Facebook Pixel

মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান নিজ রাজ্য মঙ্গোলিয়ায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর চীন, খাওয়ারিজম, রাশিয়া, তুর্কিস্তান, সিস্তান প্রভৃতি রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অঞ্চল বিজয় করে তিনি বিজিত অঞ্চলের ধন-সম্পদ দিয়ে পিতৃরাজ্য মঙ্গোলিয়াকে স্থাপত্যিক ও সামরিক সাজে সজ্জিত করেন। মঙ্গোলিয়ায় গড়ে তোলেন মনোরম অট্টালিকা। এছাড়াও তিনি বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পিকিং বিজয় করে সেখানে মোঙ্গলীয় শাসনরীতির প্রবর্তন করেন। তাছাড়া তিনি বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সামরিক ও প্রশাসনিক রীতিনীতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হতো। ক. গজনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? খ. সিন্ধু বিজয়ের ধর্মীয় ফলাফল ব্যাখ্যা কর। গ. চেঙ্গিস খানের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর। ঘ. মিল থাকলেও উভয় শাসকের উদ্দেশ্য ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত তুমি কি বক্তব্যটি সমর্থন কর? মতের পক্ষে যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. গজনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সবুক্তগিন। খ. বিজয়ের সূত্র ধরে পরবর্তীকালে যেসব আউলিয়া ও পির-দরবেশ এ দেশে ধর্ম প্রচারে ব্রতী হন তাদের মধ্যে দিল্লির হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া, আজমিরের খাজা মঈন উদ্দিন চিশ্তী, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি, বগুড়ার মহাস্থানগড়ের শাহ সুলতান বলখি, সিলেটের হযরত শাহজালাল, রংপুরের হযরত কারামত আলী প্রমুখের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। তাদের প্রভাবে সাম্য, মৈত্রী, সহিষ্ণুতা ও উদারতার প্রতীক ইসলাম ধর্মে দলে দলে নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায় দীক্ষিত হতে থাকে। গ. চেঙ্গিস খানের সাথে আমার পঠিত সুলতান মাহমুদের মিল বিদ্যমান। উদ্দীপকে দেখা যায়, মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান নিজ রাজ্য মঙ্গোলিয়ায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর চীন, খাওয়ারিজম, রাশিয়া, তুর্কিস্তান, সিস্তান প্রভৃতি রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অঞ্চল বিজয় করে তিনি বিজিত অঞ্চলের ধন-সম্পদ দিয়ে পিতৃরাজ্য মঙ্গোলিয়াকে স্থাপত্যিক ও সামরিক সাজে সজ্জিত করেন। যা সুলতান মাহমুদের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। চেঙ্গিস খানের মতো গজনির শাসক সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সতেরোবার ভারত অভিযান পরিচালনা করেন এবং এ সময় এখান থেকে প্রচুর ধনসম্পদ আফগানিস্তানে নিয়ে যান। এসব সম্পদ দ্বারা তিনি স্বীয় রাজ্যের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনয়নের কাজে ব্যয় করেন। তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য গজনিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি পাঠাগার ও একটি জাদুঘর স্থাপন করেন। তিনি বহু স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। 'শাহনামা' লেখার জন্য তিনি কবি ফেরদৌসকে ৬০,০০০ স্বর্ণ মুদ্রা প্রদান করেন। তার দরবারে কবি উনসুরি ও ফররুখী নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এছাড়া বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদ আল বিরুনী, ঐতিহাসিক উতবি, দার্শনিক আল ফারাবি ও বাইহাকি তার রাজ্যসভাকে অলংকৃত করতেন। তিনি অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, সুরম্য সৌধ, অট্টালিকা প্রভৃতি নির্মাণ করে রাজধানী গজনিকে সুসজ্জিত করেন এবং সর্বাপেক্ষা সুন্দর নগরীতে পরিণত করেন। জন মার্শালের মতে, স্থাপত্য ও ইসলামি শিল্পকলা বিস্তারে গজনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি শিল্পকলার বিকাশে গজনি কেবল মাধ্যমই ছিল না, বরং এটি সাসানীয়দের নিকট থেকে উপকরণ' সংগ্রহ করে সমৃদ্ধিশালী স্থাপত্য শিল্প গড়ে তুলেছিল। ঘ. হ্যাঁ। মিল থাকলেও উভয় শাসকের উদ্দেশ্য ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত। উদ্দীপকের মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান চীন, খাওয়ারিযম, রাশিয়া, প্রভৃতি রাজ্য জয় করে সেখানে স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পিকিং জয় করে সেখানে মোঙ্গলীয় শাসনরীতির প্রবর্তন করেন। তাছাড়া তিনি বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সামরিক, ও প্রশাসনিক রীতিনীতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হতো। যা