ক.
উমাইয়াদের প্রথম খলিফা আমির মুয়াবিয়া ।
খ.
৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টকোণাকৃতির স্মৃতিস্তম্ভটিই 'কুব্বাতুস সাখরা' বা (Dome of the Rock) নামে পরিচিত।
হজযাত্রীদের মক্কায় গমন থেকে বিরত রাখা এবং জেরুজালেমের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যই ‘কুব্বাতুস সাখরা' নির্মাণ করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের মক্কা ও মদিনায় আধিপত্য বিস্তার করে নিজেকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। তার বিদ্রোহ দমন, জেরুজালেমের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা এবং মক্কা-মদিনার অধিবাসীদের হতাশ করার জন্য খলিফা আবদুল মালিক এটি নির্মাণ করেন । মহানবি (স) যে পাথরের ওপর পদচিহ্ন রেখে মিরাজ গমন করেন সে পাথরকে কেন্দ্র করে ‘Dome of the Rock’ নির্মাণ করা হয়।
গ.
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে ।
খলিফা আল ওয়ালিদ একজন পরাক্রমশালী ও সুদক্ষ শাসক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার দশ বছরের (৭০৫-৭১৫খ্রি.) রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন থেকে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগানা থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় ।
মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। অনুরূপভাবে খলিফা আল ওয়ালিদ হাজ্জাজ, কোতায়বা, তারিক ও মুসার মতো বিখ্যাত রণনিপুণ সেনাপতিদের অসাধারণ দক্ষতা এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বুখারা, সমরখন্দ, খোজান্দা, তাসখন্দ, ফারগানা দখল করে চীন সীমান্তে পৌছান এবং ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া অধিকার করতে সক্ষম হন। খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু অধিকার করেন। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়েরের সহায়তায় সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন জয় করেন । তাই বলা যায়, চেঙ্গিস খান ও আল ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ.
উক্ত খলিফার তিন জন সেনাপতি অর্থাৎ কুতায়বা বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন কাসিম ও তারিক বিন জিয়াদ রাজ্য বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজেতাদের অন্যতম । তবে তিনি শুধু তার নিজস্ব বীরত্বে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি। তার দক্ষ সেনাপতিদের অক্লান্ত চেষ্টা ও অসাধারণ কৌশলের ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উদ্দীপকেও রাজ্য বিস্তারে দক্ষ সেনাপতিদের অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের সহায়তায় বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়েছিলেন। খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে তার সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক থেকে পিরেনিজ এবং ভারতের সিন্ধু থেকে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। খলিফা আল ওয়ালিদকেও বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে তার বিখ্যাত তিনজন সেনাপতি সহযোগিতা করেন । তাদের মধ্যে কুতায়বা বিন মুসলিম অন্যতম । ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে কুতায়বা বিন মুসলিমকে খোরাসানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলে মধ্য এশিয়ায় মুসলিম রাজ্য বিস্তারের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়। তিনি একে একে তুর্কিস্থান, ফারগানা ও বুখারা দখল করেন। ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়ায় উমাইয়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতের সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তা জয় করেন । আল ওয়ালিদের আরেকজন বিখ্যাত সেনাপতি হলেন তারিক বিন জিয়াদ। তিনি ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১২০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনে অভিযান পরিচালনা করেন এবং রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, আল ওয়ালিদের রাজ্য সম্প্রসারণে তার সেনাপতিদের অবদান ছিল অপরিসীম।