Facebook Pixel

মুঘল শাসনামলে প্রদেশ পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য 'ফৌজদার', কর আদায়ের জন্য 'আমল গুজার' এবং বিচার কাজের জন্য 'কাজী' নিয়োগ করা হতো। নিয়োগপ্রাপ্তরা স্বাধীনভাবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার এ ব্যবস্থা রহিত করে। ক. বাংলাদেশের আইনসভা কয় কক্ষবিশিষ্ট? খ. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা কী? গ. উদ্দীপকের শাসন পদ্ধতিটি আধুনিক সরকার পরিচালনার কোন নীতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার পরিচালনার এ নীতিটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়'- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ নাগরিক অধিকার, কর্তব্য ও মানবাধিকার

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট। খ. আইনসভা যখন দুটি পরিষদ নিয়ে গঠিত হয় তখন তাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার একটি নিম্নকক্ষ এবং অন্যটি উচ্চকক্ষ নামে অভিহিত। উভয় কক্ষের সদস্যসংখ্যা কত হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে নিম্নকক্ষের সদস্যরা সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন। আর উচ্চকক্ষের সদস্যরা বিভিন্নভাবে উচ্চকক্ষে আসেন। যেমন- ১. উত্তরাধিকারসূত্রে, ২. মনোনয়নের মাধ্যমে, ৩. প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এবং ৪. পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গ. উদ্দীপকে মুঘল শাসনামলে প্রদেশ পরিচালনার যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, তা আধুনিক সরকার পরিচালনার 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ' নীতিকে নির্দেশ করে। আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল ধারণা হলো সরকারের তিনটি বিভাগ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ সংবিধান প্রদত্ত নিজ নিজ দায়িত্ব ও ক্ষমতা অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূলকথা হলো সরকারের তিনটি বিভাগকে আলাদা করে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রদান করা। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। উদ্দীপকে মুঘল শাসনামলে ফৌজদার, আমল গুজার, এবং কাজই এই তিনটি পদের কর্মকর্তাদের আলাদা দায়িত্ব ও স্বাধীনতা দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের একটি প্রাথমিক রূপ দেখা যায়। এই কর্মকর্তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করতেন এবং একে অপরের কাজে। হস্তক্ষেপ করতেন না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শাসন পদ্ধতিটি আধুনিক সরকার পরিচালনার ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে নির্দেশ করে, যেখানে সরকারের তিনটি। বিভাগ নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করে না। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি আধুনিক সরকার পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও বাস্তবে এই নীতিটি পুরাপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভবও নয় কাম্যও নয়। আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের তিনটি বিভাগ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব ও ক্ষমতা থাকবে এবং তারা একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি আধুনিক সরকার পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও বাস্তবে এই নীতিটি পুরাপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ প্রথমত, সরকারের তিনটি বিভাগ আইন, শাসন ও বিচার একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ তা বাস্তবায়ন করে এবং বিচার বিভাগ সেই আইনের ব্যাখ্যা দেয়। তাই, তারা সম্পূর্ণভাবে আলাদা হয়ে কাজ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, বাস্তবে সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার কিছু মিশ্রণ দেখা যায়। যেমন- শাসন বিভাগ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আবার বিচার বিভাগ কিছু ক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে। তৃতীয়ত, সংবিধান সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার বিভাজন করলেও, কিছু ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন- শাসন বিভাগ আইন বিভাগের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। চতুর্থত, অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। ক্ষমতাসীন দল বিচার বিভাগ বা শাসন বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করে। পঞ্চমত, অনেক দেশে নির্বাহী বিভাগ, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর হাতে বেশি ক্ষমতা থাকে। তারা আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এছাড়া আধুনিককালে বিচার বিভাগ জনস্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে থাকে। জরুরি অবস্থায় সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। আধুনিক সরকার পরিচালনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। তাই বলা যায়, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি একটি আদর্শ ধারণা হলেও, বাস্তবে এটি পুরাপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মুঘল শাসনামলে প্রদেশ পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য 'ফৌজদার', কর আদায়ের জন্য 'আমল গুজার' এবং বিচার কাজের জন্য 'কাজী' নিয়োগ করা হতো। নিয়োগপ্রাপ্তরা স্বাধীনভাবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার এ ব্যবস্থা রহিত করে।

ক.

বাংলাদেশের আইনসভা কয় কক্ষবিশিষ্ট?

খ.

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা কী?

গ.

উদ্দীপকের শাসন পদ্ধতিটি আধুনিক সরকার পরিচালনার কোন নীতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার পরিচালনার এ নীতিটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়'- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Rights are the outer conditions essential for man's inners development.- উক্তিটি কার?

ক. নৈতিক কর্তব্য কী? খ. সমাজতান্ত্রিক সরকারের ২টি বৈশিষ্ট্য লেখ। গ. চিহ্নিত স্থানের বিষয়টির সাথে মৌলিক অধিকারের পার্থক্য...

ক. বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কত তারিখে পালিত হয়? খ. মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন? গ. ছকে (?) চিহ্নিত স্থানের অধিকার সম্পর্কে ব্য...

ক. নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র কী? খ. বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের ছকে'?' চিহ্নিত স্থানে কোন কোন অধিকারের...

ক. বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন পাশ হয় কত সালে? খ. মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে সম্পর্ক কীরূপ? গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত...

ক. কোন ধরনের সরকারব্যবস্থায় গুণের সংখ্যা প্রাধান্য পায়? খ. উত্তম সরকারের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ। গ. 'গ' চিহ্নিত স্থানের উপযু...

ক. বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন কখন প্রণীত হয়? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. ছকের প্রদত্ত (?) চিহ্নিত স্থানে কোন অধিকার...

ক. জাতি কী? খ. লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম ত্রুটি কেন? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' চিহ্নিত অধিকারের নাম কী? এর প্র...

ক. রাজনৈতিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ দাও । খ. অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? গ. উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত প্রথম ব...

ক. অধিকারের উৎস কোনটি? খ. মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়? গ. বক্সের ‘?' চিহ্নিত স্থানে কোন অধিকার হবে? নির্ণয় কর। নৈতিক ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।