Facebook Pixel

মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (র) বলেছেন, “কুরআন বোঝা হাদিস বোঝার উপর নির্ভরশীল। আর হাদিস অনুধাবন করলে মানুষের ব্যাবহারিক জীবনে প্রয়োজনীয় আইন-কানুন তৈরির শাস্ত্র সম্পর্কে জানা যায়।” এ প্রসঙ্গে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করলেন, “আল্লাহ যার মঙ্গল (কল্যাণ) করতে চান, তাকে দীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করেন। ক. ফিকহশাস্ত্রের জনক কে? খ. “আল-কুরআন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।”— ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মাওলানা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (র)-এর বক্তব্যে ইসলামের যে বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অ চিহ্নিতপূর্বক এটি উৎপত্তির কারণ বিশ্লেষণ করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটির যথার্থতা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ ফিকহশাস্ত্র

উৎস: Test Exam Question ACCD 2024

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ফিকহশাস্ত্রের জনক ইমাম আবু হানিফা (র)। খ. মানুষের সার্বিক জীবন পরিচালনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় আল কুরআনকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান বলা হয়। মানবজীবনের সব সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান গ্রন্থ হলো আল কুরআন । এ গ্রন্থটি আগত-অনাগত, সব মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান । মানুষের জীবনের এমন কোনো প্রসঙ্গ, দিক ও বিষয় নেই, যা আল কুরআনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে সুরা আনআমের ৩৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘এ কিতাবে আমি কোনো কিছু লিপিবদ্ধ করা বাকি রাখিনি।' গ. মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (র)-এর বক্তব্যে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইলমে ফিকহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যুগের প্রয়োজনেই স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভব হয়। মহানবি (স)-এর জীবদ্দশায় এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর ইসলাম প্রসারের সাথে সাথে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়, যা আল্লামা আওয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (র) এর বক্তব্যে পাওয়া যায়। উদ্দীপকে মাওলানা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (র) বলেছেন, কুরআন বোঝা হাদিস বোঝার উপর নির্ভরশীল। আর হাদিস অনুধাবন করলে মানুষের ব্যাবহারিক জীবনে প্রয়োজনীয় আইন-কানুন তৈরির শাস্ত্র সম্পর্কে জানা যায়। যা দ্বারা ফিকহশাস্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইসলামের প্রসার ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। রাসুল (স) এর মৃত্যুর পর সাহাবিগণের যুগে এসে প্রথম ফিকহশাস্ত্রের মতো একটি বিন্যস্ত আইনি গ্রন্থ সংকলনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। সে সময় ইসলামের প্রসারের সাথে সাথে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হতে থাকে। এই সমস্যাগুলোর ওপর তখন কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গবেষণা হতে থাকে। পরবর্তীতে সাহাবিগণের যুগের শেষেও মুসলিম উম্মাহগণ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হিজরি দ্বিতীয় শতকের শুরুর দিকে ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফিকহশাস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ উদ্ভব ঘটে। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটি যথার্থ ও সঠিক, যা দ্বারা ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের ব্যাবহারিক দিকের প্রধান ভিত্তি হলো ফিকহশাস্ত্র । ফিকহ ব্যক্তির জীবন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ করতে পারে। ইসলামি হুকুম আহকাম অনুশীলনের মাধ্যমে সে আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়। সেজন্য পার্থিব জীবনে ইসলামি জীবনযাপন করে পরকালীন মুক্তি এবং পার্থিব শান্তি লাভের জন্য ফিকহের জ্ঞানার্জন অত্যাবশ্যক। এর মাধ্যমে ব্যক্তি দু'জগতেই প্রভূত কল্যাণ লাভ করতে পারে। উদ্দীপকে মাওলানা আওয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (র) একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ যার মঙ্গল করতে চান, তাকে দীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করেন । দীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান দ্বারা মূলত ফিকহের জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে। ফিকহ ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের প্রতীক। এর চর্চা, সাধনা, গবেষণা ও জ্ঞানার্জন মানুষকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তোলে। এর ফলে শরিয়তের সব বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ সম্ভব হয়। ইমাম বায়হাকি (র) বর্ণনা করেছেন, “প্রত্যেক বস্তুরই খুঁটি রয়েছে। আর দীন ইসলামের খুঁটি হলো ফিকহ”। সর্বসাধারণের জন্য দীনকে সহজবোধ্য করার এক অসাধারণ পদ্ধতি হলো ফিকহ। এর মাধ্যমেই ইসলামি হুকুম-আহকাম অনুশীলন করে আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়া যায়। সর্বোপরি, ইসলামি শরিয়তের পূর্ণতা, সর্বজনীনতা, সর্বোকালোপযোগিতা এবং সর্বাধিক যৌক্তিক মানবিকতার বাস্তব নিদর্শন হলো ফিকহশাস্ত্র । সুতরাং কোনোভাবেই একে উপেক্ষা করা যায় না, এর প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। এটির জ্ঞানে দীক্ষিত হওয়া মানুষ আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Adamjee Cantonment College, Dhaka (2024)

মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (র) বলেছেন, “কুরআন বোঝা হাদিস বোঝার উপর নির্ভরশীল। আর হাদিস অনুধাবন করলে মানুষের ব্যাবহারিক জীবনে প্রয়োজনীয় আইন-কানুন তৈরির শাস্ত্র সম্পর্কে জানা যায়।” এ প্রসঙ্গে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করলেন, “আল্লাহ যার মঙ্গল (কল্যাণ) করতে চান, তাকে দীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করেন।

ক. ফিকহশাস্ত্রের জনক কে?

খ. “আল-কুরআন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।”— ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মাওলানা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (র)-এর বক্তব্যে ইসলামের যে বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অ চিহ্নিতপূর্বক এটি উৎপত্তির কারণ বিশ্লেষণ করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটির যথার্থতা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

আব্দুস সালাম প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট মাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। মাগরিবের সময় অনেক মেহমান নিয়ে একসা...

আমিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয় নিয়ে কুরআন ও হাদিস থেকে গবেষণালব্ধ এবং উদ্ভাবিত ইসলামের ব্যাবহারিক...

‘ইমাম আজম’ কার উপাধি?

ইমাম আবু হানিফা (র) জন্মগ্রহণ করেন-

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত পাও...

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত . সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত প...

উমাইয়া খিলাফতের সময়েই ফিকহ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন এক মহান ব্যক্তি, যাকে ইমাম আযম বলা হয়। খলিফা ...

ক. ফিকহশাস্ত্রের মূল উৎস কয়টি? খ. ইমাম শাফেয়ি (র)-একজন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ — ব্যাখ্য করো। গ. চিত্রে 'Y' চিহ্নিত করে ব্যাখ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।