Facebook Pixel

ভারতবর্ষ শাসনের এক পর্যায়ে ব্রিটিশরা একটি আইন প্রণয়ন করে। উক্ত আইনে সর্বপ্রথম ভারতের প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। এ আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন ও দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়। ক. লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন? খ. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কেন হয়েছিল? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাথে সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত আইনে ভারতবর্ষে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হয়েছিল? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Test Exam Question CC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। (খ) ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ ছিল প্রশাসনিক সুবিধার মাধ্যমে বিশাল আয়তনের প্রদেশের শাসনকার্য সহজতর করা। অবিভক্ত বাংলার আয়তন ছিল প্রায় ২ লক্ষ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ, যা একজন গভর্নরের পক্ষে এককভাবে শাসন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। এছাড়া পূর্ব বাংলার জনগণের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার দাবি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং নতুন প্রদেশ গঠন, সবই ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মূল ভিত্তি। এই আইনে ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশ এবং দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত, এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের মাধ্যমে প্রাদেশিক সরকারের ওপর কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ কমিয়ে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করা হয়। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে এই আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো হুবহু মিলে যায়, তাই উদ্দীপকে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কথাই বলা হয়েছে। (ঘ) আমি মনে করি, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে তাত্ত্বিকভাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূল অর্থ হলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে প্রদেশের নিজস্ব বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। ১৯৩৫ সালের আইনে প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবে গভর্নর এবং গভর্নর জেনারেলের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। আইন অনুযায়ী, গভর্নর যেকোনো সময় প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারতেন এবং জরুরি প্রয়োজনে শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিতে পারতেন। এছাড়া শাসন সংক্রান্ত, অর্থসংক্রান্ত ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে গভর্নরের বিশেষ ক্ষমতা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে অনেকটা অর্থহীন করে তুলেছিল। পরিশেষে বলা যায়, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকারের নীতিনির্ধারক, গভর্নর জেনারেল এবং ভারত সচিবের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন পূর্ণতা পায়নি। তাই ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল মূলত নামমাত্র এবং অকার্যকর।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Chattogram College (2026)

ভারতবর্ষ শাসনের এক পর্যায়ে ব্রিটিশরা একটি আইন প্রণয়ন করে। উক্ত আইনে সর্বপ্রথম ভারতের প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। এ আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন ও দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়।

ক. লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?

খ. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কেন হয়েছিল?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাথে সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত আইনে ভারতবর্ষে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হয়েছিল? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।