Facebook Pixel

মিশরের ফাতেমীয় খলিফা আল হাকাম ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী শাসক। দেশের জনগণকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, দেশী-বিদেশি পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা দান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভাতা প্রদান, গবেষণাকর্মে উৎসাহ প্রদান প্রভৃতি কার্যাবলির মাধ্যমে তিনি শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ অবদান রাখেন। ক. সর্বশেষ আব্বাসীয় খলিফার নাম কী? খ. রানি জোবাইদা ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিফার শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ডে কোন আব্বাসীয় খলিফার শাসনামলের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফার অবদান মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সর্বশেষ আব্বাসীয় খলিফার নাম আল-মুসতাসিম বিল্লাহ। খ. রাণি জোবাইদা নহরে জুবাইদা খননের জন্য বিখ্যাত। মক্কায় প্রতিবছর হজ মৌসুমে পবিত্র হজব্রত পালন করতে লক্ষ লক্ষ মুসলিমের আগমন ঘটে। কিন্তু এ বিপুল সংখ্যক লোকের অজু, গোসল কিংবা পানীয় জলের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজিদের অসহনীয় দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হতো। তাই ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে হারুন অর রশিদের মহীয়সী স্ত্রী জুবাইদা মক্কাবাসীদের পানির কষ্ট দেখে ১,৫০,০০০ দিনার ব্যয় করে যেখানে একটি খাল খনন করেন। সেই খাল ইসলামের ইতিহাসে নহরে জুবাইদা নামে সুপরিচিত। গ. উদ্দীকের উল্লিখিত খলিফার শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ডে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের শাসনামলের প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকে মিশরের ফাতেমীয় খলিফা আল হাকাম ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী শাসক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, দেশি-বিদেশি পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা দান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভাতা প্রদান, গবেষণাকর্মে উৎসাহ প্রদান প্রভৃতি কার্যাবলির মাধ্যমে তিনি শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ অবদান রাখেন। তার এ শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কাজের সাথে খলিফা আল মামুনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। হারুন অর রশিদের মৃত্যুর পর আমিন ক্ষমতা গ্রহণ করে। কিন্তু আমিন ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বেচ্ছাচারী নীতি গ্রহণ করলে আমিন ও মামুনের মধ্যে গৃহযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। মূলত আব্বাসীয়দের উত্তরাধিকারী নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি না থাকার ফলে ভ্রাতৃদ্বয়ের বিরোধ দেখা দেয়। ভ্রাতৃদ্বয়ের চারিত্রিক বৈসাদৃশ্য তাদের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ। দুই ভাইয়ের মধ্যে আল-মামুন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও ধার্মিক ছিলেন এবং আল আমিন চরিত্রহীন, বিলাসী, আরামপ্রিয় ও চঞ্চল স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। খলিফা আল-মামুন কর্তৃক ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য 'বায়তুল হিকমা' প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত পণ্ডিত, অনুবাদক ও চিকিৎসক হুনাইন বিন ইসহাককে বায়তুল হিকমার পরিচালক পদে নিযুক্ত করে এ প্রতিষ্ঠানকে তিনটি ইউনিটে বিভক্ত করেন। যথা গ্রন্থাগার, শিক্ষানিকেতন ও অনুবাদ বিভাগ। পারসিক, গ্রিক, হিন্দু, খ্রিষ্টান ইত্যাদি সম্প্রদায় ও জাতীয় পণ্ডিতগণ শিক্ষামূলক গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা ও অনুবাদ কাজে নিযুক্ত থাকতেন। ঘ. খলিফা তথা আল-মামুনের আমলে মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়। আব্বাসীয় খিলাফতে শিক্ষা সংস্কৃতির উন্নয়নে আল মামুন প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমার অবদান অপরিসীম। বায়তুল হিকমা সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় গবেষণা, অনুবাদ, আবিষ্কার সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখে। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় উক্ত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বায়তুল হিকমার প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আল মামুনের ব্যাপক অবদানের জন্য তার সময়কে ইসলামের অগাস্টান যুগ বলা হয়। খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত পণ্ডিত, অনুবাদক ও চিকিৎসক হুসাইন ইবনে ইসহাককে বায়তুল হিকমার পরিচালক নিযুক্ত করেন। এ বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি তিনটি ইউনিটে বিভক্ত করেন। যথা-গ্রন্থাগার, শিক্ষা নিকেতন ও অনুবাদ বিভাগ। পারসিক, গ্রিক, হিন্দু, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায় ও জাতির পণ্ডিতগণ শিক্ষামূলক গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা, অনুবাদ কাজে নিযুক্ত থাকতেন। আল-মামুন বিভিন্ন দেশ থেকে গ্রন্থ সংগ্রহ করে তা অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। তিনি বিজ্ঞান গবেষণার জন্য ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে মান মন্দির স্থাপন করে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি গবেষণা কাজের উৎসাহ দেওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করেন। সুতরাং, আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তথা ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্যের ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়। এজন্য তার শাসনব্যবস্থাকে ইসলামের অগাস্টান যুগ বলা হয়

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মিশরের ফাতেমীয় খলিফা আল হাকাম ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী শাসক। দেশের জনগণকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, দেশী-বিদেশি পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা দান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভাতা প্রদান, গবেষণাকর্মে উৎসাহ প্রদান প্রভৃতি কার্যাবলির মাধ্যমে তিনি শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ অবদান রাখেন। 

ক.

সর্বশেষ আব্বাসীয় খলিফার নাম কী?

খ.

রানি জোবাইদা ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিফার শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ডে কোন আব্বাসীয় খলিফার শাসনামলের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। 

ঘ.

মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফার অবদান মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।