Facebook Pixel

মুঘল আমলে ভারতবর্ষে ফারসি ভাষায় সরকারি কার্যাবলি পরিচালিত হতো। কিন্তু ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা দখলের পর ইংরেজি ভাষা চালু করে। ভারতে তারা ইংরেজি শিক্ষার স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে, অফিস আদালতসহ সবখানে ইংরেজি ভাষা চালু করা হয়। ফলে ভারতের মুসলমানদের একটি বৃহৎ অংশ ইংরেজি না জানার কারণে চাকুরি হারান। দিল্লীর বাদশাহ নাসির উদ্দিন সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করতেন। তিনি ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে সরকারি কোষাগার হতে কোনো অর্থ খরচ করতেন না। তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। ধর্মভীরু শাসক হলেও পরধর্মের প্রতি তিনি সহনশীল ছিলেন। তিনি অমুসলিমদের উপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে দিয়ে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেন। ক. হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফ কে ছিলেন? খ. সুলাইমানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কেন? গ. ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলির সাথে কোন উমাইয়া খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বাদশাহ নাসির উদ্দিনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ খলিফা কি উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ও প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনামলের ইরাক ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর অত্যন্ত প্রতাপশালী, কঠোর ও বিশ্বস্ত শাসনকর্তা। খ. উমাইয়া খলিফা সুলাইমান বিন আবদুল মালিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্ববর্তী শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কর্তৃক বিনা অপরাধে কারারুদ্ধ হাজার হাজার বন্দিকে মুক্তি দেন। তিনি হাজ্জাজের প্রবর্তিত অনেক কঠোর ও অমানবিক কর বাতিল করেন এবং জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি তাঁর মৃত্যুর আগে সুযোগ্য ও ধর্মপরায়ণ উমর বিন আবদুল আজিজকে পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করে মুসলিম উম্মাহর এক বিরাট কল্যাণ সাধন করেন। তাঁর এসব জনকল্যাণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক কাজের জন্যই ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'আশীর্বাদের চাবি' বা মিফতাহুল খায়ের (text Miftahul Khair) বলে অভিহিত করেছেন। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলির সাথে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের শাসন সংস্কার বা 'আরবিকরণ নীতির' সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। খলিফা আবদুল মালিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনকে জাতীয়করণ ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আরবি প্রবর্তন করেন। এর পূর্বে সিরিয়ায় গ্রিক, মিশরে কপটিক এবং পারস্যে পাহলভি বা ফারসি ভাষায় সরকারি কাজকর্ম পরিচালিত হতো। ফলে সরকারি দপ্তরগুলোতে অ-আরবদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। খলিফা আবদুল মালিক আরবিকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার ফলে অ-আরবরা সরকারি চাকরি হারায় এবং আরবরা প্রশাসনের সকল স্তরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, মুঘল আমলে ভারতবর্ষে ফারসি ভাষায় সরকারি কাজ চললেও ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতায় এসে ইংরেজি চালু করে। ফলে ইংরেজি না জানার কারণে অনেক ভারতীয় মুসলমান চাকুরি হারায়। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির এই ইংরেজি প্রবর্তনের ফলে মুসলমানদের যে অবস্থা হয়েছিল, খলিফা আবদুল মালিকের আরবি ভাষা প্রবর্তনের ফলেও তৎকালীন অ-আরব বা পারসিকদের ঠিক একই অবস্থা হয়েছিল। তাই বলা যায়, উভয়ের প্রশাসনিক ও ভাষাগত সংস্কার নীতি এক ও অভিন্ন। ঘ. উদ্দীপকের বাদশাহ নাসির উদ্দিনের সাথে উমাইয়া খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ (২য় উমর)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। তবে আমি মনে করি, তিনি উমাইয়া বংশের পতনের জন্য মোটেও দায়ী ছিলেন না। নিচে আমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো: উদ্দীপকে দেখা যায়, বাদশাহ নাসির উদ্দিন সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ নিজ প্রয়োজনে ব্যয় করতেন না এবং অমুসলিমদের ওপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে দিয়েছিলেন। খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজও ঠিক একইভাবে জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় জীবন পরিহার করে খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। তিনি নওমুসলিমদের ওপর থেকে বৈষম্যমূলক 'জিযিয়া' কর রহিত করেন এবং অমুসলিমদের সাথে অত্যন্ত উদার ও সহনশীল আচরণ করেন। উমাইয়া বংশের পতনের জন্য ঐতিহাসিক উইলিয়াম ম্যুরসহ কিছু পশ্চিমা সমালোচক খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজকে দায়ী করেন। তাদের মতে, তাঁর অত্যধিক উদারতা, সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা এবং কর মওকুফের ফলে উমাইয়াদের রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে এবং সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উমাইয়া বংশের পতনের জন্য উমর বিন আবদুল আজিজ দায়ী ছিলেন না, বরং দায়ী ছিল তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী খলিফাদের স্বৈরাচারী ও বৈষম্যমূলক নীতি। উমর (রা.) তাঁর স্বল্পকালীন (মাত্র আড়াই বছর) শাসনে ন্যায়বিচার, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে উমাইয়া শাসনের স্বৈরাচারী কলঙ্ক মোচন করে একে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পরবর্তী খলিফারা (যেমন- দ্বিতীয় ইয়াজিদ, হিশাম প্রমুখ) যদি তাঁর আদর্শ ধরে রাখতেন, তবে উমাইয়া বংশ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতো। মূলত পরবর্তী খলিফাদের চরম অযোগ্যতা, বিলাসব্যসন, আরবদের অভ্যন্তরীণ গোত্রকলহ এবং আব্বাসীয়দের সুসংগঠিত ও গুপ্ত ষড়যন্ত্রই ছিল উমাইয়াদের পতনের প্রধান কারণ। সুতরাং, উমর বিন আবদুল আজিজকে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বরং তিনি ছিলেন এই বংশের একমাত্র আদর্শ ও ন্যায়পরায়ণ খলিফা, যাঁর জনকল্যাণমুখী শাসনামল উমাইয়া ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

মুঘল আমলে ভারতবর্ষে ফারসি ভাষায় সরকারি কার্যাবলি পরিচালিত হতো। কিন্তু ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা দখলের পর ইংরেজি ভাষা চালু করে। ভারতে তারা ইংরেজি শিক্ষার স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে, অফিস আদালতসহ সবখানে ইংরেজি ভাষা চালু করা হয়। ফলে ভারতের মুসলমানদের একটি বৃহৎ অংশ ইংরেজি না জানার কারণে চাকুরি হারান। দিল্লীর বাদশাহ নাসির উদ্দিন সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করতেন। তিনি ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে সরকারি কোষাগার হতে কোনো অর্থ খরচ করতেন না। তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। ধর্মভীরু শাসক হলেও পরধর্মের প্রতি তিনি সহনশীল ছিলেন। তিনি অমুসলিমদের উপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে দিয়ে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেন।

ক.

হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফ কে ছিলেন?

খ.

সুলাইমানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কেন?

গ.

ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলির সাথে কোন উমাইয়া খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে বাদশাহ নাসির উদ্দিনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ খলিফা কি উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।