Facebook Pixel

মারজুক বললো, রফিক ও শফিকের গায়ের রং একই রকম, আকৃতিও সমান। রফিক ক্লাসে ভালো করেছে। সুতরাং বলা যায়, শফিকও ভালো করবে। একথা শুনে শাওন বলল, তোমার কথা ঠিক নয়। ক. বৈজ্ঞানিক আরোহ কাকে বলে? খ. অবৈধ সার্বিকীকরণ কখন হয়? গ. শাওন কেন অনুমানটির সমালোচনা করেছে? ঘ. উক্ত অনুমানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার সাহায্যে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। খ. যখন কার্যকারণ সম্বন্ধ নির্ণয় না করে কেবল অবাধ অভিজ্ঞতা ও সীমিত দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তখন অবৈধ সার্বিকীকরণ নামক অনুপপত্তি হয়। এটি মূলত অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে ঘটে। বস্তুত যখন কোনো ব্যতিক্রমহীন দৃষ্টান্ত দেখে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখনই এরূপ অনুপপত্তি ঘটে। গ. শাওন অনুমানটির সমালোচনা করেছে কারণ মারজুকের অনুমানটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত। যুক্তিবিদরা সম্ভাব্যতার মাত্রা অনুসারে সাদৃশ্যানুমানকে দুভাগে ভাগ করেছেন। যথা-সাধু, সাদৃশ্যানুমান এবং অসাধু সাদৃশ্যানুমান যে সাদৃশ্যানুমানে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত স্থাপন করা হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। অন্যদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বাহ্যিক, অমৌলিক, অপ্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বহীন সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উদ্দীপকে মারজুক রফিক ও শফিকের গায়ের রং এবং আকৃতির মতো বাহ্যিক ও গুরুত্বহীন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের পরীক্ষার ফলাফলের মিল অনুমান করেছে। বস্তুত গায়ের রং বা শারীরিক আকৃতির সাথে পড়াশোনায় ভালো করার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। এই ধরনের অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। এ কারণেই শাওন অসাধু সাদৃশ্যানুমানের মতো এই দুর্বল অনুমানের সমালোচনা করেছে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুমানটি হলো সাদৃশ্যানুমান, যার গুরুত্ব আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে অপরিসীম। সাদৃশ্যানুমান আমাদের নতুন নতুন জ্ঞান অন্বেষণে সাহায্য করে। বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কারের মূলে রয়েছে এই সাদৃশ্যানুমান। যেমন: পৃথিবী ও মঙ্গলের মধ্যে মাটি, পানি ও বায়ুর সাদৃশ্য দেখে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে মঙ্গলেও প্রাণ থাকতে পারে। উদ্দীপকের মারজুকের অনুমানটি অসাধু হলেও, সাদৃশ্যানুমান মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণার একটি প্রাথমিক ধাপ বা প্রকল্প হিসেবে কাজ করে। এটি আমাদের চিন্তার দিগন্ত প্রসারিত করে এবং সম্ভাব্য সত্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বস্তুত সাদৃশ্যানুমানের গুরুত্ব নির্ভর করে সাদৃশ্যের প্রকৃতি ও গভীরতার ওপর। যদিও এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, তবুও এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে একটি অপরিহার্য অনুমান প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত। পরিশেষে বলা যায়, সাদৃশ্যানুমান আরোহ অনুমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকরণ। এ প্রকরণে আরোহের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই উপস্থিত থাকে। তাই সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মারজুক বললো, রফিক ও শফিকের গায়ের রং একই রকম, আকৃতিও সমান। রফিক ক্লাসে ভালো করেছে। সুতরাং বলা যায়, শফিকও ভালো করবে। একথা শুনে শাওন বলল, তোমার কথা ঠিক নয়।

ক.

বৈজ্ঞানিক আরোহ কাকে বলে?

খ.

অবৈধ সার্বিকীকরণ কখন হয়?

গ.

শাওন কেন অনুমানটির সমালোচনা করেছে?

ঘ.

উক্ত অনুমানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।