Facebook Pixel

মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ শাসক আওরঙ্গজেব একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে দুর্নীতি , অনৈসলামিক ও অনৈতিক কাজ নিষিদ্ধ করেন। তিনি সর্বজনীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি তার সময়ের প্রায় ৮০ প্রকার বেআইনি কর রহিত করেন। তিনি যাকাত , উশর ইত্যাদি মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক করেন এবং অমুসলিমদের জন্য জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন করেন। এছাড়া ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামি শিক্ষার প্রসারে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে তিনি দাক্ষিণাত্য অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। আর এ দাক্ষিণাত্য অভিযানেই অনেক মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং মন্দিরের ধন - সম্পদ লুট করা হয়। ক. কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয় ? খ. কাকে ‘ আশীর্বাদের চাবি ' বলা হয় ? কেন বলা হয় ? গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ — এর কর্মকাণ্ডের মিল কোথায় ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকটি অনেকাংশেই উক্ত শাসকের কর্মকাণ্ডের সমর্থন করে না — মতামত দাও ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুয়াবিয়াকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়। খ. ইরাকের বন্দিদের মুক্তিদানের জন্য খলিফা সুলায়মানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় । উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কুফা ও বসরায় ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি ( রা )- এর অনুসারীদের বিদ্রোহ দমন করেন। এ সময় তিনি হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। খলিফা সুলায়মান ক্ষমতায় আরোহণের পর হাজ্জাজের বন্দিকৃত কয়েদিদের মুক্ত করে দেন। এ কারণে তাকে মিফতাহুল খায়র বা আশীর্বাদের চাবি বলা হয় । গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ - এর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উমাইয়া শাসক থেকে চারিত্রিক গুণাবলি , ধর্ম পালন ও শাসনকার্যে একেবারেই পৃথক ছিলেন। তিনি ধার্মিক , দয়ালু , সুবিচারক , উদার , সরল ও শান্তি প্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি দুর্নীতিমুক্ত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করেন। জনগণের ওপর থেকে অতিরিক্ত কর রহিত করেন এবং ইসলাম ধর্ম প্রচারে বিশেষ অবদান রাখেন। উদ্দীপকের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ক্ষেত্রেও এ বিষয়গুলো লক্ষণীয়। উদ্দীপকের শাসক আওরঙ্গজেবের কর্মকাণ্ডের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। তিনিও তার পূর্ববর্তী খলিফাদের কলুষিত নীতি ত্যাগ করে দুর্নীতিমুক্ত , ন্যায়নিষ্ঠ , গোত্রপ্রীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত একটি সর্বজনীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করেন । তিনি মাওয়ালিদের ( অনারব মুসলিম ) ওপর থেকে জিজিয়া ও খারাজ প্রত্যাহার করেন। মুসলমানদেরকে তিনি যাকাত ও . উশর প্রদানের নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি ইসলামের প্রচারকল্পে ঘোষণা দেন যে , যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ ও জিজিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। সুতরাং বলা যায় যে , মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সাথে উমাইয়া খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজের দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা , রাজস্ব সংস্কার এবং ইসলাম প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের মিল বিদ্যমান । ঘ. উদ্দীপকটি অনেকাংশেই উক্ত শাসকের অর্থাৎ উমর বিন আবদুল আজিজের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না — উক্তিটি যথার্থ । উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে , মুঘল সম্রাট দাক্ষিণাত্যে সমর অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অস্ত্র হাতে নিয়েছেন । এই দাক্ষিণাত্য অভিযানের সময় অনেক মন্দির ধ্বংস এবং মন্দিরের ধন - সম্পদ লুট করা হয়। এই বিষয়গুলোর সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের কর্মকাণ্ডের বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। আবদুল আজিজ তার শাসনামলে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করেননি এবং কোনো মন্দিরও ধ্বংস করেননি খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ সাম্রাজ্যবাদী নীতি পরিহার করেন। এ কারণে তিনি সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য কোনো সামরিক অভিযান প্রেরণ করেননি। বরং তিনি পূর্বে পরিচালিত অভিযানসমূহ বন্ধ করে দেন। এ সময় মুসলিম সেনাবাহিনী কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছালেও তিনি সেখান থেকে অবরোধ তুলে নেন । তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতি পরিহার করে সাম্রাজ্যে সংহতি বিধানে মনোযোগ দেন। এছাড়া তিনি গোঁড়া , মুসলিম হলেও আওরঙ্গজেবের মতো কোনো মন্দির ধ্বংস করেননি। তিনি নিজেকে খলিফার চেয়ে মুসলমান ভাবতে বেশি পছন্দ করতেন। তিনি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিতদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিলে পারস্য , ইফরিকিয়া ( উত্তর আফ্রিকা ) মিসর প্রভৃতি অঞ্চলের বহুলোক ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। তিনি মুসলমানদের বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিলেও অমুসলিমদের প্রতি অবিচার করেননি। তার শাসনকালে নতুন মন্দির এবং গির্জা নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও পুরোনোগুলো ধ্বংস করা হয়নি। পরিশেষে বলা যায় যে , উদ্দীপকের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকলেও সাম্রাজ্যবাদী নীতি এবং অমুসলিম নীতির ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে কোনো মিল নেই ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ শাসক আওরঙ্গজেব একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে দুর্নীতি, অনৈসলামিক ও অনৈতিক কাজ নিষিদ্ধ করেন। তিনি সর্বজনীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি তার সময়ের প্রায় ৮০ প্রকার বেআইনি কর রহিত করেন। তিনি যাকাত, উশর ইত্যাদি মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক করেন এবং অমুসলিমদের জন্য জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন করেন। এছাড়া ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামি শিক্ষার প্রসারে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে তিনি দাক্ষিণাত্য অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। আর এ দাক্ষিণাত্য অভিযানেই অনেক মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং মন্দিরের ধন-সম্পদ লুট করা হয়।

ক.

কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয় ?

খ.

কাকে ‘আশীর্বাদের চাবি' বলা হয় ? কেন বলা হয় ?

গ.

উদ্দীপকের শাসকের সাথে খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ— এর কর্মকাণ্ডের মিল কোথায় ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

উদ্দীপকটি অনেকাংশেই উক্ত শাসকের কর্মকাণ্ডের সমর্থন করেনা—  মতামত দাও ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।