ক.
৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টকোণাকৃতির স্মৃতিস্তম্ভটিই Dome of the Rock বা 'কুব্বাতুস সাখরা' নামে পরিচিত।
খ.
মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন করেন। তাই তাকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়।
উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া খিলাফত লাভের সাথে সাথেই সাধারণতন্ত্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হযরত ইমাম হাসান (রা)-এর সাথে স্বাক্ষরিত সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে বসরার শাসনকর্তা মুগিরার প্ররোচনায় তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের পথ সুগম করেন। এজন্য মুয়াবিয়াকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে ।
খলিফা আল ওয়ালিদ একজন পরাক্রমশালী ও সুদক্ষ শাসক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার দশ বছরের (৭০৫-৭১৫খ্রি.) রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন থেকে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগানা থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় ।
মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। অনুরূপভাবে খলিফা আল ওয়ালিদ হাজ্জাজ, কোতায়বা, তারিক ও মুসার মতো বিখ্যাত রণনিপুণ সেনাপতিদের অসাধারণ দক্ষতা এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বুখারা, সমরখন্দ, খোজান্দা, তাসখন্দ, ফারগানা দখল করে চীন সীমান্তে পৌছান এবং ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া অধিকার করতে সক্ষম হন। খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু অধিকার করেন। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়েরের সহায়তায় সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন জয় করেন । তাই বলা যায়, চেঙ্গিস খান ও আল ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ.
উক্ত খলিফা তথা প্রথম ওয়ালিদের তিন জন সেনাপতির দক্ষতায় উমাইয়া খিলাফতের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটেছিল।
উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজেতাদের অন্যতম। তবে তিনি শুধু তার নিজস্ব বীরত্বে এত বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি। দক্ষ সেনাপতিদের অক্লান্ত চেষ্টা ও অসাধারণ শৌর্যবীর্যের বদৌলতেই আল ওয়ালিদ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উদ্দীপকেও রাজ্য বিস্তারে দক্ষ সেনাপতিদের অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্ধর্ষ মোঙ্গল বিজেতা চেঙ্গিস খানের মতো খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রেও সেনাপতিদের অনুরূপ ভূমিকা লক্ষণীয়। প্রথম ওয়ালিদ তার শাসনামলে হাজ্জাজ, কোতায়বা, ইবনে কাসিম, তারিক ও মুসার মতো বিখ্যাত রণনিপুণ সেনাপতিদের সাহায্য লাভকরার ফলে সাম্রাজ্য বিস্তারে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছিলেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা ওয়ালিদের ভাই মাসলামা ও ছেলে আব্বাসের সহায়তায় কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরখন্দ দখল করেন। ৭১০-৭১৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কোতায়বা, খোজান্দা, তাসখন্দ ও ফারগানা দখল করে চীন সীমান্তে পৌঁছেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এদিকে ভারতের সিন্ধুর রাজা দাহিরের দম্ভের জবাবে ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু অধিকার করেন। অন্যদিকে ইফ্রিকিয়ার শাসনকর্তা মুসা নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে মেজকা, মিনকা, ইভিকা প্রভৃতি দ্বীপ রোমানদের কাছ থেকে জয় করে মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তার সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১২,০০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, যোগ্য সেনাপতিদের দক্ষতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই ওয়ালিদের সাম্রাজ্য একদিকে স্পেনের উত্তর আটলান্টিক উপকূল থেকে স্পেন-ফ্রান্স সীমান্তের পিরেনিজ পর্বতমালা ও অদূরের দ্বীপাঞ্চল এবং অন্যদিকে ভারতের সিন্ধু থেকে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।