ক.
মুসলিম খিলাফত ব্যবস্থায় রাজতন্ত্র প্রবর্তন করেন উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়া ৷
খ.
কারবালার যুদ্ধে করুণভাবে মুসলমানদের হত্যা করা হয় এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নবি করিম (স)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইনের শিরশ্ছেদ করা হয়।
৬০ হিজরির ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইনের বাহিনী ও ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয়। ইয়াজিদ বাহিনী ফোরাত নদীর পাড় দখল করে ইমাম হুসাইনের বাহিনীকে পানি থেকে বঞ্চিত করে। ফলে পানির অভাবে ইমাম হুসাইনের ভ্রাতুষ্পুত্র কাসেম মৃত্যুবরণ করেন। পরে ইমাম হোসেন নিজপুত্র শিশু আসগরকে নিয়ে ফোরাত নদীতে পানির জন্য গেলে আসগর শরবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। পরে ইয়াজিদের নির্দেশে পাপিষ্ট, সীমার তরবারি দ্বারা ইমাম হুসাইনের শিরশ্ছেদ করে। নবি করিম (স)-এর দৌহিত্রের এ বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডকে মর্মান্তিক ঘটনা বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত তৈমুর লং-এর সাথে আমার পঠিত উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের রাজ্যবিস্তার নীতির সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে আল ওয়ালিদ পিতার মনোনয়ন অনুসারে দামেস্কের সিংহাসনে আরোহণ করেন। একজন পরাক্রমশালী সুদক্ষ শাসক হিসেবে তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি তার রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা তৈমুর লং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্যবিজেতাদের অন্যতম ছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর সীমান্ত সুরক্ষা, বৈদেশিক আক্রমণ প্রতিরোধ, ধন সম্পদ সংগ্রহ, স্বীয় সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন, বিদ্রোহ দমন, বহির্বিশ্বে ইসলাম ধর্ম প্রচার প্রভৃতি কারণে তিনি বহু অঞ্চল অধিকার করেন। তার রাষ্ট্রসীমা পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়। একইভাবে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদও ছিলেন উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ বিজেতা। ঐতিহাসিক পি কে. হিট্টি বলেন, “খলিফা ওমর ও ওসমানের আমলে সিরিয়া, ইরাক, পারস্য এবং মিসর বিজয়ের ফলে মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রথম পর্বের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর আবদুল মালিক এবং আল ওয়ালিদের অধীনে আবার মুসলিম সাম্রাজ্য বিজয়ের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়।' খলিফা আল ওয়ালিদ তার সুযোগ্য সেনাপতিদের সহায়তায় মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন থেকে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগানা থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন 'পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। সুতরাং বলা যায়, তৈমুর লং-এর সাথে খলিফা আল ওয়ালিদের রাজ্যবিস্তার নীতির সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ.
সামঞ্জস্যপূর্ণ উমাইয়া খলিফা অর্থাৎ খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের শাসনামলে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমানা অনেক দূর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয় ।
খলিফা আবদুল মালিকের পুত্র আল ওয়ালিদ পিতার মতো একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে বিজেতা হিসেবে তার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে পিতার বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করেন। ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহু স্থানে মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তৈমুর লং তার রাষ্ট্রসীমা পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন। খলিফা ওয়ালিদের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায় । তিনি শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এবং কোতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম, তারিক বিন জিয়াদ ও মুসা বিন নুসায়েরের মতো সুদক্ষ, রণনিপুণ সেনাপতিদের সহায়তা পেয়েছিলেন। তাদের অসাধারণ শৌর্যবীর্য এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে বহুস্থানে আরব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা ওয়ালিদের ভাই মাসলামা ও পুত্র আব্বাসের সহায়তায় কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরখন্দ দখল করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া মুসলিমদের অধীনে আনেন । এদিকে সিন্ধুর রাজা দাহিরের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাবের কারণে ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু দখল করেন। অন্যদিকে, সেনাপতি মুসার সাহায্যে ওয়ালিদ নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে রোমানদের কাছ থেকে মেজকা, মিনকা, ইভিকা প্রভৃতি দ্বীপ জয় করে মুসলিম শাসনভুক্ত করেন। তাছাড়া খলিফা ওয়ালিদ স্পেন জয় করার জন্য মুসাকে পাঠান। তিনি সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদকে সাথে নিয়ে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেন জয় করেন। এভাবে ওয়ালিদের সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পিরেনিজ পর্বতমালা এবং ভারতের সিন্ধু থেকে শুরু করে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে ।
পরিশেষে বলা যায়, খলিফা ওয়ালিদের সময়ই ইসলামি সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত হয়। এ কারণেই তিনি মুসলমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিজেতা হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন।