Facebook Pixel

মালিহার দেশটি স্বাধীনতার আট বছর পরে একটি সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। সংবিধানে নাগরিকদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলেও জনগণের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিনা কারণেই জনগণকে গ্রেফতার করা হয়। জনগণের ভোটাধিকারসহ সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ক. বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি কয়টি? খ. ছয়দফার দুটি কর্মসূচি সম্পর্কে লিখ। গ. উদ্দীপকের আলোকে সংবিধান স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধাকে কী বলে? বিষয়টি ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের রাষ্ট্রটির জনগণের সাথে তোমার দেশের জনগণের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার তুলনামূলক আলোচনা কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

উৎস: Board Exam Question CB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সংবিধান অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি চারটি। খ. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ছয়দফা কর্মসূচির অন্যতম ২টি দফা হলো- ১. পাকিস্তানের সংবিধান হবে যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং সরকার হবে পার্লামেন্টারি পদ্ধতির। এর যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান ও পার্লামেন্টারি সরকার লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গঠিত হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আইনসভাই হবে সর্বেসর্বা। সরকার যাবতীয় কার্যাবলির জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকবে। সংবিধানে জনগণের পূর্ণ মৌলিক অধিকার রক্ষিত হবে। সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ও সংবিধানের অধীনে সত্যিকারের পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। ২. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের অধীনে কেবল দুটি বিষয় থাকবে- দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র। সরকারের অবশিষ্ট বিষয়গুলো প্রদেশসমূহের হাতে ন্যস্ত থাকবে। গ. উদ্দীপকে যে সমস্ত নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে সেগুলোকে সংবিধানের ভাষায় মৌলিক অধিকার বলা হয়। কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য সংবিধান স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধাই হলো মৌলিক অধিকার। উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী মালিহার দেশের সংবিধানে নাগরিকদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলেও তাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিনা কারণেই জনগণকে গ্রেফতার করা হয়। জনগণের ভোটাধিকার নেই। সভা-সমাবেশের স্বাধীনতাও নেই। এমনকি স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের ক্ষেত্রেও তারা বাঁধার সম্মুখীন হন। উল্লিখিত এ সমস্ত বিষয়ই নাগরিক মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত। তাই বলা যায়, মালিহার দেশের সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ করা আছে। এসব মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী প্রভৃতি কারণে বৈষম্যহীনতা, সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার প্রভৃতি। সুতরাং উল্লিখিত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে মালিহার দেশের জনগণ যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তা মৌলিক অধিকার। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মালিহার দেশের জনগণের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আমার দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার তুলনায় অতি নগণ্য। বাংলাদেশের সংবিধানে জনগনের পূর্ণাঙ্গ মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সন্নিবেশ করা হয়েছে। এসব মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো- আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, চলাফেরার স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা ইত্যাদি। বাংলাদেশের জনগণ সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারসমূহ ভোগ করে থাকে। তারা দৈনন্দিন জীবনে উক্ত সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হয়ে স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে জীবন-যাপন করতে পারছে। পক্ষান্তরে মালিহার দেশের জনগণ এ সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা কিছু সুযোগ- সুবিধা প্রাপ্ত হলেও তাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। তাছাড়া বিনা কারণে গ্রেফতার, ভোটাধিকার না থাকা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা না থাকা, স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বাধা প্রভৃতি বিষয়াবলি মালিহার দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করেছে। তবে বাংলাদেশের নাগরিকগণ উক্ত সমস্ত সুযোগ-সুবিধা লাভ করে থাকে। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের সকল সুযোগ-সুবিধা মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ থাকায় জনগণ তা পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারে। তবে উদ্দীপকে উল্লিখিত মালিহার দেশের জনগণ এ সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2019)

মালিহার দেশটি স্বাধীনতার আট বছর পরে একটি সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। সংবিধানে নাগরিকদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলেও জনগণের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিনা কারণেই জনগণকে গ্রেফতার করা হয়। জনগণের ভোটাধিকারসহ সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

ক.

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি কয়টি?

খ.

ছয়দফার দুটি কর্মসূচি সম্পর্কে লিখ।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে সংবিধান স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধাকে কী বলে? বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের রাষ্ট্রটির জনগণের সাথে তোমার দেশের জনগণের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার তুলনামূলক আলোচনা কর। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' নামক দেশটি এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশটি মাত্র এক বছরের মধ্যে এ...

'P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দুষ্পরবির্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অ...

Q. (?) চিহ্নিত স্থানে বাংলাদেশ সংবিধানের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?

'X' রাষ্ট্রটির সংবিধান লিখিত এবং দুষ্পরিবর্তনীয়। দেশটিতে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতি শাসন...

'Y' রাষ্ট্রের জনস্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কিছু নাগরিক অধিকার রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। ঐ সকল অধিকার খর্ব হলে নাগরিকদের আ...

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

ক. BSTI-এর পূর্ণরূপ কী? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত অংশের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপ...

ক. সংবিধান কী? খ. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বোঝ? গ. 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সংবিধানের ...

ক. সার্বজনীন ভোটাধিকার কী? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে কোন দেশের সংবিধানকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর...

ক. স্পিকার কী? খ. অ্যটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব কী? গ. উদ্দীকের বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন বিষয়টির সাথে সাদৃশ্য বিদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।