Facebook Pixel

ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের দাবির মুখে এবং পর্যায়ক্রমে অধিকতর দায়িত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাস করা হয় । ক. কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে? খ. স্বদেশি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। ঘ. উক্ত আইনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সরকার কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছিল? আলোচনা করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question DiB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ভারত শাসন আইন ১৮৫৮-এর মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে। (খ) স্বদেশি আন্দোলন ছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিচালিত একটি গণজাগরণমূলক আন্দোলন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হলে এর প্রতিবাদে বাঙালিরা বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশি পণ্য ব্যবহারের যে শপথ গ্রহণ করে, তা-ই স্বদেশি আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলন কেবল অর্থনৈতিক বর্জন ছিল না, বরং এটি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অরবিন্দ ঘোষ এবং বাল গঙ্গাধর তিলকের মতো নেতারা এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করেছিলেন। (গ) উদ্দীপকে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন বা মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং ব্রিটিশ সরকারের দায়িত্বশীল সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে এই আইন পাস করা হয়। এই আইনের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো: ১. প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা: এই আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থাকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত, এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গভর্নরের নেতৃত্বাধীন নির্বাহী পরিষদের অধীনে সংরক্ষিত ছিল, আর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য বিষয়গুলো নির্বাচিত মন্ত্রীদের অধীনে হস্তান্তরিত করা হয়। ২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা হয়। উচ্চ কক্ষের নাম ছিল রাষ্ট্রীয় পরিষদ (Council of State) এবং নিম্ন কক্ষের নাম ছিল ব্যবস্থাপক সভা (Legislative Assembly)। ৩. হাইকমিশনারের পদ সৃষ্টি: ব্রিটেনে ভারতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখাশোনার জন্য একজন ভারতীয় হাইকমিশনারের পদ সৃষ্টি করা হয়। (ঘ) ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই আইনটি দায়িত্বশীল সরকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: প্রথমত, দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার ত্রুটি ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। প্রাদেশিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গভর্নরের হাতে সংরক্ষিত থাকায় নির্বাচিত মন্ত্রীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন না। ফলে প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত, গভর্নর জেনারেল এবং প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। তারা আইনসভার সিদ্ধান্ত নাকচ করার বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন, যা দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থার মূল চেতনার পরিপন্থী। তৃতীয়ত, ভারতে তখন শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ও সংসদীয় ঐতিহ্যের অভাব ছিল। মন্ত্রীরা আইনসভার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকার পরিবর্তে ব্যক্তিগতভাবে গভর্নরের কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন। এছাড়া সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণেও এই শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয়দের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল। এটি ভারতীয়দের কাছে অসম্পূর্ণ ও অসন্তোষজনক মনে হওয়ায় তারা একে প্রত্যাখ্যান করে। যদিও এটি সাংবিধানিক সংস্কারের পথে একটি ধাপ ছিল, কিন্তু কার্যত এটি দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2021)

ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের দাবির মুখে এবং পর্যায়ক্রমে অধিকতর দায়িত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাস করা হয় ।

ক. কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?

খ. স্বদেশি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

ঘ. উক্ত আইনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সরকার কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছিল? আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।