহাব নামে কোনো পরিভাষা ছিল না। যদিও কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিল শব্দগুলো। পরবর্তীতে ইসলামি সাম্রাজ্যের বিস্তার লাভ করে। তখন শরিয়ত পালন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। হিজরি দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যে কিছু মুজতাহিদ আলেমগণ কুরআন-হাদিসের আলোকে এবং কিয়াস ও ইজমার ভিত্তিতে কিছু ফতোয়া বা সিদ্ধান্ত দেন। তা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয় । ইসলামি শরিয়ত পালনও সহজ হয় ।

ক. প্রসিদ্ধ মাযহাব কয়টি?

খ. হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যা বলার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর ।

গ. সাকিব বই পড়ে কোন শাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মামুনের কার্যক্রমের প্রভাব বিশ্লেষণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

আব্দুস সালাম প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট মাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। মাগরিবের সময় অনেক মেহমান নিয়ে একসা...

আমিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয় নিয়ে কুরআন ও হাদিস থেকে গবেষণালব্ধ এবং উদ্ভাবিত ইসলামের ব্যাবহারিক...

‘ইমাম আজম’ কার উপাধি?

ইমাম আবু হানিফা (র) জন্মগ্রহণ করেন-

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত পাও...

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত . সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত প...

উমাইয়া খিলাফতের সময়েই ফিকহ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন এক মহান ব্যক্তি, যাকে ইমাম আযম বলা হয়। খলিফা ...

ক. ফিকহশাস্ত্রের মূল উৎস কয়টি? খ. ইমাম শাফেয়ি (র)-একজন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ — ব্যাখ্য করো। গ. চিত্রে 'Y' চিহ্নিত করে ব্যাখ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।