Facebook Pixel

মেনেস প্রাচীন মিশরের শক্তিশালী ফারাও ছিলেন। তিনি মিশরের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উচ্ছেদ করে নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। রাজকোষ তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করতেন। তিনি প্রথম মিশরে নৌবাহিনীর পত্তন করে গ্রিকদের অনেক দীপাঞ্চল নিউ রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। মিশরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন তার ভগ্নিপতি। তার শাসনকাল ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ধর্ম-কর্মে একনিষ্ঠ হলেও তিনি ছিলেন কুটিল চরিত্রের অধিকারী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তিনি যেকোনো জঘন্য কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করতেন না। তার একমাত্র পুত্র ছিল পাপাসন্ত, অত্যাচারী, ইন্দ্রিয়পরায়ণ এবং অকর্মণ্য। মেনেস মৃত্যুকালে তার পাপাসন্ত ছেলেকে মিশরের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকার নিযুক্ত করেন। ক. উমাইয়া সাধুপুরুষ কে ছিলেন? খ. সুলাইমানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ফারাও মেনেসের সাথে তোমার পঠিত কোন উমাইয়া খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উক্ত খলিফার পুত্রের চরিত্র বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়া সাধুপুরুষ ছিলেন খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ। খ. ইরাকের বন্দিদের মুক্তিদানের জন্য খলিফা সুলায়মানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয়। উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কুফা ও বসরায় ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা)-এর অনুসারীদের বিদ্রোহ দমন করেন। এ সময় তিনি হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। খলিফা সুলায়মান ক্ষমতায় আরোহণের পর হাজ্জাজের বন্দিকৃত কয়েদিদের মুক্ত করে দেন। এ কারণে তাকে মিফতাহুল খায়র বা আশীর্বাদের চাবি বলা হয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ফারাও মেনেসের সাথে আমার পঠিত উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার মিল রয়েছে। উদ্দীপকের রাজা মেনেস মিশরের শক্তিশালী ফারাও ছিলেন। তিনি মিশরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উচ্ছেদ করে নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, রাজকোষকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করতেন। তিনি ধর্ম-কর্মে একনিষ্ঠ হলেও কুটিল রাজনৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে যেকোনো কাজ করতে দ্বিধা করতেন না। তার পুত্র ছিল পাপাসপ্ত, অত্যাচারী, ইন্দ্রিয়পরায়ণ ও অকর্মণ্য। রাজা মেনেসের সাথে মুয়াবিয়ার মিল রয়েছে। কেননা তিনি খলিফা হয়ে অনুরূপ কর্মকান্ডসম্পাদন করেন। ইমাম হাসানের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে মুয়াবিয়া ৬৬১ সালে খিলাফত গ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তীতে পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে খিলাফতের গণতান্ত্রিক ধারা পরিবর্তন করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। যার ফলে খলিফা নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়ে যায়। মুয়াবিয়া সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্বারে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার জন্য খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগের কুরআনকে সুন্নাহভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিগুলো পরিবর্তন করে সাসানীয় ও রোমান পদ্ধতি দ্বারা প্রভাবিত রাজতন্ত্রের কাঠামো তৈরি করেন। তিনি মজলিস-উশ-শূরা বাতিল করেন। উপদেষ্টার পরিবর্তে সরকারি কর্মচারী দ্বারা শাসনকার্য সম্পাদন করার ব্যবস্থা করেন। মজলিস- উশ-শূরার মাধ্যমে খলিফা নির্বাচন পদ্ধতি রহিত করে তিনি মনোনয়ন প্রথা চালু করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার বায়তুল মালকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেন। তিনি প্রথম নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা করে গ্রিক দ্বীপ জয় করেন। তার শাসনকাল নানা সংস্কারের জন্য গৌরবোজ্জ্বল হলেও তিনি কুটিল চরিত্রে অধিকারী হিসেবে আলী বংশীয়দের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত রাজা মেনেসের কর্মকান্ডের সাথে উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার কর্মকান্ড সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উক্ত খলিফা তথা মুয়াবিয়া (রা.)-এর পুত্র ছিল ইয়াজিদ। ইয়াজিদ পাপিষ্ঠ, মদ্যপায়ী, অত্যাচারী ও অকর্মণ্য ছিল। ইয়াজিদ ক্ষমতা গ্রহণ করে অনৈসলামিক কার্যক্রম শুরু করে। সে ব্যক্তিগতভাবে অনৈতিক ও অনৈসলামিক জীবনযাপন করত। সে ছিল দুশ্চরিত্র, লম্পট ও নীচু প্রকৃতির লোক। সে তার দরবারে বানরের মাথায় টুপি পড়িয়ে হাজির করত বলে প্রচলিত আছে। তার শাসনামলে তিন বছরে তিনটি জঘন্য ঘটনা সংঘটিত হয়। ৬৮০ সালে তিনি কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেন (রা.)-কে হত্যা করেন। পরবর্তী বছর মদিনা আক্রমণ করে অনেক সাহাবিকে হত্যা করে এবং পরবর্তী বছর মক্কা আক্রমণ করে কাবাঘর বিধ্বস্ত করে এবং অগ্নিসংযোগ করে। সে ব্যক্তিগত জীবনে পাপাসক্ত ও নিষ্ঠুর ছিল। সে ছিল মদ্যপায়ী এবং সর্বদা মদে আসক্ত থাকত। সে বিলাসী জীবনযাপন করত এবং মদ ও নারীতে ডুবে থাকত। পরিশেষে বলা যায় যে, ইয়াজিদ পাপাসক্ত, চরিত্রহীন ও মদ্যপায়ী ছিল। সে ব্যক্তিগত জীবনে কোনো ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলত না এবং সর্বদা পাপ কাজে নিয়োজিত থাকত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মেনেস প্রাচীন মিশরের শক্তিশালী ফারাও ছিলেন। তিনি মিশরের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উচ্ছেদ করে নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। রাজকোষ তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করতেন। তিনি প্রথম মিশরে নৌবাহিনীর পত্তন করে গ্রিকদের অনেক দীপাঞ্চল নিউ রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। মিশরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন তার ভগ্নিপতি। তার শাসনকাল ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ধর্ম-কর্মে একনিষ্ঠ হলেও তিনি ছিলেন কুটিল চরিত্রের অধিকারী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তিনি যেকোনো জঘন্য কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করতেন না। তার একমাত্র পুত্র ছিল পাপাসন্ত, অত্যাচারী, ইন্দ্রিয়পরায়ণ এবং অকর্মণ্য। মেনেস মৃত্যুকালে তার পাপাসন্ত ছেলেকে মিশরের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকার নিযুক্ত করেন।

ক.

উমাইয়া সাধুপুরুষ কে ছিলেন?

খ.

সুলাইমানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ফারাও মেনেসের সাথে তোমার পঠিত কোন উমাইয়া খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের আলোকে উক্ত খলিফার পুত্রের চরিত্র বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।