Facebook Pixel

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের পূর্ব নির্ধারিত ছিল। তাই প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে তারা 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির ভিত্তিতে বঙ্গপ্রদেশকে বিভক্ত করে। এতে করে পূর্বাঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের তীব্র বিরোধিতার কারণে পুনরায় তা বাতিল হয়ে যায়। ক. সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য কী ছিল? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার ফলাফল পূর্ব ও পশ্চিম উভয় প্রদেশের জনজীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল তা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question DiB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। (খ) কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় জনগণের অভাব-অভিযোগগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্রিটিশ সরকারের নিকট তুলে ধরা এবং শাসনব্যবস্থায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এছাড়া, বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি জানানো এবং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ভারতীয় জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে কংগ্রেসের লক্ষ্য পূর্ণ স্বরাজ বা স্বাধীনতার দাবিতে রূপান্তরিত হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির ভিত্তিতে বঙ্গপ্রদেশকে বিভক্ত করে। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের অজুহাতে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা, এই দুই ভাগে বিভক্ত করেন। উদ্দীপকের মতো এখানেও পূর্বাঞ্চলের জনগণ (মূলত মুসলমানরা) নতুন প্রদেশ গঠনের ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক উন্নয়নের আশায় খুশি হয়েছিল, কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলের জনগণ (মূলত উচ্চবর্ণের হিন্দুরা) একে জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী মনে করে তীব্র বিরোধিতা করেছিল। উদ্দীপকে যেমন পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের তীব্র বিরোধিতার কারণে বঙ্গপ্রদেশ পুনরায় বাতিল বা বিভক্ত হওয়ার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, তেমনি ১৯১১ সালে প্রবল স্বদেশি আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়েছিল। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাপ্রবাহ ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনার সাথে হুবহু মিলে যায়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বঙ্গভঙ্গ পূর্ব ও পশ্চিম উভয় প্রদেশের জনজীবনে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। পূর্ববঙ্গের জনজীবনে প্রভাব: পূর্ববঙ্গের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বঙ্গভঙ্গকে তাদের জন্য একটি আশীর্বাদ হিসেবে দেখেছিল। দীর্ঘকাল অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষ নতুন প্রদেশ গঠনের ফলে শিক্ষা, চাকরি এবং প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির স্বপ্ন দেখেছিল। ঢাকায় নতুন রাজধানী স্থাপিত হওয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগের জন্ম এই অঞ্চলের মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পশ্চিমবঙ্গের জনজীবনে প্রভাব: অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গকে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য হারানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছিল। তারা মনে করেছিল, এর ফলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে, যা ইতিহাসে 'স্বদেশি আন্দোলন' নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে শুরু করে। উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গ পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। একদিকে পূর্ববঙ্গে উন্নয়ন ও আত্মপরিচয়ের উন্মেষ ঘটে, অন্যদিকে পশ্চিমে তীব্র প্রতিবাদ ও বঞ্চনার বোধ তৈরি হয়। এই দ্বিমুখী প্রভাব হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং ভারতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথ প্রশস্ত করে, যা শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2025)

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের পূর্ব নির্ধারিত ছিল। তাই প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে তারা 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির ভিত্তিতে বঙ্গপ্রদেশকে বিভক্ত করে। এতে করে পূর্বাঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের তীব্র বিরোধিতার কারণে পুনরায় তা বাতিল হয়ে যায়।

ক. সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য কী ছিল?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার ফলাফল পূর্ব ও পশ্চিম উভয় প্রদেশের জনজীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল তা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।