Facebook Pixel

মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। পরবর্তীতে মোঙ্গলগণ মধ্য এশিয়া , বাগদাদ ও ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করে। ক. উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন ? খ. মুয়াবিয়াকে ( রা ) আরবের প্রথম রাজা বলা হয় কেন ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার পানি কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত খলিফার তিনজন সেনাপতির কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

উৎস: Board Exam Question RB 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়াদের শেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় মারওয়ান । খ. মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন করেন । তাই তাকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয় । উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা আমির মুয়াবিয়া খিলাফত লাভের সাথে সাথেই সাধারণতন্ত্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হযরত ইমাম হাসান ( রা )- এর সাথে স্বাক্ষরিত সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে বসরার শাসনকর্তা মুগিরার প্ররোচনায় তার জ্যেষ্ঠপুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের পথ সুগম করেন। এজন্য মুয়াবিয়াকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয় । গ. উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। খলিফা আল ওয়ালিদ একজন পরাক্রমশালী ও সুদক্ষ শাসক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার দশ বছরের ( ৭০৫ - ৭১৫খ্রি .) রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন থেকে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগান থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় । মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। অনুরূপভাবে খলিফা আল ওয়ালিদ হাজ্জাজ , কোতায়বা , তারিক ও মুসার মতো বিখ্যাত রণনিপুণ সেনাপতিদের অসাধারণ দক্ষতা এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে এশিয়া , ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বুখারা , সমরখন্দ , খোজান্দা , তাসখন্দ , ফারগানা দখল করে চীন সীমান্তে পৌঁছান এবং ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া অধিকার করতে সক্ষম হন। খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু অধিকার করেন । ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়েরের সহায়তায় সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন জয় করেন । তাই বলা যায় , চেঙ্গিস খান ও আল ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উক্ত খলিফার তিন জন সেনাপতি অর্থাৎ কুতায়বা বিন মুসলিম , মুহাম্মদ বিন কাসিম ও তারিক বিন জিয়াদ রাজ্য বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখেছেন । উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজেতাদের অন্যতম। তবে তিনি শুধু তার নিজস্ব বীরত্বে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি। তার দক্ষ সেনাপতিদের অক্লান্ত চেষ্টা ও অসাধারণ কৌশলের ফলে এশিয়া , ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । উদ্দীপকে রাজ্য বিস্তারে দক্ষ সেনাপতিদের অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে । উদ্দীপকে বর্ণিত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের সহায়তায় বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে তার সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক থেকে পিরেনিজ এবং ভারতের সিন্ধু থেকে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে । খলিফা আল ওয়ালিদকেও বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে তার বিখ্যাত তিনজন সেনাপতি সহযোগিতা করেন। তাদের মধ্যে কুতায়বা বিন মুসলিম অন্যতম। ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কুতায়বা বিন মুসলিমকে খোরাসানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলে মধ্য এশিয়ায় মুসলিম রাজ্য বিস্তারের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়। তিনি এক একে তুর্কিস্থান , ফারগানা ও বুখারা দখল করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়ায় উমাইয়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতের সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তা জয় করেন। আল ওয়ালিদের আরেকজন বিখ্যাত সেনাপতি হলেন তারিক বিন জিয়াদ । তিনি ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১২০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনে অভিযান পরিচালনা করেন এবং রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে , আল ওয়ালিদের রাজ্য সম্প্রসারণে তার সেনাপতিদের অবদান ছিল অপরিসীম ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2018)

মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। পরবর্তীতে মোঙ্গলগণ মধ্য এশিয়া, বাগদাদ ও ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করে।

ক.

উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?

খ.

মুয়াবিয়াকে (রা) আরবের প্রথম রাজা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার পানি কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উক্ত খলিফার তিনজন সেনাপতির কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।