Facebook Pixel

মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসটি ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ উপন্যাসটি এক করুণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবির্ভূত হয়েছিল উপন্যাসের নায়ক এক হৃদয়বিদারক মৃত্যুর শিকার হয়েছিলেন। এমনকি এ উপন্যাসের নায়কের শিশুপুত্র এক ফোঁটা পানির জন্য তীরবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন। আর এ উপন্যাসের নায়কের ভ্রাতুষ্পুত্র শত্রুপক্ষের তীরের আঘাতে বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। শত্রুপক্ষের ঘাতকেরা ঘৃণ্যতম নিষ্ঠুরতার জন্ম দিয়েছিল যা এ কালজয়ী উপন্যাসের স্রষ্টা মীর মশাররফ হোসেন তার শিল্পীর তুলির লেখনীতে তুলে ধরেছেন। তবে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পরবর্তীতে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব - সংঘাতের জন্ম দিয়েছিল। ক. কে সর্বপ্রথম মুসলিম নৌবাহিনী গঠন করেন ? খ. খলিফা আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন ? গ. উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যটির সাথে তুমি কি একমত ? সপক্ষে যুক্তি দাও ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুয়াবিয়া ( রা ) সর্বপ্রথম মুসলিম নৌবাহিনী গঠন করেন। খ. উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলা হয় । কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই ছিলেন তার পুত্র । খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র পর্যায়ক্রমে উমাইয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। তারা হলেন আল ওয়ালিদ ( ৭০৫ - ৭১৫ খ্রি .) সুলায়মান ( ৭১৫ - ৭১৭ খ্রি .), দ্বিতীয় ইয়াজিদ ( ৭২০ - ৭২৪ খ্রি .) এবং হিশাম ( ৭২৪ - ৭৪৩ খ্রি :) । তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে উমাইয়া খিলাফতকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌছে দেন। ঐতিহাসিক পি . কে . হিট্টি বলেন , “ আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। ” এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় । গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের কারবালার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত । ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হওয়া কারবালার যুদ্ধ গোটা বিশ্বের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা। মহানবি ( স )- এর প্রিয়তম দৌহিত্র ইমাম হুসাইনের সাথে পাপাসক্ত প্রথম ইয়াজিদের মধ্যে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে নিষ্ঠুর ইয়াজিদ খুবই করুণভাবে ইমাম হুসাইনকে অনেক স্বজনসহ হত্যা করে । উদ্দীপকে এ যুদ্ধের বর্ণনাই দেওয়া হয়েছে । উদ্দীপকে মীর মশাররফ হোসেনের রচিত “ বিষাদ সিন্ধু ' গ্রন্থে কারবালার নির্মম কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হওয়া এ যুদ্ধে ইমাম হুসাইনের বাহিনীতে মাত্র ৭২ জন যুদ্ধক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। অন্যদিকে , ইয়াজিদের বাহিনীতে সৈন্যসংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধে হুসাইনের ভ্রাতুষ্পুত্র কাশিম প্রথমে শাহাদাতবরণ করেন । পিপাসার্ত হুসাইন শিশুপুত্র আসগরকে নিয়ে ফোরাত নদীতে পানির জন্য অগ্রসর হলে আসগর তার কোলেই তীরবিদ্ধ হন। ফলে হুসাইন শেষবারের মতো শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইমাম হুসাইনের প্রচণ্ড বিক্রমে ইয়াজিদ বাহিনীর সেনারা ভীত হয়ে পালাতে থাকে। কিন্তু অকস্মাৎ একটি তীর হুসাইনের বক্ষ বিদীর্ণ করলে তিনি ধরাশায়ী হন। নিষ্ঠুর সীমার অর্ধমৃত হুসাইনের ঘাড়ের ওপর তরবারি চালিয়ে তার মস্তকটি বিচ্ছিন্ন করে। কারবালার প্রান্তরে বিয়োগান্তের এ ঘটনাটি শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয় বরং গোটা বিশ্বের ইতিহাসে একটি মর্মান্তিক ঘটনা । ঘ. কারবালা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন দ্বন্দ্ব - সংঘাতে এটির প্রভাব প্রকাশ পাওয়ায় উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে আমি একমত। ইসলামের ইতিহাসে কারবালার যুদ্ধ একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ইসলামের পরবর্তী ইতিহাসে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ যুদ্ধের কারণে পরবর্তীতে উমাইয়া - হাশেমি দ্বন্দ্ব , শিয়া মতবাদ , হারবার যুদ্ধ , মক্কা অবরোধ , পারস্য জাতীয়তাবোধসহ বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি হয় যা উদ্দীপকেও লক্ষণীয় । উদ্দীপকের শেষোক্ত বর্ণনায় বলা হয়েছে , এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পরবর্তীতে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব - সংঘাতের জন্ম দিয়েছিল। কারবালা যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কিত এ মন্তব্যটি যথার্থ। কারবালা যুদ্ধের ফলে হাশেমি ও উমাইয়া বিরোধ , তীব্র আকার ধারণ করে। কারবালার নির্মম হত্যাকাণ্ড শিয়া সম্প্রদায় সৃষ্টিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। আর শিয়ারা উমাইয়াবিরোধী মতবাদ গঠন করে বলে মুসলমান - মুসলমান সংঘাত সৃষ্টি হয়। এ যুদ্ধের ফলে ইয়াজিদ হারবার আক্রমণ করে মদিনাবাসীকে পরাজিত করে এবং পবিত্র ভূমিকে নগণ্যভাবে অপমান করে। তাছাড়া ইয়াজিদ মক্কা অবরোধ করে সেখানে কাবাগৃহের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস সাধন করে। এছাড়াও কারবালা যুদ্ধ পারস্য জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায় , যা পরবর্তীকালে উমাইয়াদের ধ্বংস সাধনে আব্বাসি বংশধরদের সহায়তা করে। পরিশেষে বলা যায় , কারবালার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। আর এ ঘটনা পরবর্তীকালে সংঘটিত বিভিন্ন দ্বন্দ্ব - সংঘাত সৃষ্টিতে মূখ্য কারণ হিসেবে ভূমিকা পালন করে ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসটি ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ উপন্যাসটি এক করুণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবির্ভূত হয়েছিল উপন্যাসের নায়ক এক হৃদয়বিদারক মৃত্যুর শিকার হয়েছিলেন। এমনকি এ উপন্যাসের নায়কের শিশুপুত্র এক ফোঁটা পানির জন্য তীরবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন। আর এ উপন্যাসের নায়কের ভ্রাতুষ্পুত্র শত্রুপক্ষের তীরের আঘাতে বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। শত্রুপক্ষের ঘাতকেরা ঘৃণ্যতম নিষ্ঠুরতার জন্ম দিয়েছিল যা এ কালজয়ী উপন্যাসের স্রষ্টা মীর মশাররফ হোসেন তার শিল্পীর তুলির লেখনীতে তুলে ধরেছেন। তবে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পরবর্তীতে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাতের জন্ম দিয়েছিল।

ক.

কে সর্বপ্রথম মুসলিম নৌবাহিনী গঠন করেন ?

খ.

খলিফা আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন ?

গ.

উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যটির সাথে তুমি কি একমত ? সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।