ক.
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে আরোহ (Induction) বলে।
খ.
আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকার কারণে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ প্রকৃত আরোহ নয় ।
যে যুক্তির সাহায্যে একটি বিশেষ ঘটনাকে প্রমাণ করা যায় সেই একই যুক্তির সাহায্যে সমজাতীয় অন্যান্য ঘটনাকেও প্রমাণ করা যায়- এ নীতির ওপর নির্ভর করে যে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলে। যুক্তিসাম্যমূলক আরোহকে স্বাভাবিক আরোহ বলে মনে হলেও এতে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে । কারণ এ পদ্ধতিটিতে বিশেষ কয়েকটি দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের পরিবর্তে একটি দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির সাহায্য নেওয়া হয় না। এসব কারণে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ প্রকৃত আরোহ নয় ।
গ.
উদ্দীপকে মিতু ও রিভুর বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে।
কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়াই কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বা প্রতিকূল দৃষ্টান্ত রহিত অভিজ্ঞতার আলোকে যে আরোহানুমান একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ (Unscientific Induction) বলে। যেমন—আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই স্বার্থপর। অতএব, সব মানুষ হয় স্বার্থপর। এখানে অনুকূল দৃষ্টান্তের আলোকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় মিতু রিতুকে বলে, গত বছর যেসব শিক্ষার্থী যুক্তিবিদ্যা বিষয় নিয়েছিল, তারা সবাই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেছে। রিতু বলে, তাহলে তো ভবিষ্যতে যারা যুক্তিবিদ্যা বিষয় নিবে তারা সবাই ভাল ফলাফল করবে। অর্থাৎ অনুকূল অভিজ্ঞতার আলোকে রিতু এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বস্তুত উভয়ের বক্তব্যে কার্যকারণ নীতি অনুপস্থিত। এ কারণে বলা যায়, মিতু ও রিতুর বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ.
উদ্দীপকের অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। নিচে এ আরোহের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তটি উদ্দেশ্য-সংযোজক-বিধেয় আকারের একটি যুক্তিবাক্য হয়। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত হিসেবে অবৈজ্ঞানিক আরোহ সর্বদা একটি যুক্তিবাক্য স্থাপন করে। যেমন— বিভিন্ন স্থানের বিশেষ বিশেষ কাকের রং দেখে আমরা অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করি যে, 'সব কাক হয় কালো।'
ব্রিটিশ যুক্তিবিদ মিল ও বেইনের মতে, প্রকৃত আরোহের জন্য সংকটাপন্ন অনির্দেশ যাত্রা (আরোহমূলক লম্ফ) হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আর অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো এরূপ ঝুঁকিপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
কারণ মাত্র কয়েকটি কাককে কালো রঙের দেখে আমরা এক বিশাল ব্যবধান অতিক্রম করে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সকল কাক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে, ‘সব কাক হয় কালো।' বস্তুত অবৈজ্ঞানিক আরোহে সর্বদা বাস্তব ঘটনার পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই পর্যবেক্ষণ মূলত অনুকূল দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হয় সম্ভাব্য। অবৈজ্ঞানিক আরোহে আমরা বিশেষ ঘটনা নিরীক্ষণের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। যেমন— আমরা বাস্তব যতগুলো কাক নিরীক্ষণ করেছি তার সবই কালো রঙের । এরূপ বাস্তবে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আমরা অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করি যে, 'সব কাক হয় কালো ।
পরিশেষে বলা যায়, অবৈজ্ঞানিক আরোহ কখনোই বৈজ্ঞানিক আরোহের মতো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তবে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত হিসেবে অবৈজ্ঞানিক আরোহের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।