সুলতান মাহমুদের উদ্দেশ্যের পরিপন্থি। কেননা সুলতান মাহমুদ বিভিন্ন রাজ্য জয় করে সেখানে নিজ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন নি। কোনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সামরিক প্রশাসনিক রীতি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ্য বিজয় করেনি। তাই চেঙ্গিস খানের সাথে তার উদ্দেশ্যে স্পষ্টত ভিন্ন ছিল। সুলতান মাহমুদ অর্থনৈতিক কারণ তথা ধন-সম্পদ লাভের আশায় ভারত অভিযান করেন। তাছাড়া তার অভিযানের পিছনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণও বিশেষভাবে দায়ী ছিল। সুলতান মাহমুদের ১৭ বার ভারত অভিযানের পিছনে তার উদ্দেশ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আব্বাসীয় খলিফা কাদির বিল্লাহ তাকে ইয়ামিন উদ দৌলা বা রাজ্যের ডানহাত উপাধি দিয়ে ভারত অভিযানের নির্দেশ দেন। ভিনসেন্ট এ স্মিথের মতে, সুলতান মাহমুদের সামরিক অভিযান গভীর ধর্মীয় আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়। তিনি ভারতের মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে পবিত্র ধর্মযুদ্ধ হিসেবে ভারত অভিযানের ব্রত গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদের মতে তার আজন্ম গুণাবলির সাথে ধর্মীয় প্রবণতার প্রবেশ ঘটে এবং তাকে ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতায় পরিণত করে। তাছাড়া হিন্দু রাজাদের শান্তিভঙ্গ, বিশ্বাসঘাতকতা, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, সুলতানের শত্রুদের আশ্রয়দান প্রভৃতি রাজনৈতিক কারণে ভারত অভিযান করে বিজয় লাভের পর শুধু পাঞ্জাবকে রাজ্যভুক্ত করেন। কেননা এ সময় মধ্য এশিয়া ও ভারতব্যাপী বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া তিনি বিশাল সেনাবাহিনীর ব্যয়ভার বহন, রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, শিল্পকলা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রচুর অর্থের প্রয়োজনে ভারত অভিযান করেন। পরিশেষে বলা যায়, সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু একটি উদ্দেশ্য নয়, একাধিক উদ্দেশ্য ছিল। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য প্রধান চেঙ্গিস খানের উদ্দেশ্যের সাথে ভিন্ন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান নিজ রাজ্য মঙ্গোলিয়ায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর চীন, খাওয়ারিজম, রাশিয়া, তুর্কিস্তান, সিস্তান প্রভৃতি রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অঞ্চল বিজয় করে তিনি বিজিত অঞ্চলের ধন-সম্পদ দিয়ে পিতৃরাজ্য মঙ্গোলিয়াকে স্থাপত্যিক ও সামরিক সাজে সজ্জিত করেন। মঙ্গোলিয়ায় গড়ে তোলেন মনোরম অট্টালিকা। এছাড়াও তিনি বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পিকিং বিজয় করে সেখানে মোঙ্গলীয় শাসনরীতির প্রবর্তন করেন। তাছাড়া তিনি বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সামরিক ও প্রশাসনিক রীতিনীতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হতো।

ক.

গজনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

খ.

সিন্ধু বিজয়ের ধর্মীয় ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

গ.

চেঙ্গিস খানের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

মিল থাকলেও উভয় শাসকের উদ্দেশ্য ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত তুমি কি বক্তব্যটি সমর্থন কর? মতের পক্ষে যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? গ. চিত্রে প্রদর্শিত মন্দ...

ক. সোমনাথ মন্দিরটি কোথায় অবস্থিত? খ. শাহনামা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে কোন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ২নং ...

ক. গজনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কেন ? গ. চিত্রে প্রদর্শিত ...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারী বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিয়ান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থসম্পদ লুন্ঠন করে তি...

মুহাম্মদ ঘুরী ছিলেন- i. উদ্যমী ii. দক্ষ সংগঠক iii. উচ্চাকাক্সক্ষী নিচের কোনটি সঠিক?

অজয়নগর ও বিজয়নগর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্রাম। শাহাদৎ সাহেব অজয়নগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, অন্যদিকে আমিন সাহেব...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্র বর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির...

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।