ক.
'BANBEIS' এর পূর্ণরূপ হলো, Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics. যার বাংলা পরিভাষা হলো বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো।
খ.
পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য সম্পর্কিত পরিসংখ্যান একটি সরকারি পরিসংখ্যান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো হলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পরিসংখ্যানিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি পরিসংখ্যান সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মূল সংস্থা। এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে। পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পরিবারের সন্তান সংখ্যা, জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম গ্রহণকারী দম্পতির সংখ্যা সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রয়োগ এবং পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য সম্পর্কিত তথ্য জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত হয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই বলা যায়, পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য সম্পর্কিত পরিসংখ্যান একটি সরকারি পরিসংখ্যান।
গ.
শিক্ষকের মন্তব্যে বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সীমাবদ্ধতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। নিম্নে পরিসংখ্যানের সীমাবদ্ধতাসমূহ উল্লেখ করা হলো:
১. ত্রুটিপূর্ণ সংগ্রহ পদ্ধতি: অনেক সময় অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিসংখ্যানিক জ্ঞানহীন অদক্ষ লোক দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য সংগ্রাহক নমুনাজ ও অনমুনাজ বিচ্যুতির কারণ এবং পরিমাণ সম্পর্কে উদাসীন থাকেন বিধায় ভুল পদ্ধতি ও পুরাতন নমুনা কাঠামো ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেন। এছাড়া অনেক তথ্য সংগ্রহকারী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরিসংখ্যানিক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও অলসতা ও অসততার জন্য অনেক ভুল তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। প্রশাসনিক প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রায়ই পরিসংখ্যানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক নিয়োগ করা হয় না; বরং অফিসের সাধারণ কর্মচারীদের দ্বারা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ফলে সংগৃহীত তথ্য ত্রুটিপূর্ণ হয়ে থাকে।
২. তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব: তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে অনেক সময় একই তথ্য সংগৃহীত ও প্রকাশিত হয়। এর ফলে শ্রম, সময় ও সম্পদের অপচয় হয়ে থাকে। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত একই তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট গরমিল পরিলক্ষিত হয়, যাতে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।
৩. রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব: নীতি নির্ধারণে ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য পরিসংখ্যান তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময় সংগৃহীত তথ্যের সংকলনে, বিশ্লেষণে ও সর্বোপরি মুদ্রণে বিলম্বের কারণে তথ্যের প্রকাশনা বিলম্বিত হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এ প্রকাশনার উপযোগিতা ও কার্যকারিতা হারিয়ে যায়। যেমন- শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, মূল্যমান ও সম্ভাব্য ব্যয় প্রায়ই শস্য চারা লাগানোর পরে প্রকাশিত হয়। ফলে রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হয় এবং উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
৪. উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব : আধকাংশ সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের জন্য অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকদের নিয়োগ করা হয়। কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ না নিয়েই এরা তথ্য সংগ্রহ করেন। যেমন- শুমারি জরিপে প্রাপ্ত তথ্য। বাংলাদেশে উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা না থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী চাকরিজীবীরাও প্রয়োজনীয় ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। পরিসংখ্যানিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ না থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।
৫. আধুনিক পরিসংখ্যানিক যন্ত্রপাতির অভাব: সংগৃহীত অশোধিত তথ্যকে বিশ্লেষণ উপযোগী করার জন্য তথ্যকে শ্রেণি তালিকা কিংবা গণসংখ্যা নিবেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। আধুনিক যুগে এসব কাজ কম্পিউটারসহ নানাবিধ যন্ত্রপাতির সাহায্যে নির্ণয় করা হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই এসব যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। ফলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয় না।। অর্থাৎ গৃহীত সিদ্ধান্ত অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়ে।
ঘ.
শিক্ষকের উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
১. দক্ষ ও পরিসংখ্যানপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদদের দ্বারা অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করতে হবে।
২. তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং বর্তমান নমুনা কাঠামো ব্যবহার করতে হবে।
৩. দক্ষ পরিসংখ্যানবিদদের সাহায্যে সঠিক নমুনায়ন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ, উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করতে হবে।
৪. তথ্য সংগ্রহের পূর্বে তথ্য সংগ্রহকারীদের যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ দান করতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক গবেষণা এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করে তথ্য উপস্থাপনার মান উন্নত করতে হবে।
৬. তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করতে হবে।
৭. দক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করে তথ্য উপস্থাপনার মান উন্নত করতে হবে।
৮. তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের উপস্থাপনা, বিশেষণ ও মুদ্রণে যে অযথা বিলম্ব হয় তা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যকর করতে হবে।
৯. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে অধিক দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে অধিক শক্তিশালী করতে হবে।
১০. তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশনার দায়িত্ব মূলত সরকারের হলেও পরিসংখ্যানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারের প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।