Facebook Pixel

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকার কয়েক দফায় আইনের সংস্কার করে। কিন্তু আইনগুলো কখনোই ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বিশেষ করে ১৯৩৪ সালের পর আইনের সংস্কার করা হয় এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। ক. বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন কে? খ. ভাগ কর ও শাসন কর নীতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত আইনটির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর। ঘ. উক্ত আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Test Exam Question VNSC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন তিতুমীর। (খ) ভাগ কর ও শাসন কর নীতি বলতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে শাসনক্ষমতা সুসংহত করার কৌশলকে বোঝায়। ব্রিটিশ শাসকরা বিশেষ করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের শাসন দীর্ঘায়িত করার যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা-ই ইতিহাসে 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি নামে পরিচিত। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা। (গ) উদ্দীপকে নির্দেশিত আইনটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। এই আইনের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র: এ আইনে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহ এবং দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। ২. কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন: এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন ব্যবস্থায় দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত, এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নর জেনারেল এবং হস্তান্তরিত বিষয়গুলো দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ৩. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: এ আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদান। এর ফলে প্রাদেশিক সরকারগুলো তাদের নিজ নিজ বিষয়ে আইন প্রণয়ন ও শাসনের ক্ষেত্রে অধিকতর স্বাধীনতা লাভ করে। ৪. যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত: সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এ আইনে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা ছিল অত্যন্ত সীমিত ও ত্রুটিপূর্ণ। নিচে এর মূল্যায়ন করা হলো: প্রথমত, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে গভর্নরদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। গভর্নররা বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করতে পারতেন, যা স্বায়ত্তশাসনের মূল চেতনাকে ব্যাহত করে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে অর্থহীন করে তুলেছিল। প্রাদেশিক সরকারগুলো তাদের কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকলেও গভর্নর জেনারেল ও ব্রিটিশ সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত না। তৃতীয়ত, এ আইনে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে প্রাদেশিক সরকারগুলো জনকল্যাণমূলক কাজের চেয়ে সাম্প্রদায়িক স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ ক্ষমতার কারণে পূর্ণতা পায়নি। তাই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব কার্যকারিতা ছিল নামমাত্র এবং এটি ভারতবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Viqarunnisa Noon School & College, Dhaka (2026)

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকার কয়েক দফায় আইনের সংস্কার করে। কিন্তু আইনগুলো কখনোই ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বিশেষ করে ১৯৩৪ সালের পর আইনের সংস্কার করা হয় এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়।

ক. বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন কে?

খ. ভাগ কর ও শাসন কর নীতি বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত আইনটির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর।

ঘ. উক্ত আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।