ক.
প্রথম 'শিল্প বিপ্লব' প্রত্যয়টির নামকরণ করেছিলেন Arnold Toynbee.
খ.
শিল্প বিপ্লবের ফলে পৃথিবীব্যাপী নতুন নতুন শিল্পকারখানার উদ্ভব হলে মানুষ দলে দলে শ্রমের জন্য কারখানাগুলোতে ভিড় করতে থাকে। অর্থনীতি গড়ে ওঠে শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক। যন্ত্রনির্ভর এই শিল্পকারখানায় কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটতে শুরু করে। কর্মক্ষেত্রে এই দুর্ঘটনাকে পেশাগত দুর্ঘটনা বলে।
গ.
উদ্দীপকে মালেক সাহেবের জীবনে শিল্প বিপ্লবের সামাজিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শিল্প বিপ্লবের ফলে ব্যাপকভাবে সামাজিক সফলতা আসার সাথে সাথে বেশ কিছু সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। শিল্পবিপ্লব সৃষ্ট নেতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে প্রধান যেটি, সেটি যৌথ পরিবার ব্যবস্থায় ভাঙন। শিল্প বিপ্লবের ফলে সমাজজীবনে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমের গতিশীলতা সৃষ্টির কারণে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আকর্ষণে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে ও শিল্পাঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছে। বাসস্থানের স্বল্পতা, স্বল্প মজুরি এবং নির্দিষ্ট আয় ইত্যাদি কারণে পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে শহরে বসবাস করা সম্ভব হয় না। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে পরিবার গঠিত হচ্ছে। শিল্পায়ন সমাজকে এত বেশি বেগবান ও চলমান করে তোলে যে, লোকজনের ভৌগোলিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়া অনিবার্য হয়ে উঠে। স্বভাবতই বৃহদায়তন পরিবার এরূপ সফলতার পথে অন্তরায়। সুতরাং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যৌথ পরিবার ভেঙে দম্পতিকেন্দ্রিকে পরিণত হয়। যেমনটি দেখা যায় মালেক সাহেবের জীবনে। এছাড়াও সামাজিক জীবনে আরো যে বিষয়গুলো দেখা যায় তাহলো- সামাজিক সম্পদের অবনতি, পারিবারিক কার্যাবলি ব্যাহত, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ প্রভৃতি।
উদ্দীপকে মালেক সাহেব চাকরিতে বদলির কারণে রাজশাহীতে তার যৌথ পরিবারটি ভেঙে যায়। তিনি এখন একক পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। ফলে তার পূর্বের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মালেক সাহেবের জীবনের সামাজিক দিকটিই উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ.
মালেক সাহেবের জীবনে শিল্প বিপ্লবের ইতিবাচক প্রভাব পড়লে তার জীবন ভিন্নধর্মী হয়ে উঠত।
শিল্প বিপ্লবের ইতিবাচক প্রভাব পড়লে সামাজিক জীবনে মালেক সাহেব নিজেই সমাজে আত্মপ্রতিষ্ঠা অর্জনে ব্যস্ত হবেন। সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে বৈশ্বিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। গতিশীলতার দরুন বিশ্ব সংস্কৃতির সেতুবন্ধন সৃষ্টি হবে। পুরো বিশ্ব একটি বিশ্বগ্রামে পরিণত হবে। চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি ঘটবে। চিকিৎসা পদ্ধতি, ঔষধ সামগ্রী, টিকা প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ফলে চিকিৎসা সেবা আরও কার্যকর হয়ে উঠবে। নারীর ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণ ভূমিকা পালনে ব্যাপক প্রসার ঘটবে। অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর হবে। শিক্ষা ও জ্ঞানের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসার ঘটবে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মালেক সাহেবের জীবনে ইতিবাচক যে পরিবর্তন আসবে তাহলো- যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। চাকরিক্ষেত্রে তার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। উৎপাদন বা সেবাকর্মে প্রযুক্তির উৎকর্ষের সকল কাজ সহজতর হবে। সেবার ব্যয় বা সময় হ্রাস পাবে। ব্যবসায় বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। স্বল্প সময়ে অধিক সেবা প্রদান করতে পারবেন। উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। অবকাঠামোযোগ্য ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। শিল্পায়ন ও শহরায়ন দেখা দিবে। কর্মের ক্ষেত্রে সহজ বিনিময় মাধ্যমও অর্থের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করা যাবে। কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে। শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির আবির্ভাব ঘটবে। মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার ঘটবে। এভাবে মালেক সাহেবের জীবনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পরিস্ফুট হবে।